ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১১ বছরের ‘ম্যানেজ’ বাণিজ্য? অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের লাচ্ছা সেমাই

লিয়াকত হোসাইন লায়ন, জামালপুর
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঈদ সামনে এলেই সেমাই কারখানাগুলোতে বাড়ে উৎপাদন ব্যস্ততা। তবে সেই ব্যস্ততার আড়ালে যদি থাকে ভেজাল উপকরণ, নোংরা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি—তবে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে ওঠে। জামালপুরের মেলান্দহ ও ইসলামপুর উপজেলার সংলগ্ন বীর হাতিজা মোড় এলাকায় এমনই অভিযোগ উঠেছে একটি কারখানার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, পচা ডিম, পশুর চর্বি (এনিমেল ফ্যাট), কৃত্রিম ঘি, নিম্নমানের পামওয়েল ও ডালডা ব্যবহার করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লাচ্ছা সেমাই উৎপাদন করা হচ্ছে। এসব পণ্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর অনুমোদন ছাড়াই খোলা অবস্থায় ও পলি প্যাকেটে বাজারজাত করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘থিতি মনি ফুড বেকারী’ নামের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন সোহলী শেখের ছেলে বাবুল মিয়া। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “১১ বছর ধরে এভাবেই ব্যবসা করছি। কোনো সমস্যা নেই, সব জায়গায় ম্যানেজ করেই চলি।” তার এমন বক্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এসব সেমাই শুধু জামালপুর শহরেই নয়, আশপাশের হাটবাজার ও পার্শ্ববর্তী জেলা-উপজেলাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে। ভেজালবিরোধী তদারকি শিথিল থাকায় অধিক মুনাফার আশায় অনুপযোগী নিম্নমানের ময়দা, পামতেল ও পোড়া তেল ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

নিয়ম অনুযায়ী সেমাই কারখানায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, পরিষ্কার পরিবেশ, মানসম্মত কাঁচামাল এবং শ্রমিকদের অ্যাপ্রোন, হেডকভার ও গ্লাভস ব্যবহার বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ শ্রমিককেই সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই ঘামভেজা অবস্থায় কাজ করতে দেখা গেছে।

ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএএম আবু তাহের বাংলা টাইমসকে বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার খেলে পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, খাদ্যবিষক্রিয়া এমনকি দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্করা এ ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

এ বিষয়ে মেলান্দহের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রাবেয়া বেগম বাংলা টাইমসকে বলেন, “অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের তেল ব্যবহার করে সেমাই তৈরি হচ্ছে—এ কথা আমিও জানি। তাকে কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছে। তার কোনো অনুমোদিত লাইসেন্সও নেই।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি লিখিত আকারে এলে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

সচেতন মহলের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে খাদ্যপণ্যে ভেজাল রোধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে। পণ্য কেনার আগে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, অনুমোদনের সিল এবং উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ যাচাই করা জরুরি। উৎসবের আনন্দ যেন ভেজালের কারণে বিষাদে পরিণত না হয়—এটাই প্রত্যাশা সবার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

১১ বছরের ‘ম্যানেজ’ বাণিজ্য? অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের লাচ্ছা সেমাই

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ঈদ সামনে এলেই সেমাই কারখানাগুলোতে বাড়ে উৎপাদন ব্যস্ততা। তবে সেই ব্যস্ততার আড়ালে যদি থাকে ভেজাল উপকরণ, নোংরা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি—তবে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে ওঠে। জামালপুরের মেলান্দহ ও ইসলামপুর উপজেলার সংলগ্ন বীর হাতিজা মোড় এলাকায় এমনই অভিযোগ উঠেছে একটি কারখানার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, পচা ডিম, পশুর চর্বি (এনিমেল ফ্যাট), কৃত্রিম ঘি, নিম্নমানের পামওয়েল ও ডালডা ব্যবহার করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লাচ্ছা সেমাই উৎপাদন করা হচ্ছে। এসব পণ্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর অনুমোদন ছাড়াই খোলা অবস্থায় ও পলি প্যাকেটে বাজারজাত করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘থিতি মনি ফুড বেকারী’ নামের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন সোহলী শেখের ছেলে বাবুল মিয়া। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “১১ বছর ধরে এভাবেই ব্যবসা করছি। কোনো সমস্যা নেই, সব জায়গায় ম্যানেজ করেই চলি।” তার এমন বক্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এসব সেমাই শুধু জামালপুর শহরেই নয়, আশপাশের হাটবাজার ও পার্শ্ববর্তী জেলা-উপজেলাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে। ভেজালবিরোধী তদারকি শিথিল থাকায় অধিক মুনাফার আশায় অনুপযোগী নিম্নমানের ময়দা, পামতেল ও পোড়া তেল ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

নিয়ম অনুযায়ী সেমাই কারখানায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, পরিষ্কার পরিবেশ, মানসম্মত কাঁচামাল এবং শ্রমিকদের অ্যাপ্রোন, হেডকভার ও গ্লাভস ব্যবহার বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ শ্রমিককেই সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই ঘামভেজা অবস্থায় কাজ করতে দেখা গেছে।

ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএএম আবু তাহের বাংলা টাইমসকে বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার খেলে পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, খাদ্যবিষক্রিয়া এমনকি দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্করা এ ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

এ বিষয়ে মেলান্দহের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রাবেয়া বেগম বাংলা টাইমসকে বলেন, “অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের তেল ব্যবহার করে সেমাই তৈরি হচ্ছে—এ কথা আমিও জানি। তাকে কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছে। তার কোনো অনুমোদিত লাইসেন্সও নেই।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি লিখিত আকারে এলে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

সচেতন মহলের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে খাদ্যপণ্যে ভেজাল রোধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে। পণ্য কেনার আগে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, অনুমোদনের সিল এবং উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ যাচাই করা জরুরি। উৎসবের আনন্দ যেন ভেজালের কারণে বিষাদে পরিণত না হয়—এটাই প্রত্যাশা সবার।