ঢাকা ১০:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কিডনি সুস্থ রাখতে দিনে কতটা পানি প্রয়োজন? জানুন সঠিক হিসাব ‘শান্তি ফেরাতে আলোচনায় রাজি ইরান’, সঙ্গে দিলেন শর্ত একই শ্যাম্পু সবার জন্য নয়: চুলের ধরন বুঝে বানান ঘরোয়া শ্যাম্পু রোস্ট–কোর্মার বাইরে নতুন স্বাদ, বানান ফুলকপির কিমা আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব: রাজনৈতিক বার্তা নাকি আর্থিক নজরদারি? ঢাকা পলিটেকনিকে হামলার প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ বড় সাজ্জাদের দুই অনুসারী অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার এমপি নাসের রহমানের সঙ্গে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বৈঠক নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করে যাওয়া ইউনূসের গেজেট কোথায়? বাগেরহাটে ভয়াবহ আগুনে ৮ দোকান ভস্মীভূত, ক্ষতি ৩০ লাখ টাকার বেশি

আবেদন আমিরাতে, ঠিকানা চান্দগাঁওয়ের

নিষেধাজ্ঞা ডিঙিয়ে পাসপোর্ট পেলেন সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ছেলে-মেয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ৮৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দুবাইয়ে বসে নতুন ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের দুই সন্তান—জেবা জামান ও তানয়ীম জামান চৌধুরী। তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে ই-পাসপোর্ট ইস্যুর ঘটনাকে ঘিরে সরকারি সমন্বয়ব্যবস্থা, আইনগত যাচাই এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠছে।

দুবাইয়ে ‘অর্ডিনারি’ সুবিধায় পাসপোর্ট

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য বলছে, দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল থেকেই দুজনেরই ৪৮ পৃষ্ঠার অর্ডিনারি ক্যাটাগরির ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে। অথচ একই সময়ে ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের জারি করা আদেশ অনুযায়ী তিন ভাইবোনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।

অবস্থার আরও নাটকীয় দিক হলো—জাবেদের আরেক পুত্র সাদাকাত জামানের পাসপোর্ট আবেদন বর্তমানে আটকে আছে।

জেবার আবেদন: দুবাইয়ে এনরোলমেন্ট, ঠিকানায় চট্টগ্রাম

জানা যায়, জেবা জামান হারানো পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর জন্য ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর দুবাই কনস্যুলেটে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি বর্তমান ঠিকানা হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঠিকানার বদলে চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ের একটি ঠিকানা উল্লেখ করলেও আবেদন গ্রহণ হয়, সম্পন্ন হয় বায়োমেট্রিকও।

তার পাসপোর্টে ইস্যু তারিখ ২০২৪ সালের ২৯ মে—এবং মেয়াদ ২০৩৪ সালের মে পর্যন্ত। এটি তার দ্বিতীয় পাসপোর্ট—২০২০ সালেও তিনি এমআরপি পাসপোর্ট নিয়েছিলেন।

তানয়ীম জামান: দ্রুত ডেলিভারির ব্যতিক্রমী গতি

২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি তানয়ীম জামানের এনরোলমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার মাত্র ১১ দিনের মাথায়—২৪ জানুয়ারি পাসপোর্ট হাতে পান তিনি। পাসপোর্ট সেবায় অভ্যস্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এই সময়সীমা ‘অস্বাভাবিক দ্রুত’।

দুজনেই আবেদন করেছিলেন ‘এক্সপ্রেস ডেলিভারি’ সুবিধায়—যা সাধারণত চাকরি, চিকিৎসা বা জরুরি ভ্রমণের প্রয়োজনে দেওয়া হয়। কিন্তু দেশত্যাগে বাধা থাকাদের ক্ষেত্রে বিদেশে বসে পাসপোর্ট দেওয়ার আগে আইনগত অনুমোদনের বিষয়টি কিভাবে বিবেচনায় নেওয়া হলো—সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

নিষেধাজ্ঞা বহাল—তারপরও কনস্যুলেটের ভূমিকা প্রশ্নে

২০২৪ সালের ২২ জুন দুদকের আবেদনে আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরীর তিন সন্তানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান নিশ্চিত করেছেন—নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল আছে। ফলে দুবাই কনস্যুলেটের এই ইস্যু বিচারিক নির্দেশ বাস্তবায়ন ও মন্ত্রণালয়গুলোতে তথ্য বিনিময়ের দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

অভিযোগের আড়াল–আলোকে কূটনৈতিক অফিস

দুবাই কনস্যুলেট জেনারেলের কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সূত্র বলছে—আগের সরকারের সময় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত এক প্রটোকল কর্মকর্তা প্রক্রিয়াটি ‘সহজতর’ করতে ভূমিকা রাখেন। তবে এসব তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই; কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

৩৩০টি সম্পদ জব্দ: প্রেক্ষাপট আরও জটিল

এ ঘটনায় জটিলতা বাড়িয়েছে আরেকটি তথ্য—গত ১৩ জানুয়ারি সাবেক মন্ত্রীর নামে যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আট দেশে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে দুই প্রতিষ্ঠানে তার করা বিনিয়োগও। দুদকের হিসাবে এসব সম্পদের মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় প্রশাসন-দুদক-বিচার বিভাগ ও কূটনৈতিক দপ্তরের সমন্বয় নিয়ে নতুন করে আলোচনার দরজা খুলেছে। দেশের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন সহজ—যদি নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল, তবে পাসপোর্ট ইস্যুর অনুমতি কে, কখন, কীভাবে দিল?

