৭৯ আসনে বিএনপির বিদ্রোহের আগুন, সমঝোতার রাজনীতিতে নতুন জট
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ১১৬ বার পড়া হয়েছে
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেও বিএনপির ভেতরকার তোলপাড় থামেনি। দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙা, বহিষ্কার, আহ্বান—কিছুই থামাতে পারেনি স্বতন্ত্র হয়ে দাঁড়ানো নেতাদের। শেষ পর্যন্ত ৭৯টি আসনে ৯২ জন বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবেই থেকে গেলেন নির্বাচনের ময়দানে।
এদের উপস্থিতি শুধু দলের অস্বস্তিই বাড়ায়নি, জটিল করে তুলেছে সমঝোতার রাজনীতিও—যা সাধারণত নির্বাচনের আগে দলীয় কৌশলের অংশ হিসেবে চলে।
প্রথম ধাক্কা: ১৯০ জনের অমান্য
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, প্রাথমিক ধাপে ১১৭টি আসনে বিএনপির ১৯০ জন নেতা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মনোনয়নপত্র জমা দেন। বাছাই, অবৈধতা ও প্রত্যাহারের পর কিছু সরে দাঁড়ালেও বড় অংশ থেকে গেছেন। দলের শৃঙ্খলা ভেঙে দাঁড়ানো কমপক্ষে ১০ জনকে বহিষ্কারের নোটিশও গেছে—তবুও তারা ভোটে থাকতে চেয়েছেন।
বহিষ্কৃত থেকে বিদ্রোহী—রাজধানীতেই উত্তাপ সবচেয়ে বেশি
রাজধানী ঢাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ঢাকা-৭, ঢাকা-১২ ও ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতারা এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে। ঢাকার শিল্পাঞ্চল, মিরপুর, শাহ আলী, দারুস সালাম, তেজগাঁও, হাতিরঝিল, উত্তরা—এলাকায় দৃশ্য এখন এমন যে, বিএনপির প্রতীক এক পাশে, আর বহু পরিচিত বিএনপি নেতা প্রার্থীর ব্যানার অন্য পাশে।
ঢাকার বাইরে আরও ছড়িয়ে আছে বিভাজন
রাজধানীর মতোই কুমিল্লা, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ—এসব জেলায়ও একই চিত্র। কোথাও সাবেক সংসদ সদস্য, কোথাও জেলা সভাপতি, আবার কোথাও যুবদল-ছাত্রদলের বর্তমান পদাধিকারীও লড়ছেন দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।
জামায়াতও অস্বস্তির বাইরে নয়
একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে। সাবেক জেলা জামায়াত আমির অধ্যাপক জসিম উদ্দিন দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন—এই পরিসংখ্যান কেবল বিদ্রোহের নয়, বরং কাঠামোগত অসন্তোষ, প্রার্থী বাছাইয়ের অসন্তুষ্টি এবং আঞ্চলিক রাজনীতির নিজস্ব বাস্তবতার প্রতিফলন।
বহু এলাকায় শোনা যাচ্ছে একই কথা— “যদি দল আমাকে না-ই দেবে, তাহলে মানুষ যে ভোট দিতে চায় তা থেকে আমি কেন সরে যাব?”
বড় দুটি দল নির্বাচনের আগে সাধারণত আসন সমঝোতা, জোট আলোচনা ও কৌশল তৈরির মধ্য দিয়ে যায়। কিন্তু বিএনপির ভেতরকার বিদ্রোহ সেই সমঝোতার জায়গাটিকেই দুরূহ করেছে। দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মুখে একটাই ক্ষোভ— “একদিকে বহিষ্কার, অন্যদিকে পরিচিত নেতাই আবার প্রতিদ্বন্দ্বী। তাহলে কর্মীরা কার পক্ষে থাকবে?”
প্রত্যাহারের শেষ দিনে স্পষ্ট হলো বিভাজন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা শুধু দলের ভেতরের গল্প নয়, বরং রাজনৈতিক সমঝোতা, নির্বাচনি কৌশল এবং আসন রাজনীতির বড় চিত্রকেই জটিল করেছে।
এখন নজর থাকবে— এই বিদ্রোহ দ্বন্দ্বে গড়াবে, নাকি ভোট গণিতের নতুন সমীকরণ তৈরি করবে। একদিকে দলীয় প্রতীক, অন্যদিকে পরিচিত মুখ— এ রকম নির্বাচনি দৃশ্য বাংলাদেশে নতুন নয়, তবে এবারের সংখ্যাটা বলছে:
বিদ্রোহ এবার শুধু ব্যতিক্রম নয়, প্রবণতাও বটে।
























