ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিবির নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল রাজধানী ঈদের ছুটিতে দুই বনে গাছ উধাও, কাটা হলো শত শত বৃক্ষ সিলেটে ডিসি সারওয়ারের আলোচিত অধ্যায়: ‘পাথরকাণ্ডে’ শুরু, ‘ডেগকাণ্ডে’ শেষ স্মৃতিবিজড়িত ১২০০ বছরের পুরনো ‘মেজর ওক’ গাছের মৃত্যু সৌদিকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে স্পেনের প্রথম জয়, ঝলক দেখালেন ইয়ামাল শিল্পগোষ্ঠীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ এমপি-পুত্র খায়রুলের বিরুদ্ধে খুলনায় ১৮ দিন ধরে খাবার খাচ্ছে না খানজাহান আলীর মাজারের কুমির চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ: এমপি-পুত্র সজীবকে যুবদল থেকে বহিষ্কার কোনো প্রভুত্ব নয়, সমবন্ধুত্বের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে: ভূমিমন্ত্রী মিনু সুন্দরবনে ফাঁদে আহত বাঘিনী সুস্থ, ফিরছে তার আবাসস্থলে

শোকের সাগরে তারেক রহমান!

সুপন রায়
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬ ২০৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর তিন দিনের প্রাথমিক কর্মসূচি শেষ করেছেন তিনি। এই ক’দিনে মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত হলেও তারেক রহমানের হৃদয়ে আনন্দের পাশাপাশি গভীর বেদনার ঢেউ আছড়ে পড়ছে বারবার।

দেশের মাটি ছুঁয়ে দেখার আনন্দ যেমন তাকে আপ্লুত করেছে, তেমনি শোকের ভারও তাকে পিছু ছাড়ছে না। যখন তিনি দেশ ছেড়েছিলেন, তখন বিএনপির রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ছিল মায়ের হাতে। জীবিত ছিলেন শৈশবের সঙ্গী ছোট ভাই। আজ দেশে ফিরেছেন এক ভিন্ন বাস্তবতায়—ভাই আর নেই, ভাইয়ের স্ত্রী বিধবা, সন্তানরা পিতৃহীন। আর মা—দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া—অন্তিম শয্যায়।

এ কারণেই দেশে ফেরার এই মুহূর্তটি তারেক রহমানের কাছে উৎসবের চেয়ে বেশি হয়ে উঠেছে শোকের সাগর।

গ্রেফতার, নির্যাতন ও নির্বাসনের শুরু

ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী জরুরি অবস্থার সময়, ২০০৭ সালের ৭ মার্চ দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তারেক রহমানকে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে দায়ের করে একাধিক মামলা। কারাগারে থাকাকালীন তার ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে, যা দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

আইনজীবীদের আবেদনের পর আদালতের নির্দেশে গঠিত চিকিৎসক দল তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে নির্যাতনের আলামত পাওয়ার কথা জানালে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই অবস্থায় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনার শর্ত হিসেবে কারাগার থেকেই দুই ছেলের মুক্তি দাবি করেন খালেদা জিয়া। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের ৩ মার্চ জামিনে মুক্তি পান তারেক রহমান। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর কারামুক্ত হয়ে খালেদা জিয়া ছেলেকে হাসপাতালে দেখতে যান। ওই দিনই উন্নত চিকিৎসার জন্য তারেক রহমানকে লন্ডনে পাঠানো হয়।

১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শেষে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। এই সময়ের মধ্যেই দেশের রাজনীতিতে ঘটে যায় একের পর এক নাটকীয় পরিবর্তন।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে খালেদা জিয়াকে একটি মামলায় দণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। এরপর থেকে প্রায় এককভাবে বিদেশে বসেই তিনি দল পরিচালনা করেন। দমন-পীড়ন, মামলা, গুম-খুন ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের মধ্যেও তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হন। সে কারণেই শত নির্যাতনের পরও বিএনপি ভাঙেনি, দুর্বল হয়নি।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রত্যাবর্তন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকা সেই সরকার দেড় হাজারের মতো মানুষের প্রাণহানির পরও পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগে বাধ্য হয়। ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

