বেনজীরকে দেশে ফেরাতে দুবাইয়ে প্রত্যর্পণ আবেদন, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
দুবাইয়ে আটক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে মামলার নথিপত্রসহ প্রত্যর্পণ আবেদন সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২০ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদকে আটকের পরপরই ১৪৪ পৃষ্ঠার মামলার নথিপত্র আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেশটির সরকার দ্রুত তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দেশে বর্তমানে ছয়টি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে এবং বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন। এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএ)-এর মাধ্যমে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
পুলিশ বাহিনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন—এই নীতিতে সরকার কাজ করছে। দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতি কিংবা জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভালো কাজের জন্য পুরস্কৃত করা হবে।”
মোহাম্মদপুরের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এলাকাটি অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। তবে রাতারাতি পরিস্থিতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সরকারের আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ একটি গোষ্ঠী দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তাদের রাজনৈতিক দল নয়, বরং মাফিয়া চক্র হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর ১২ জুন দুবাইয়ে আটক হন বেনজীর আহমেদ। পরে বিষয়টি জাতীয় সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ প্রত্যর্পণ আবেদন সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়।
আইন অনুযায়ী, দেশটির আদালত বিষয়টি পর্যালোচনা করে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও রয়েছে।
এদিকে আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশে থাকা বেনজীর আহমেদের বিপুল সম্পদ বর্তমানে সরকারি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬২১ বিঘা জমি ও খামার, গুলশানের চারটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং গোপালগঞ্জের সাভানা ইকো রিসোর্ট।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে থাকা তার দুটি বাড়ি এবং বিভিন্ন দেশে থাকা অর্থ ও সম্পদের বিষয়েও তদন্ত চলছে। দুবাইয়ে তার বিনিয়োগ নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গেছে।



















