রোহিঙ্গা সংকটের ভার কতদিন? জাতিসংঘের প্রস্তাব নাকচ করল বাংলাদেশ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৩৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
একটি আশ্রয়ের খোঁজে সীমান্ত পেরিয়ে আসা লাখো মানুষের জীবন এখন আটকে আছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য প্রায় এক দশক ধরে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংকট এখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি—আশ্রয় দেওয়া মানুষগুলোর জন্য বাড়তি জায়গার প্রয়োজন, আর বাংলাদেশের সামনে বাড়ছে নানা চাপ।
এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের জন্য আরও জমি বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে দেশের সীমিত সম্পদ ও দীর্ঘমেয়াদি চাপের কথা বিবেচনায় নিয়ে সেই আবেদন নাকচ করেছে বাংলাদেশ সরকার।
বাংলাদেশের বক্তব্য, রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ মিয়ানমারে। তাই এর স্থায়ী সমাধানও হতে হবে মিয়ানমারেই। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেছেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী এই উপস্থিতি স্থানীয় জনগোষ্ঠী, অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে থাকা রোহিঙ্গাদের জীবন এখন এক ধরনের অপেক্ষার নাম। তারা অপেক্ষা করছে নিজ দেশে ফেরার, আর বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে একটি টেকসই সমাধানের।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গারাও নিজের দেশে ফিরে যেতে চায়। তবে সেই প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ। মিয়ানমারে এমন পরিবেশ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার মুখে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগে থেকেই থাকা রোহিঙ্গাসহ বর্তমানে দেশে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ।
এই সংকট এখন শুধু একটি দেশের নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক মানবিক চ্যালেঞ্জ। তবে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার—অস্থায়ী আশ্রয় নয়, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।




















