ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাঁচ মিনিটের দেখা, ছয় মাসের জামিন

জেলের ফটকে থেমে থাকা এক জীবনের গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২৮:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্ত্রী আর ৯ মাসের শিশুসন্তান—দুজনকেই হারিয়েছেন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। সেই শোক বুকে নিয়েই অবশেষে ছয় মাসের জামিন পেলেন তিনি। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) হাইকোর্ট মানবিক বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত দেন।

পাঁচ বছর আগে স্বর্ণালীর সঙ্গে সাদ্দামের সংসার শুরু হয়েছিল। স্বপ্ন ছিল ছোট্ট একটি পরিবার, সন্তানকে ঘিরে নতুন জীবন। কিন্তু রাজনৈতিক মামলায় সাদ্দামের গ্রেপ্তার আর কারাবাসে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়েন স্বর্ণালী। স্বামীকে মুক্ত করতে চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন তিনি।

গত শুক্রবার বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে নিজ ঘর থেকেই উদ্ধার হয় স্বর্ণালী ও তাদের ৯ মাসের শিশু নাজিমের মরদেহ। মুহূর্তেই নিঃশেষ হয়ে যায় একটি সংসার।

পরদিন শনিবার সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য স্ত্রী ও সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ পান সাদ্দাম। না কোলে নেওয়ার সুযোগ, না শেষ বিদায়ের সময়—পাঁচ মিনিটেই শেষ হয়ে যায় সব। এরপর আবারও ফিরতে হয় কারাগারের ভেতরে।

পরিবারের অভিযোগ, প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করলেও তা মঞ্জুর হয়নি। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, লিখিত কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি। তবে মৌখিক অনুরোধে দ্রুত মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।

শেষ পর্যন্ত আদালতের মানবিক বিবেচনায় ছয় মাসের জামিন পেলেন সাদ্দাম। কিন্তু জামিন পেলেও ফিরে পাবেন না স্ত্রী, ফিরে আসবে না শিশুসন্তান। জেলের ফটকে যে জীবন থেমে গিয়েছিল, তা আর কখনও আগের মতো হবে না।

এই গল্প কেবল একজন মানুষের নয়—এটা শোক, অসহায়ত্ব আর অপূর্ণতার এক নীরব দলিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পাঁচ মিনিটের দেখা, ছয় মাসের জামিন

জেলের ফটকে থেমে থাকা এক জীবনের গল্প

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২৮:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

স্ত্রী আর ৯ মাসের শিশুসন্তান—দুজনকেই হারিয়েছেন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। সেই শোক বুকে নিয়েই অবশেষে ছয় মাসের জামিন পেলেন তিনি। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) হাইকোর্ট মানবিক বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত দেন।

পাঁচ বছর আগে স্বর্ণালীর সঙ্গে সাদ্দামের সংসার শুরু হয়েছিল। স্বপ্ন ছিল ছোট্ট একটি পরিবার, সন্তানকে ঘিরে নতুন জীবন। কিন্তু রাজনৈতিক মামলায় সাদ্দামের গ্রেপ্তার আর কারাবাসে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়েন স্বর্ণালী। স্বামীকে মুক্ত করতে চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন তিনি।

গত শুক্রবার বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে নিজ ঘর থেকেই উদ্ধার হয় স্বর্ণালী ও তাদের ৯ মাসের শিশু নাজিমের মরদেহ। মুহূর্তেই নিঃশেষ হয়ে যায় একটি সংসার।

পরদিন শনিবার সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য স্ত্রী ও সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ পান সাদ্দাম। না কোলে নেওয়ার সুযোগ, না শেষ বিদায়ের সময়—পাঁচ মিনিটেই শেষ হয়ে যায় সব। এরপর আবারও ফিরতে হয় কারাগারের ভেতরে।

পরিবারের অভিযোগ, প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করলেও তা মঞ্জুর হয়নি। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, লিখিত কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি। তবে মৌখিক অনুরোধে দ্রুত মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।

শেষ পর্যন্ত আদালতের মানবিক বিবেচনায় ছয় মাসের জামিন পেলেন সাদ্দাম। কিন্তু জামিন পেলেও ফিরে পাবেন না স্ত্রী, ফিরে আসবে না শিশুসন্তান। জেলের ফটকে যে জীবন থেমে গিয়েছিল, তা আর কখনও আগের মতো হবে না।

এই গল্প কেবল একজন মানুষের নয়—এটা শোক, অসহায়ত্ব আর অপূর্ণতার এক নীরব দলিল।