চার স্কুলছাত্রী নিখোঁজ, সন্ধান না মেলায় বাড়ছে উৎকণ্ঠা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বের হওয়া চার ছাত্রী এখনো বাড়ি ফেরেনি। ৩২ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবারগুলোর মধ্যে নেমে এসেছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের বয়স ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে তিনজন নাজিরপুর ছোট ডালিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং অপরজন স্থানীয় আরেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে প্রতিদিনের মতো তারা নিজ নিজ বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও কেউ বাড়ি না ফেরায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। বিদ্যালয়, আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় খোঁজ করেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ এক শিক্ষার্থীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়ে স্কুলে গেছে বলেই বের হয়েছিল… এখন ৩২ ঘণ্টা ধরে কোনো খোঁজ নাই। আমরা পাগল প্রায়।”
অন্যদিকে এক শিক্ষার্থীর বাবা জানান, সোমবার বিকেলে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন পেয়ে তিনি মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে সক্ষম হন। মেয়েটি জানায়, তারা কেরানীগঞ্জ এলাকায় আছে এবং তাদের সঙ্গে একজন নারী রয়েছেন। এমনকি মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে বাড়ি ফেরার কথাও বলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর রোববার গভীর রাতে বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন স্বজনরা।
নাজিরপুর ছোট ডালিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থী সেদিন স্কুলে উপস্থিত ছিল না। বিষয়টি তারা পরে অভিভাবকদের কাছ থেকে জানতে পারেন।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই গোলাম মোস্তফা বলেন, “নিখোঁজদের কারও মোবাইল ফোন নেই। তবে যেই নম্বর থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে, সেটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও লঞ্চঘাটসহ সম্ভাব্য স্থানে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।”
বাউফল থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একাধিক টিম কাজ করছে, যাতে দ্রুত শিক্ষার্থীদের সন্ধান পাওয়া যায়।
এদিকে ৩২ ঘণ্টার নিখোঁজ থাকার ঘটনায় গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। প্রতিটি পরিবারই এখন অপেক্ষায়—কোনো এক ফোনে, কোনো এক খবরে যদি ফিরে আসে চারটি কিশোরী মুখ।




















