ঢাকা ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিবির নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল রাজধানী ঈদের ছুটিতে দুই বনে গাছ উধাও, কাটা হলো শত শত বৃক্ষ সিলেটে ডিসি সারওয়ারের আলোচিত অধ্যায়: ‘পাথরকাণ্ডে’ শুরু, ‘ডেগকাণ্ডে’ শেষ স্মৃতিবিজড়িত ১২০০ বছরের পুরনো ‘মেজর ওক’ গাছের মৃত্যু সৌদিকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে স্পেনের প্রথম জয়, ঝলক দেখালেন ইয়ামাল শিল্পগোষ্ঠীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ এমপি-পুত্র খায়রুলের বিরুদ্ধে খুলনায় ১৮ দিন ধরে খাবার খাচ্ছে না খানজাহান আলীর মাজারের কুমির চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ: এমপি-পুত্র সজীবকে যুবদল থেকে বহিষ্কার কোনো প্রভুত্ব নয়, সমবন্ধুত্বের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে: ভূমিমন্ত্রী মিনু সুন্দরবনে ফাঁদে আহত বাঘিনী সুস্থ, ফিরছে তার আবাসস্থলে

প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা ‘এক হাতের দেবতা’

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফুটবল ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপের কথা উঠলেই উরুগুয়ের শিরোপা জয়ের গল্প সামনে আসে। কিন্তু সেই জয়ের আড়ালে রয়েছে এক অনন্য নায়কের কাহিনি—হেক্টর কাস্ত্রো, যিনি ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনায় ডান হাত হারিয়েও হয়ে উঠেছিলেন বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি।

উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিওতে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া কাস্ত্রোর শৈশব কেটেছে কঠোর সংগ্রামে। মাত্র ১০ বছর বয়সে কাজ শুরু করেন কাঠ কাটার শ্রমিক হিসেবে। এরপর ১৩ বছর বয়সে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বৈদ্যুতিক করাতের আঘাতে কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাঁর ডান হাত। সেই ঘটনাই বদলে দেয় তাঁর জীবন, ভেঙে যায় গোলরক্ষক হওয়ার স্বপ্ন।

তবে থেমে যাননি কাস্ত্রো। এক হাত নিয়েই ফুটবলে নিজেকে গড়ে তোলেন তিনি। উরুগুয়ের ফুটবল মহলে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘এল ডিভিনো মানকো’ বা ‘এক হাতের দেবতা’ নামে। অসাধারণ প্রতিভা ও লড়াইয়ের মানসিকতায় তিনি হয়ে ওঠেন দেশের অন্যতম সেরা ফুটবলার।

ক্লাব ক্যারিয়ারে অ্যাটলেটিকো লিটো ও পরে নাসিওনালে খেলেন কাস্ত্রো। ১৯২৩ সালে নাসিওনালে যোগ দিয়েই লিগ শিরোপা জেতেন। একই বছর উরুগুয়ে জাতীয় দলে অভিষেক হয় তাঁর। ১৯২৮ সালের অলিম্পিকে তিনি ছিলেন স্বর্ণজয়ী দলের সদস্য।

১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপে উরুগুয়েকে নেতৃত্ব দেন এই কাস্ত্রো। টুর্নামেন্টে পেরুর বিপক্ষে ম্যাচে দেশের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেন তিনি। এরপর সেমিফাইনালে না খেললেও ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আবারও গোল করেন এই এক হাতের ফুটবলার, যা উরুগুয়ের শিরোপা জয়কে আরও স্মরণীয় করে তোলে।

মোট ১৮১ ম্যাচে ১০৭ গোল করা কাস্ত্রো ছিলেন তাঁর সময়ের অন্যতম সফল ফরোয়ার্ড। খেলোয়াড় জীবনের পাশাপাশি কোচ হিসেবেও সফল ছিলেন তিনি, নাসিওনালকে একাধিক লিগ শিরোপা এনে দেন।

১৯৬০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করেন এই কিংবদন্তি। তবে ফুটবল ইতিহাসে হেক্টর কাস্ত্রো আজও রয়ে গেছেন সংগ্রাম, সাহস আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য প্রতীক হিসেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা ‘এক হাতের দেবতা’

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ফুটবল ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপের কথা উঠলেই উরুগুয়ের শিরোপা জয়ের গল্প সামনে আসে। কিন্তু সেই জয়ের আড়ালে রয়েছে এক অনন্য নায়কের কাহিনি—হেক্টর কাস্ত্রো, যিনি ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনায় ডান হাত হারিয়েও হয়ে উঠেছিলেন বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি।

উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিওতে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া কাস্ত্রোর শৈশব কেটেছে কঠোর সংগ্রামে। মাত্র ১০ বছর বয়সে কাজ শুরু করেন কাঠ কাটার শ্রমিক হিসেবে। এরপর ১৩ বছর বয়সে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বৈদ্যুতিক করাতের আঘাতে কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাঁর ডান হাত। সেই ঘটনাই বদলে দেয় তাঁর জীবন, ভেঙে যায় গোলরক্ষক হওয়ার স্বপ্ন।

তবে থেমে যাননি কাস্ত্রো। এক হাত নিয়েই ফুটবলে নিজেকে গড়ে তোলেন তিনি। উরুগুয়ের ফুটবল মহলে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘এল ডিভিনো মানকো’ বা ‘এক হাতের দেবতা’ নামে। অসাধারণ প্রতিভা ও লড়াইয়ের মানসিকতায় তিনি হয়ে ওঠেন দেশের অন্যতম সেরা ফুটবলার।

ক্লাব ক্যারিয়ারে অ্যাটলেটিকো লিটো ও পরে নাসিওনালে খেলেন কাস্ত্রো। ১৯২৩ সালে নাসিওনালে যোগ দিয়েই লিগ শিরোপা জেতেন। একই বছর উরুগুয়ে জাতীয় দলে অভিষেক হয় তাঁর। ১৯২৮ সালের অলিম্পিকে তিনি ছিলেন স্বর্ণজয়ী দলের সদস্য।

১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপে উরুগুয়েকে নেতৃত্ব দেন এই কাস্ত্রো। টুর্নামেন্টে পেরুর বিপক্ষে ম্যাচে দেশের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেন তিনি। এরপর সেমিফাইনালে না খেললেও ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আবারও গোল করেন এই এক হাতের ফুটবলার, যা উরুগুয়ের শিরোপা জয়কে আরও স্মরণীয় করে তোলে।

মোট ১৮১ ম্যাচে ১০৭ গোল করা কাস্ত্রো ছিলেন তাঁর সময়ের অন্যতম সফল ফরোয়ার্ড। খেলোয়াড় জীবনের পাশাপাশি কোচ হিসেবেও সফল ছিলেন তিনি, নাসিওনালকে একাধিক লিগ শিরোপা এনে দেন।

১৯৬০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করেন এই কিংবদন্তি। তবে ফুটবল ইতিহাসে হেক্টর কাস্ত্রো আজও রয়ে গেছেন সংগ্রাম, সাহস আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য প্রতীক হিসেবে।