৫৮ জেলায় ছড়িয়েছে ডেঙ্গু, বরিশালে বাড়ছে প্রকোপ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৪৬:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া যাচ্ছে বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত দেশে ৪ হাজার ৬৮০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মারা গেছেন ৭ জন।
এদিকে গত বছর একই সময়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৭ হাজার ৭৭ জন এবং মারা গিয়েছিলেন ৩০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, বর্তমানে যে ছয়টি জেলায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়নি সেগুলো হলো—ঢাকা বিভাগের শরীয়তপুর, সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার এবং রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়।
বরিশালে বেশি রোগী
এ বছর বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে (দুই সিটি করপোরেশনসহ) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬০১ জন। এরপর বরিশাল বিভাগে ১ হাজার ২৪৩ জন, চট্টগ্রামে ৯৫৬ জন, খুলনায় ৪৯০ জন, রাজশাহীতে ১৭০ জন, ময়মনসিংহে ১৩৮ জন এবং সিলেটে ৫৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সবচেয়ে কম রোগী পাওয়া গেছে রংপুর বিভাগে—২৯ জন।
বরিশাল বিভাগের ছয় জেলাতেই ডেঙ্গুর বিস্তার বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মশার বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ, ডেঙ্গু ভাইরাস এবং আক্রান্ত মানুষের উপস্থিতি—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করলেই রোগের বিস্তার বাড়ে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ ব্যবস্থাপনায় রাখা গেলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
জুনে বাড়ছে আক্রান্ত
চলতি বছরের শুরুতে ডেঙ্গু রোগী সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও গত কয়েক মাসে তা বাড়ছে। জানুয়ারিতে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন এবং মার্চে ৩৫৩ জন।
এরপর এপ্রিলে রোগী বেড়ে দাঁড়ায় ৬৪০ জনে, মে মাসে ৭১৪ জনে। আর জুনের প্রথম ১৯ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। সাধারণত জুলাই-আগস্ট মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
প্রতিরোধে প্রস্তুতি
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, উপজেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন এবং চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এক লাখ ব্যাগ স্যালাইন মজুত রাখা হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় নির্ধারিত শয্যা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু পরীক্ষায় ছাড় দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।




















