কোথায় ছিলেন ১২ বছর? যুদ্ধাপরাধ মামলার বাচ্চু মিয়া ট্রাইব্যুনালে ফিরলেন
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০১:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে এমন সকাল প্রায় দেখা যায় না—নিয়মিত কোর্টের নোটিশ বোর্ড, আইনজীবীদের গম্ভীর মুখ, মিডিয়ার অপেক্ষা—তার মাঝেই বুধবার সকালে হাজির হলেন এক পলাতক মানুষের ছায়া, হাতে কোনো নাটকীয়তা নেই, শুধু সময়ের ভার।
তিনি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ—সবার কাছে পরিচিত বাচ্চু মিয়া নামে। যার নাম উচ্চারিত হলেই ফিরে আসে ১৯৭১-এর স্মৃতি, ফিরে আসে ট্রাইব্যুনালের ইতিহাস।
১২ বছরের পলাতক জীবন থেকে আদালতচত্বর
২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আবুল কালাম আজাদকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, তখন থেকেই তিনি পলাতক। সেই রায় শুনেছিল দেশ, শুনেছিল survivors পরিবার, কিন্তু আদালতের কাঠগড়ায় ছিলেন না তিনি। ১২ বছর—অদৃশ্য জীবন, অদেখা অবস্থান, আর দেশের মানুষের মাঝে একটি প্রশ্ন: তিনি কোথায়?
পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্ততা—ফিরে আসার পথ
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনার সরকার। দেশে নতুন বাস্তবতা—ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন, বিচারব্যবস্থার কাঠামোতে পরিবর্তন। পরিবর্তিত এই প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের ৮ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের সাজা স্থগিতের আবেদন করেন আবুল কালাম আজাদ—যা অনেকের জন্যই ছিল বিস্ময়।
তারই ধারাবাহিকতায় সেই বছরের ২২ অক্টোবর সরকারের সিদ্ধান্ত আসে: তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত, তবে শর্ত ছিল—সুপ্রিম কোর্টে আপিলের আগে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
কোর্টের সামনে এক দফা নীরবতা
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে ট্রাইব্যুনালের সামনে যখন তিনি আত্মসমর্পণ করলেন, তখন সংবাদকর্মীরা নড়েচড়ে বসলেও আশপাশে কোনো উত্তেজনা ছিল না। ছিল শুধু ইতিহাসের ভার— কারণ এ দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা কেবল আইনি মামলা নয়—এটি স্মৃতি, রক্ত, মুক্তিযুদ্ধ, আর বেদনার বহর। আত্মসমর্পণের পর তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এখন অপেক্ষা সুপ্রিম কোর্টের। এখন অপেক্ষা আইন–ইতিহাস–রাজনীতির নতুন পালার। অনেকে বলছে—১২ বছর পর এই ফেরা শুধু একজন ব্যক্তির ফেরা নয়, বরং ৫২ বছরের দায়বদ্ধতারও আরেক অধ্যায়।
যে মানুষ যুদ্ধাপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে হারিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি এখন দাঁড়িয়ে আছেন আদালতের সামনে—
আর দেশ আবার দেখতে চাইছে, বিচারব্যবস্থা এবার কী বলে।

























