ডিজিটাল জুয়া দমন, প্রশ্নফাঁসে কঠোর শাস্তি, বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়: ৪ আইনের খসড়া অনুমোদন
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৬:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে
দেশে অনলাইন-অফলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ, মাদক পাচার দমনে ডগ স্কোয়াড গঠন, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল হ্যাকিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি এবং বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জুয়া প্রতিরোধে নতুন আইন
‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় অনলাইন ও অফলাইন উভয় ধরনের জুয়ার বিরুদ্ধে আধুনিক ও কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, অনলাইন বাজি, ডিজিটাল সম্পদ, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ জুয়া-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
নতুন আইনে অপরাধের ধরন অনুযায়ী অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
মাদক দমনে ডগ স্কোয়াড
‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ মাদক শনাক্ত ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে ডগ স্কোয়াড গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া সাইবার মাধ্যমে পরিচালিত মাদক ব্যবসা ও পাচার রোধে বিশেষ ব্যবস্থা, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
প্রশ্নফাঁস ও রেজাল্ট হ্যাকিংয়ে কঠোর শাস্তি
‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন (অফেনসেস) (সংশোধন) অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে ডিজিটাল যুগের পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধ মোকাবিলায় নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকা হ্যাকিং কিংবা অবৈধভাবে পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে সংঘবদ্ধভাবে প্রশ্নফাঁস, নকল বা পরীক্ষা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়
‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়নহীন থাকা বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পকে পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসা প্রশাসন, আইন, কৃষি বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান এবং অন্যান্য বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মন্ত্রিসভা মনে করছে, এসব আইন বাস্তবায়িত হলে জুয়া ও প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম শক্তিশালী করা এবং উত্তরাঞ্চলে উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



















