ঢাকা ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পাহাড়-সমতল একসাথে এগোবে: পার্বত্য মন্ত্রী

আহমদ বিলাল খান
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পার্বত্য চট্টগ্রামকে দেশের মূলধারার উন্নয়নের সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে পাহাড়ও সমতলের মতো সমভাবে অগ্রসর হবে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে রাঙ্গামাটি চিং হ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে মারমা সংস্কৃতিক সংস্থা (মাসস) আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসব (সাংগ্রাই) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী পাহাড়ের মানুষের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক এবং তাদের উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি সকলকে নিজস্ব শিকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধারণ করে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’এই চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানান।

মারমা সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করে দীপেন দেওয়ান বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক গোষ্ঠী তাদের সংস্কৃতি হারানোর ঝুঁকিতে থাকলেও মারমারা তাদের ঐতিহ্য সংরক্ষণে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতি রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সাংগ্রাই উৎসব এখন শুধু মারমাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি পাহাড়ের সকল সম্প্রদায়ের সম্প্রীতির মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

অনুষ্ঠানে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রদত্ত এই পরিচয় আমাদের বৈষম্যের ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, পাহাড়ের এই সম্প্রীতির পরিবেশ বাংলাদেশকে ‘রেইনবো নেশন’ বা রংধনু জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

উৎসবমুখর পরিবেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটিতে উদযাপিত হয় মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী মৈত্রিময় পানি বর্ষণ উৎসব সাংগ্রাই। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন। পুরনো বছরের দুঃখ-গ্লানি মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি এই উৎসব সামাজিক বন্ধন জোরদারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উদ্বোধনের শুরুতে ফিতা কেটে ও পানি ছিটিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। এ সময় জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
.

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পাহাড়-সমতল একসাথে এগোবে: পার্বত্য মন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামকে দেশের মূলধারার উন্নয়নের সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে পাহাড়ও সমতলের মতো সমভাবে অগ্রসর হবে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে রাঙ্গামাটি চিং হ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে মারমা সংস্কৃতিক সংস্থা (মাসস) আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসব (সাংগ্রাই) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী পাহাড়ের মানুষের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক এবং তাদের উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি সকলকে নিজস্ব শিকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধারণ করে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’এই চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানান।

মারমা সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করে দীপেন দেওয়ান বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক গোষ্ঠী তাদের সংস্কৃতি হারানোর ঝুঁকিতে থাকলেও মারমারা তাদের ঐতিহ্য সংরক্ষণে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতি রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সাংগ্রাই উৎসব এখন শুধু মারমাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি পাহাড়ের সকল সম্প্রদায়ের সম্প্রীতির মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

অনুষ্ঠানে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রদত্ত এই পরিচয় আমাদের বৈষম্যের ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, পাহাড়ের এই সম্প্রীতির পরিবেশ বাংলাদেশকে ‘রেইনবো নেশন’ বা রংধনু জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

উৎসবমুখর পরিবেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটিতে উদযাপিত হয় মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী মৈত্রিময় পানি বর্ষণ উৎসব সাংগ্রাই। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন। পুরনো বছরের দুঃখ-গ্লানি মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি এই উৎসব সামাজিক বন্ধন জোরদারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উদ্বোধনের শুরুতে ফিতা কেটে ও পানি ছিটিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। এ সময় জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
.