ঋণখেলাপি ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ,পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১৯:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় সংসদে ঋণখেলাপি ইস্যু ঘিরে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য Rumin Farhana-এর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অধিবেশনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে তার বক্তব্যের একটি অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার (এক্সপাঞ্জ) দাবি তোলেন সরকারি দলের সদস্যরা, তবে বিরোধী দল এর বিরোধিতা করে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, দেশের ব্যাংক খাতে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। পুনঃতফসিলকৃত ঋণ এবং আদালতে বিচারাধীন ঋণের পরিমাণ যুক্ত করলে সমস্যাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ সময় তিনি “ঋণখেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে হচ্ছে” মন্তব্য করলে তা নিয়ে আপত্তি ওঠে।
পরে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য AKM Fazlul Haque Milon বক্তব্যের ওই অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো মন্তব্য করা উচিত নয়।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার Kaiser Kamal স্পষ্ট করেন যে, বিতর্কিত মন্তব্যটি রুমিন ফারহানা করেছেন।
পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও National Citizen Party-এর আহ্বায়ক Nahid Islam বক্তব্য দিয়ে বলেন, সংসদে ঋণখেলাপি সদস্য থাকার বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের কাছে এমন ধারণা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয় এবং এ ধরনের মন্তব্য বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed বলেন, জাতীয় সংসদের সব সদস্যকে সম্মান দেখানো সবার দায়িত্ব। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সংসদে কেউ আইনগতভাবে ঋণখেলাপি নন। কারণ নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ঋণখেলাপি প্রমাণিত হলে কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না।
মন্ত্রী আরও বলেন, অনেকের বিরুদ্ধে ব্যাংকঋণ সংক্রান্ত মামলা থাকলেও আদালতের মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি হওয়ার পর তারা বৈধভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তাই কাউকে ঋণখেলাপি আখ্যা দেওয়া মানহানিকর এবং বক্তব্যটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া উচিত।
এর জবাবে রুমিন ফারহানা Transparency International Bangladesh-এর একটি তথ্য তুলে ধরে বলেন, সংসদ সদস্যদের কাছে দেশের ব্যাংকগুলোর পাওনা প্রায় ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ঋণ পুনঃতফসিল ও আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে প্রার্থিতা বৈধ করার নানা প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
বিতর্কের একপর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার জানান, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে বক্তব্যটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।



















