শিল্পাঞ্চলে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি ছুড়ল পাঁচ যুবক, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম নগরের শিল্পাঞ্চলে আবারও প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পোশাক কারখানার সামনে পিস্তল উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়া এবং এরপর এক যুবদল নেতাকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে নগরের চান্দগাঁও বিসিক শিল্প এলাকায়। অভিযোগ, সশস্ত্র কয়েকজন যুবক একটি পোশাক কারখানার সামনে এসে অস্ত্রের মহড়া দেয়। এ সময় তারা পিস্তল উঁচিয়ে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে ফোন করে ওই যুবদল নেতাকে হত্যার হুমকি ও চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিল্প এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিল্পাঞ্চলে দিনদুপুরে গুলির মহড়া
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও বিসিক শিল্প এলাকার কালুরঘাট ভারী শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত ইউনুস্কো (এসটিএস) গ্রুপের সামনে পাঁচ যুবকের একটি দল অবস্থান নেয়। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দলটির একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। একপর্যায়ে তারা দুই রাউন্ডসহ কয়েক দফা ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩৭ সেকেন্ডের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গোলাপি টি-শার্ট পরা এক যুবক পোশাক কারখানার সামনে থেকে এগিয়ে এসে প্যান্টের পেছনের পকেট থেকে পিস্তল বের করেন। এরপর কারখানার দিকে তাক করে গুলি ছোড়েন। পরে সড়ক ধরে এগিয়ে যাওয়ার সময়ও তাঁকে পিস্তল উঁচিয়ে আবার গুলি করতে দেখা যায়। এ সময় তাঁর পাশ দিয়ে কয়েকজন পথচারীকেও হেঁটে যেতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, পাঁচ যুবক চাঁদার দাবিতে ওই প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করে। ভেতরে যাওয়ার আগেই একজনের হাতে থাকা পিস্তল থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।
যুবদল নেতাকে হুমকি
গুলির ঘটনার কিছুক্ষণ পর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে পরিচিত স্থানীয় এক যুবদল নেতার মুঠোফোনে কল করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, ফোনে তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘তোকে প্রথমে পায়ে গুলি করব, তোর কোন বাপ তোকে বাঁচায় দেখব।’
স্থানীয় লোকজনের দাবি, বিসিক শিল্প এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং কারখানা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। গুলির ঘটনার পর ওই যুবদল নেতাকে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও এরই অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, এ ঘটনায় দুবাইয়ে পলাতক বড় সাজ্জাদ গ্রুপের ক্যাডারদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। এর আগেও নগরের বিভিন্ন এলাকায় গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ও আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে বড় সাজ্জাদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পাঁচজন সন্ত্রাসী চাঁদার দাবিতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
কলরেকর্ডে প্রভাবশালীদের নাম
গত মাসের মাঝামাঝিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া একটি কলরেকর্ডে ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকার কোটেশন ভাগাভাগি, মালবাহী গাড়ি আটকে রাখা, পুলিশ দিয়ে গাড়ি ধরিয়ে দেওয়ার হুমকির বিষয় উঠে আসে। সেই কথোপকথনজুড়ে বারবার স্থানীয় সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর নামের আড়াল নেওয়া হয়। সেখানে উঠে আসে এমপির ভাগ্নে হাসান সাঈদের প্রসঙ্গও। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আজিম গ্রুপ, পেপসি ফ্যাক্টরি, ফোর এইচ গ্রুপসহ ছোট-বড় সব কোম্পানিতেই চাঁদাবাজি চলছে বেপরোয়াভাবে।
বাড়ছে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে চান্দগাঁও শিল্প এলাকায় একাধিকবার গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ওই সময় মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করেছিলেন, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা চালায়। এর আগে ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি চালানো হয়েছিল। তখন বাসার জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং দরজায় গুলির চিহ্ন পড়ে। পরে বাসাটিতে পুলিশি পাহারা বসানো হলেও ২৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।



















