ঢাকা ১০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘুমই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে ডায়াবেটিস, নতুন গবেষণায় চমক

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শরীরের বিপাক, হরমোনের ভারসাম্য এবং ইনসুলিন কার্যকারিতার সঙ্গে ঘুমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি এমরি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭ ঘণ্টা ১৮ মিনিট ঘুম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীরের তৈরি ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে কোষ ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল হয় এবং ধীরে ধীরে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ৭ ঘণ্টা ৩০ মিনিট ঘুম প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে, হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং ইনসুলিনও ঠিকভাবে কাজ করতে পারে।

কম ঘুমের প্রভাব:

হরমোন ভারসাম্য নষ্ট হয়, কার্টিসল ও অন্যান্য স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়।

কোষ ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল হয়, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়।

ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন পরিবর্তিত হয়, বেশি খিদে ও অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।

ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধি পেয়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আরও বাড়ে।

অতিরিক্ত ঘুমও ক্ষতিকর

প্রতিদিন নিয়মিতভাবে সাড়ে ৭ ঘণ্টার বেশি ঘুমও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। অর্থাৎ খুব কম বা খুব বেশি ঘুম—উভয়ই বিপাকক্রিয়ার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সাপ্তাহিক ঘুমের ‘ক্যাচ-আপ’

কর্মব্যস্ততার কারণে সপ্তাহে কম ঘুমিয়ে সপ্তাহান্তে বেশি ঘুমানো কিছুটা প্রভাব কমাতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমই সবচেয়ে কার্যকর।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ জীবনের তিনটি স্তম্ভ হল সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুম। ঘুমের ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী অসুখের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ডায়াবেটিসসহ নানা রোগ প্রতিরোধে ঘুমকে কখনোই অবহেলা করা যাবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঘুমই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে ডায়াবেটিস, নতুন গবেষণায় চমক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

শরীরের বিপাক, হরমোনের ভারসাম্য এবং ইনসুলিন কার্যকারিতার সঙ্গে ঘুমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি এমরি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭ ঘণ্টা ১৮ মিনিট ঘুম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীরের তৈরি ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে কোষ ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল হয় এবং ধীরে ধীরে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ৭ ঘণ্টা ৩০ মিনিট ঘুম প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে, হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং ইনসুলিনও ঠিকভাবে কাজ করতে পারে।

কম ঘুমের প্রভাব:

হরমোন ভারসাম্য নষ্ট হয়, কার্টিসল ও অন্যান্য স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়।

কোষ ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল হয়, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়।

ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন পরিবর্তিত হয়, বেশি খিদে ও অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।

ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধি পেয়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আরও বাড়ে।

অতিরিক্ত ঘুমও ক্ষতিকর

প্রতিদিন নিয়মিতভাবে সাড়ে ৭ ঘণ্টার বেশি ঘুমও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। অর্থাৎ খুব কম বা খুব বেশি ঘুম—উভয়ই বিপাকক্রিয়ার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সাপ্তাহিক ঘুমের ‘ক্যাচ-আপ’

কর্মব্যস্ততার কারণে সপ্তাহে কম ঘুমিয়ে সপ্তাহান্তে বেশি ঘুমানো কিছুটা প্রভাব কমাতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমই সবচেয়ে কার্যকর।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ জীবনের তিনটি স্তম্ভ হল সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুম। ঘুমের ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী অসুখের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ডায়াবেটিসসহ নানা রোগ প্রতিরোধে ঘুমকে কখনোই অবহেলা করা যাবে না।