স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে কাঠগড়ায় খুবি শিক্ষক আবু সাঈদ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খানের বিরুদ্ধে মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী মোছা. মাহবুবা নাসরীন কেয়া। প্রতিকার চেয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ডাকযোগে পাঠানো আবেদনপত্রের পর প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় বিষয়টি তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে দেনমোহর, খোরপোষ ও সন্তানদের ভরণপোষণের দাবিতে ঢাকার আদালতে মামলা করেছেন কেয়া। আগামী ২৯ এপ্রিল মামলার শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে কেয়া উল্লেখ করেন, ২০০৪ সালে ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর দায়িত্বহীনতা, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং বিভিন্ন অনৈতিক আচরণের কারণে পারিবারিক জীবন অশান্ত হয়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে এই নির্যাতন আরও তীব্র আকার ধারণ করে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, সংসার পরিচালনা, স্বামীর উচ্চশিক্ষা, বিদেশ সফর ও বিভিন্ন খাতে তিনি নিজের উপার্জন থেকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। এমনকি ঋণ নিয়ে স্বামীর ব্যয় বহন করেছেন। বিভিন্ন সময়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দেওয়ার দাবিও করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সন্তানদের পড়াশোনা ও চিকিৎসার খরচ বহনেও অভিযুক্ত শিক্ষক কোনো দায়িত্ব নেননি। বরং স্ত্রী ও সন্তানদের মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে কেয়া একসময় আলাদা থাকতে শুরু করেন এবং পরে সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যান। তিনি অভিযোগ করেন, এরপরও স্বামী তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করছেন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ড. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খান। তিনি বলেন, তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে Khulna University–এর উপাচার্য Md. Rezaul Karim অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি পারিবারিক হওয়ায় উভয় পক্ষকে পারিবারিকভাবে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে দেনমোহর ও ভরণপোষণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
