এরপর থেকেই তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়। একাধিক সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা হলেও প্রত্যাবর্তন হচ্ছিল না। বিশেষ করে নভেম্বর মাসে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হলে মায়ের শয্যাপাশে ছেলের অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।

২৯ নভেম্বর ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তারেক রহমান লেখেন-এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ–স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে এ সিদ্ধান্ত আমার একক নিয়ন্ত্রণে নয়।

এরপর অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্ট করে জানায়, তারেক রহমানের দেশে ফেরায় কোনো সরকারি বাধা নেই। সবশেষ ১২ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা দেন—২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান। ট্রাভেল পাস হাতে পেয়ে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে করে ওই দিনই তিনি ঢাকায় পৌঁছান।

ভালোবাসা, শোক আর নতুন প্রত্যাশা

দেশে ফিরে প্রথমেই পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কে বিএনপির আয়োজিত গণসংবর্ধনায় অংশ নেন তারেক রহমান। স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জনসমাবেশে তিনি জানান, বাংলাদেশের জন্য তার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে—“We have a plan.”

মাকে দেখতে যাওয়ার আগে সবার কাছে দোয়া চেয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি এখন আমার মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে যাচ্ছি। যিনি এই দেশের মানুষকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবেসেছেন। সন্তান হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ, আল্লাহর দরবারে তার জন্য দোয়া করবেন।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন যেমন দীর্ঘ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেছে, তেমনি পারিবারিক জীবনও ছিল বেদনাবহ। শৈশবেই হারিয়েছেন বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। নির্বাসিত জীবনে মায়ের কারাবরণ, অসুস্থতা—সবই তাকে দূর থেকে দেখতে হয়েছে। এবার মায়ের শয্যাপাশে ফিরতেও তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে অনিশ্চয়তার দীর্ঘ পথ।

প্রতিহিংসা নয়, ইতিবাচক রাজনীতির বার্তা

দেশে ফিরে তারেক রহমান দিয়েছেন সংযমী ও ইতিবাচক বার্তা। প্রতিহিংসার ভাষা পরিহার করে তিনি কথা বলেছেন ভবিষ্যৎ নির্মাণের। সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্মতার প্রতীক হিসেবে বাসে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় মানুষের ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন।

শুক্রবার তার প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

ভাই হারানোর শোক, মাকে পাশে না পাওয়ার বেদনা আর মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা—এই তিন অনুভূতির মাঝেই দাঁড়িয়ে আছেন তারেক রহমান। শোকই যেন তার পথচলার সঙ্গী, আবার সেই শোক থেকেই জন্ম নিচ্ছে নতুন পথের পাথেয়।

দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন—এই ভালোবাসাই তাকে সামনে এগিয়ে যেতে শক্তি জোগাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

শোকের সাগরে তারেক রহমান!

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর তিন দিনের প্রাথমিক কর্মসূচি শেষ করেছেন তিনি। এই ক’দিনে মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত হলেও তারেক রহমানের হৃদয়ে আনন্দের পাশাপাশি গভীর বেদনার ঢেউ আছড়ে পড়ছে বারবার।

দেশের মাটি ছুঁয়ে দেখার আনন্দ যেমন তাকে আপ্লুত করেছে, তেমনি শোকের ভারও তাকে পিছু ছাড়ছে না। যখন তিনি দেশ ছেড়েছিলেন, তখন বিএনপির রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ছিল মায়ের হাতে। জীবিত ছিলেন শৈশবের সঙ্গী ছোট ভাই। আজ দেশে ফিরেছেন এক ভিন্ন বাস্তবতায়—ভাই আর নেই, ভাইয়ের স্ত্রী বিধবা, সন্তানরা পিতৃহীন। আর মা—দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া—অন্তিম শয্যায়।

এ কারণেই দেশে ফেরার এই মুহূর্তটি তারেক রহমানের কাছে উৎসবের চেয়ে বেশি হয়ে উঠেছে শোকের সাগর।

গ্রেফতার, নির্যাতন ও নির্বাসনের শুরু

ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী জরুরি অবস্থার সময়, ২০০৭ সালের ৭ মার্চ দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তারেক রহমানকে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে দায়ের করে একাধিক মামলা। কারাগারে থাকাকালীন তার ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে, যা দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

