ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কিডনি সুস্থ রাখতে দিনে কতটা পানি প্রয়োজন? জানুন সঠিক হিসাব

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪০:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিডনি ভালো রাখতে বেশি করে পানি খাওয়ার পরামর্শ প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু সেই “বেশি” ঠিক কতটা? আসলে পানিপানেরও একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক রয়েছে, যা নির্ভর করে বয়স, ওজন, কাজের ধরন এবং শারীরিক অবস্থার উপর।

সম্প্রতি Harvard Medical School–এর গবেষকদের প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন এমন প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে ২–৩ লিটার পানি পান করা জরুরি। গ্লাসের হিসেবে দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি খাওয়া ভালো, তবে কোনও অবস্থাতেই ৬ গ্লাসের কম নয়।

পুরুষ ও নারীর জন্য আলাদা হিসাব

গবেষকদের মতে—

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের দিনে ৩.৭ থেকে ৪ লিটার পানি পান করা উচিত। নিয়মিত ভারী শরীরচর্চা করলে ৪ লিটার পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে।

নারীদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ২.৭ থেকে ৩ লিটার পানিই যথেষ্ট।

শুধু পিপাসা পেলেই পানি খাওয়ার বদলে নির্দিষ্ট সময় অন্তর অল্প অল্প করে পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে শরীর ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমে।

বিশেষ রোগে পানিপানের আলাদা নিয়ম

সব মানুষের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

ডায়াবিটিস থাকলে কিডনির উপর চাপ পড়ে। শরীরকে ডিটক্স রাখতে দিনে প্রায় ৩ লিটার বা তার কিছু বেশি পানি প্রয়োজন হতে পারে।

কিডনিতে পাথর থাকলে ৩.৫ থেকে ৪ লিটার পানি পান জরুরি।

হৃদরোগ থাকলে দেড় লিটারের বেশি পানি ক্ষতিকর হতে পারে।

ক্রনিক কিডনি রোগে ডায়ালিসিস চললে প্রতিদিন ১.৫ থেকে ২ লিটারের বেশি পানি না খাওয়াই নিরাপদ।

এই ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।

ওজন ও খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব

৬৫–৭০ কেজি ওজনের একজন সুস্থ, কর্মক্ষম মানুষের শরীরে সাধারণত ৩–৪ লিটার পানির চাহিদা থাকে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী বছরগুলোতে এই চাহিদা আরও বাড়তে পারে—স্থূলতা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে।

যারা কম তেল-নুন-মশলায় সুষম ঘরোয়া খাবার খান, তাঁদের তুলনায় জাঙ্ক বা প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খেলে শরীরে পানির চাহিদাও বাড়ে।

সবশেষে মনে রাখা জরুরি—পানিপানের সঠিক পরিমাণ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী অসুখ থাকলে নিজের শরীর বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কিডনি সুস্থ রাখতে দিনে কতটা পানি প্রয়োজন? জানুন সঠিক হিসাব

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪০:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

কিডনি ভালো রাখতে বেশি করে পানি খাওয়ার পরামর্শ প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু সেই “বেশি” ঠিক কতটা? আসলে পানিপানেরও একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক রয়েছে, যা নির্ভর করে বয়স, ওজন, কাজের ধরন এবং শারীরিক অবস্থার উপর।

সম্প্রতি Harvard Medical School–এর গবেষকদের প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন এমন প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে ২–৩ লিটার পানি পান করা জরুরি। গ্লাসের হিসেবে দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি খাওয়া ভালো, তবে কোনও অবস্থাতেই ৬ গ্লাসের কম নয়।

পুরুষ ও নারীর জন্য আলাদা হিসাব

গবেষকদের মতে—

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের দিনে ৩.৭ থেকে ৪ লিটার পানি পান করা উচিত। নিয়মিত ভারী শরীরচর্চা করলে ৪ লিটার পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে।

নারীদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ২.৭ থেকে ৩ লিটার পানিই যথেষ্ট।

শুধু পিপাসা পেলেই পানি খাওয়ার বদলে নির্দিষ্ট সময় অন্তর অল্প অল্প করে পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে শরীর ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমে।

বিশেষ রোগে পানিপানের আলাদা নিয়ম

সব মানুষের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

ডায়াবিটিস থাকলে কিডনির উপর চাপ পড়ে। শরীরকে ডিটক্স রাখতে দিনে প্রায় ৩ লিটার বা তার কিছু বেশি পানি প্রয়োজন হতে পারে।

কিডনিতে পাথর থাকলে ৩.৫ থেকে ৪ লিটার পানি পান জরুরি।

হৃদরোগ থাকলে দেড় লিটারের বেশি পানি ক্ষতিকর হতে পারে।

ক্রনিক কিডনি রোগে ডায়ালিসিস চললে প্রতিদিন ১.৫ থেকে ২ লিটারের বেশি পানি না খাওয়াই নিরাপদ।

এই ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।

ওজন ও খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব

৬৫–৭০ কেজি ওজনের একজন সুস্থ, কর্মক্ষম মানুষের শরীরে সাধারণত ৩–৪ লিটার পানির চাহিদা থাকে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী বছরগুলোতে এই চাহিদা আরও বাড়তে পারে—স্থূলতা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে।

যারা কম তেল-নুন-মশলায় সুষম ঘরোয়া খাবার খান, তাঁদের তুলনায় জাঙ্ক বা প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খেলে শরীরে পানির চাহিদাও বাড়ে।

সবশেষে মনে রাখা জরুরি—পানিপানের সঠিক পরিমাণ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী অসুখ থাকলে নিজের শরীর বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।