ঢাকা ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কিডনি সুস্থ রাখতে দিনে কতটা পানি প্রয়োজন? জানুন সঠিক হিসাব ‘শান্তি ফেরাতে আলোচনায় রাজি ইরান’, সঙ্গে দিলেন শর্ত একই শ্যাম্পু সবার জন্য নয়: চুলের ধরন বুঝে বানান ঘরোয়া শ্যাম্পু রোস্ট–কোর্মার বাইরে নতুন স্বাদ, বানান ফুলকপির কিমা আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব: রাজনৈতিক বার্তা নাকি আর্থিক নজরদারি? ঢাকা পলিটেকনিকে হামলার প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ বড় সাজ্জাদের দুই অনুসারী অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার এমপি নাসের রহমানের সঙ্গে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বৈঠক নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করে যাওয়া ইউনূসের গেজেট কোথায়? বাগেরহাটে ভয়াবহ আগুনে ৮ দোকান ভস্মীভূত, ক্ষতি ৩০ লাখ টাকার বেশি

বিদেশে নেয়ার অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া, স্বাস্থ্য বিবেচনায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৫ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-পুরনো ছবি

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই তাকে লন্ডনে নেওয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আনা হবে। এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী। এখন পর্যন্ত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রার মতো পরিস্থিতি খালেদা জিয়ার নেই বলেও জানান তিনি।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দীর্ঘক্ষণ যাত্রার জন্য শারীরিক অবস্থার উন্নতিতে চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত পেলেই বিএনপি চেয়ারপারসনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে নেওয়া হবে।

গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। এরপর, শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হলে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হলেও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে লন্ডন যাত্রার তারিখ পিছিয়ে দেয় বিএনপি।

এরমধ্যে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশে এসেছেন যুক্তরাজ্য এবং চীন থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল। তাঁকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যেতে লন্ডন থেকে দেশে এসেছেন তার পুত্রবধূ ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান।

বহু বছর ধরেই খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস এবং চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। ঢাকায় নিজের বাসায় থাকা অবস্থাতেই ২০২১ সালের মে মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি। তখনো শ্বাসকষ্টে ভোগার কারণে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল।

এরপর ২০২৪ সালের জুনে তার হৃদপিণ্ডে পেসমেকার বসানো হয়। তখনো তিনি মূলত হার্ট, কিডনি ও লিভারসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছিলেন, যা তার শারীরিক অবস্থাকে জটিল করে তুলেছিলো।

এর আগে থেকেই তার হার্টে তিনটি ব্লক ছিল। আগে একটা রিংও পরানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের জুনে পোর্টো সিস্টেমেটিক অ্যানেসটোমেসির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার লিভারের চিকিৎসাও দেয়া হয়েছে বিদেশ থেকে ডাক্তার এনে।

২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলো আদালত, তারপর থেকে প্রথমে কারাগারে বিশেষ ব্যবস্থায় ও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। দুর্নীতির আরেকটি মামলাতেও তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই নির্বাহী আদেশে বিশেষ শর্তে মুক্তির পর তিনি গুলশানের বাসায় উঠেন। ২০২৪ সালে অগাস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছয়ই অগাস্ট রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে তাকে সব দণ্ড থেকে পুরোপুরি মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতেই তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান।

পরে ফিরে আসার পরেও ঢাকায় আরও কয়েকবার হাসপাতালে যেতে হয়েছে মিসেস জিয়াকে। সবশেষ ২১শে নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর তিনি আরও অসুস্থ হয়ে যান ও তার শ্বাসকষ্ট তীব্র হয়ে ওঠে বলে জানা যায়।

এ অবস্থায় গত ২৩শে নভেম্বর তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা যায় যে তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিদেশে নেয়ার অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া, স্বাস্থ্য বিবেচনায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই তাকে লন্ডনে নেওয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আনা হবে। এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী। এখন পর্যন্ত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রার মতো পরিস্থিতি খালেদা জিয়ার নেই বলেও জানান তিনি।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দীর্ঘক্ষণ যাত্রার জন্য শারীরিক অবস্থার উন্নতিতে চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত পেলেই বিএনপি চেয়ারপারসনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে নেওয়া হবে।

গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। এরপর, শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হলে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হলেও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে লন্ডন যাত্রার তারিখ পিছিয়ে দেয় বিএনপি।

এরমধ্যে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশে এসেছেন যুক্তরাজ্য এবং চীন থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল। তাঁকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যেতে লন্ডন থেকে দেশে এসেছেন তার পুত্রবধূ ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান।

বহু বছর ধরেই খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস এবং চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। ঢাকায় নিজের বাসায় থাকা অবস্থাতেই ২০২১ সালের মে মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি। তখনো শ্বাসকষ্টে ভোগার কারণে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল।

এরপর ২০২৪ সালের জুনে তার হৃদপিণ্ডে পেসমেকার বসানো হয়। তখনো তিনি মূলত হার্ট, কিডনি ও লিভারসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছিলেন, যা তার শারীরিক অবস্থাকে জটিল করে তুলেছিলো।

এর আগে থেকেই তার হার্টে তিনটি ব্লক ছিল। আগে একটা রিংও পরানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের জুনে পোর্টো সিস্টেমেটিক অ্যানেসটোমেসির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার লিভারের চিকিৎসাও দেয়া হয়েছে বিদেশ থেকে ডাক্তার এনে।

২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলো আদালত, তারপর থেকে প্রথমে কারাগারে বিশেষ ব্যবস্থায় ও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। দুর্নীতির আরেকটি মামলাতেও তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই নির্বাহী আদেশে বিশেষ শর্তে মুক্তির পর তিনি গুলশানের বাসায় উঠেন। ২০২৪ সালে অগাস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছয়ই অগাস্ট রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে তাকে সব দণ্ড থেকে পুরোপুরি মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতেই তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান।

পরে ফিরে আসার পরেও ঢাকায় আরও কয়েকবার হাসপাতালে যেতে হয়েছে মিসেস জিয়াকে। সবশেষ ২১শে নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর তিনি আরও অসুস্থ হয়ে যান ও তার শ্বাসকষ্ট তীব্র হয়ে ওঠে বলে জানা যায়।

এ অবস্থায় গত ২৩শে নভেম্বর তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা যায় যে তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।