আইনজীবীদের আবেদনের পর আদালতের নির্দেশে গঠিত চিকিৎসক দল তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে নির্যাতনের আলামত পাওয়ার কথা জানালে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই অবস্থায় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনার শর্ত হিসেবে কারাগার থেকেই দুই ছেলের মুক্তি দাবি করেন খালেদা জিয়া। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের ৩ মার্চ জামিনে মুক্তি পান তারেক রহমান। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর কারামুক্ত হয়ে খালেদা জিয়া ছেলেকে হাসপাতালে দেখতে যান। ওই দিনই উন্নত চিকিৎসার জন্য তারেক রহমানকে লন্ডনে পাঠানো হয়।

১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শেষে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। এই সময়ের মধ্যেই দেশের রাজনীতিতে ঘটে যায় একের পর এক নাটকীয় পরিবর্তন।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে খালেদা জিয়াকে একটি মামলায় দণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। এরপর থেকে প্রায় এককভাবে বিদেশে বসেই তিনি দল পরিচালনা করেন। দমন-পীড়ন, মামলা, গুম-খুন ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের মধ্যেও তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হন। সে কারণেই শত নির্যাতনের পরও বিএনপি ভাঙেনি, দুর্বল হয়নি।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রত্যাবর্তন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকা সেই সরকার দেড় হাজারের মতো মানুষের প্রাণহানির পরও পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগে বাধ্য হয়। ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

এরপর থেকেই তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়। একাধিক সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা হলেও প্রত্যাবর্তন হচ্ছিল না। বিশেষ করে নভেম্বর মাসে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হলে মায়ের শয্যাপাশে ছেলের অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।

২৯ নভেম্বর ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তারেক রহমান লেখেন-এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ–স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে এ সিদ্ধান্ত আমার একক নিয়ন্ত্রণে নয়।

এরপর অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্ট করে জানায়, তারেক রহমানের দেশে ফেরায় কোনো সরকারি বাধা নেই। সবশেষ ১২ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা দেন—২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান। ট্রাভেল পাস হাতে পেয়ে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে করে ওই দিনই তিনি ঢাকায় পৌঁছান।

ভালোবাসা, শোক আর নতুন প্রত্যাশা

দেশে ফিরে প্রথমেই পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কে বিএনপির আয়োজিত গণসংবর্ধনায় অংশ নেন তারেক রহমান। স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জনসমাবেশে তিনি জানান, বাংলাদেশের জন্য তার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে—“We have a plan.”

মাকে দেখতে যাওয়ার আগে সবার কাছে দোয়া চেয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি এখন আমার মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে যাচ্ছি। যিনি এই দেশের মানুষকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবেসেছেন। সন্তান হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ, আল্লাহর দরবারে তার জন্য দোয়া করবেন।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন যেমন দীর্ঘ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেছে, তেমনি পারিবারিক জীবনও ছিল বেদনাবহ। শৈশবেই হারিয়েছেন বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। নির্বাসিত জীবনে মায়ের কারাবরণ, অসুস্থতা—সবই তাকে দূর থেকে দেখতে হয়েছে। এবার মায়ের শয্যাপাশে ফিরতেও তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে অনিশ্চয়তার দীর্ঘ পথ।

প্রতিহিংসা নয়, ইতিবাচক রাজনীতির বার্তা

দেশে ফিরে তারেক রহমান দিয়েছেন সংযমী ও ইতিবাচক বার্তা। প্রতিহিংসার ভাষা পরিহার করে তিনি কথা বলেছেন ভবিষ্যৎ নির্মাণের। সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্মতার প্রতীক হিসেবে বাসে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় মানুষের ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন।

শুক্রবার তার প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

ভাই হারানোর শোক, মাকে পাশে না পাওয়ার বেদনা আর মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা—এই তিন অনুভূতির মাঝেই দাঁড়িয়ে আছেন তারেক রহমান। শোকই যেন তার পথচলার সঙ্গী, আবার সেই শোক থেকেই জন্ম নিচ্ছে নতুন পথের পাথেয়।

দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন—এই ভালোবাসাই তাকে সামনে এগিয়ে যেতে শক্তি জোগাবে।