বর-কনের বিয়েযাত্রা শেষ হলো মৃত্যুযাত্রায়
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ৮৫ বার পড়া হয়েছে
বিয়ের আনন্দ, নতুন জীবনের স্বপ্ন আর স্বজনদের হাসি-খুশিতে ভরা ছিল দিনটি। কিন্তু সেই আনন্দঘন বিয়ের যাত্রাই মুহূর্তের মধ্যে রূপ নিল হৃদয়বিদারক মৃত্যুযাত্রায়। বাগেরহাটের রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে বর-কনেসহ অন্তত ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাইব্রিজ এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বর সাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), কনের বোন লামিয়া, নানি এবং মাইক্রোবাসচালকসহ আরও কয়েকজন স্বজন।
স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা এলাকায় মার্জিয়া আক্তার (মিতু) ও মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শেলাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বিরের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরযাত্রীদের নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে নববধূকে নিয়ে মোংলার উদ্দেশে রওনা দেন তারা। নতুন সংসারের স্বপ্ন আর আনন্দে ভরা সেই যাত্রা রামপালের বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছাতেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতিতে আসা একটি বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান জানান, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী একটি বাস খুলনার দিকে যাচ্ছিল এবং মাইক্রোবাসটি মোংলার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বেলাইব্রিজ এলাকায় দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, “এ পর্যন্ত আমাদের হাসপাতালে আটজনের মরদেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী ও দুজন পুরুষ। এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি থাকা আরও একজন পরে মারা গেছেন।”
নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা শেষ হয়ে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। আনন্দের দিনে দুই পরিবারের ঘরে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।





















