প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফর: শ্রমবাজার, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে জোর
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
সরকার গঠনের পর প্রথম সরকারি সফরে আগামীকাল রোববার মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দিনের মালয়েশিয়া সফর শেষে চার দিনের সফরে চীন যাবেন তিনি। দুই দেশের সফরে প্রায় দুই ডজন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি চলছে।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, চীন সফরে বাংলাদেশ নতুন করে বড় ধরনের বিনিয়োগ আহ্বান জানাবে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সইয়ের আশা করছে ঢাকা।
শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সফরে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
পররাষ্ট্রসচিব জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি খাত ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়েও চীনের সঙ্গে আলোচনা হবে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে ২১ ও ২২ জুন কুয়ালালামপুর সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে দেশটির শ্রমবাজারে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরিতে আলোচনা হবে।
বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির অন্যতম বড় বাজার মালয়েশিয়া। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় আট লাখ বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের পর ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার পুনরায় চালু, প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ, শিক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, হালাল খাদ্য এবং সুনীল অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এ সফরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই হতে পারে।
এদিকে ২২ জুন মালয়েশিয়া থেকে চীনের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৬টি সমঝোতা স্মারক ও তিনটি চুক্তি সইয়ের কথা রয়েছে।
চীন সফরে বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, জ্বালানি সহযোগিতা, মোংলা বন্দরের উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও তাজা কাঁঠাল রপ্তানি নিয়ে সমঝোতার বিষয়গুলো আলোচনায় থাকবে।
এ ছাড়া চীনের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা, মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও চীনা ভাষা সহযোগিতা বিষয়ে তিনটি চুক্তি সই হতে পারে।
কর্মকর্তারা বলছেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ও অবকাঠামো উন্নয়ন সহযোগী। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও অর্থায়নের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে।




