আর আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন আরও জটিল—রাষ্ট্রীয় সীমা ছাড়িয়ে নাগরিক সুরক্ষার সিদ্ধান্ত কে নিয়ন্ত্রণ করে?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আবেদন আমিরাতে, ঠিকানা চান্দগাঁওয়ের

নিষেধাজ্ঞা ডিঙিয়ে পাসপোর্ট পেলেন সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ছেলে-মেয়ে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দুবাইয়ে বসে নতুন ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের দুই সন্তান—জেবা জামান ও তানয়ীম জামান চৌধুরী। তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে ই-পাসপোর্ট ইস্যুর ঘটনাকে ঘিরে সরকারি সমন্বয়ব্যবস্থা, আইনগত যাচাই এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠছে।

দুবাইয়ে ‘অর্ডিনারি’ সুবিধায় পাসপোর্ট

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য বলছে, দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল থেকেই দুজনেরই ৪৮ পৃষ্ঠার অর্ডিনারি ক্যাটাগরির ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে। অথচ একই সময়ে ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের জারি করা আদেশ অনুযায়ী তিন ভাইবোনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।

অবস্থার আরও নাটকীয় দিক হলো—জাবেদের আরেক পুত্র সাদাকাত জামানের পাসপোর্ট আবেদন বর্তমানে আটকে আছে।

জেবার আবেদন: দুবাইয়ে এনরোলমেন্ট, ঠিকানায় চট্টগ্রাম

জানা যায়, জেবা জামান হারানো পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর জন্য ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর দুবাই কনস্যুলেটে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি বর্তমান ঠিকানা হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঠিকানার বদলে চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ের একটি ঠিকানা উল্লেখ করলেও আবেদন গ্রহণ হয়, সম্পন্ন হয় বায়োমেট্রিকও।

তার পাসপোর্টে ইস্যু তারিখ ২০২৪ সালের ২৯ মে—এবং মেয়াদ ২০৩৪ সালের মে পর্যন্ত। এটি তার দ্বিতীয় পাসপোর্ট—২০২০ সালেও তিনি এমআরপি পাসপোর্ট নিয়েছিলেন।

তানয়ীম জামান: দ্রুত ডেলিভারির ব্যতিক্রমী গতি

২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি তানয়ীম জামানের এনরোলমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার মাত্র ১১ দিনের মাথায়—২৪ জানুয়ারি পাসপোর্ট হাতে পান তিনি। পাসপোর্ট সেবায় অভ্যস্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এই সময়সীমা ‘অস্বাভাবিক দ্রুত’।

দুজনেই আবেদন করেছিলেন ‘এক্সপ্রেস ডেলিভারি’ সুবিধায়—যা সাধারণত চাকরি, চিকিৎসা বা জরুরি ভ্রমণের প্রয়োজনে দেওয়া হয়। কিন্তু দেশত্যাগে বাধা থাকাদের ক্ষেত্রে বিদেশে বসে পাসপোর্ট দেওয়ার আগে আইনগত অনুমোদনের বিষয়টি কিভাবে বিবেচনায় নেওয়া হলো—সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

নিষেধাজ্ঞা বহাল—তারপরও কনস্যুলেটের ভূমিকা প্রশ্নে

২০২৪ সালের ২২ জুন দুদকের আবেদনে আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরীর তিন সন্তানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান নিশ্চিত করেছেন—নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল আছে। ফলে দুবাই কনস্যুলেটের এই ইস্যু বিচারিক নির্দেশ বাস্তবায়ন ও মন্ত্রণালয়গুলোতে তথ্য বিনিময়ের দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

অভিযোগের আড়াল–আলোকে কূটনৈতিক অফিস

দুবাই কনস্যুলেট জেনারেলের কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সূত্র বলছে—আগের সরকারের সময় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত এক প্রটোকল কর্মকর্তা প্রক্রিয়াটি ‘সহজতর’ করতে ভূমিকা রাখেন। তবে এসব তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই; কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

৩৩০টি সম্পদ জব্দ: প্রেক্ষাপট আরও জটিল

এ ঘটনায় জটিলতা বাড়িয়েছে আরেকটি তথ্য—গত ১৩ জানুয়ারি সাবেক মন্ত্রীর নামে যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আট দেশে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে দুই প্রতিষ্ঠানে তার করা বিনিয়োগও। দুদকের হিসাবে এসব সম্পদের মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় প্রশাসন-দুদক-বিচার বিভাগ ও কূটনৈতিক দপ্তরের সমন্বয় নিয়ে নতুন করে আলোচনার দরজা খুলেছে। দেশের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন সহজ—যদি নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল, তবে পাসপোর্ট ইস্যুর অনুমতি কে, কখন, কীভাবে দিল?

আর আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন আরও জটিল—রাষ্ট্রীয় সীমা ছাড়িয়ে নাগরিক সুরক্ষার সিদ্ধান্ত কে নিয়ন্ত্রণ করে?