ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবির আভাস, সমর্থন নেমে ৩৬ শতাংশে নাগরিক কবি শামসুর রাহমানের ৯৮তম জন্মদিন শরীরী দৃশ্যে আপত্তি রশ্মিকার গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের উদ্যোগ চলছে: তথ্যমন্ত্রী পাসওয়ার্ড ছাড়াই সার্ভারে হামলার শঙ্কা, সতর্কতায় কয়েকটি সাইট স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম সেচ পাম্প সুইচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যসচিব ধসের গর্তে দুর্ঘটনার শঙ্কা, বাঁশ পুঁতে সতর্কসংকেত ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি নিয়োগে বেসরকারি ব্যাংকারদের দিকে সরকারের নজর

নাগরিক কবি শামসুর রাহমানের ৯৮তম জন্মদিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নাগরিক জীবনের সুখ-দুঃখ, বেদনা, প্রেম ও প্রতিবাদের কবি শামসুর রাহমানের ৯৮তম জন্মদিন আজ শুক্রবার। ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকার মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান এই কবি।

শামসুর রাহমানের ডাকনাম ছিল বাচ্চু। তাঁর বাবা মোখলেসুর রাহমান চৌধুরী এবং মা আমেনা বেগম। লেখক হওয়ার প্রত্যয়ে নিজের নাম থেকে পৈতৃক উপাধি ‘চৌধুরী’ বাদ দেন তিনি। ঢাকাতেই কেটেছে তাঁর বেড়ে ওঠা। এই শহরের অলিগলি, নাগরিক জীবনের টানাপোড়েন এবং মানুষের বিচিত্র অভিজ্ঞতা তাঁর কবিতায় পেয়েছে অনন্য প্রকাশ।

কবিতায় নাগরিক জীবনের সুখ-দুঃখ তুলে ধরার পাশাপাশি বাঙালির ভাষা আন্দোলন, মুক্তির সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গৌরবময় অধ্যায়ও তুলে ধরেছেন শামসুর রাহমান। তাঁর কবিতায় উঠে এসেছে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, মানুষের অধিকার, সাম্য এবং শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন। জীবনের সত্য ও সুন্দরের অনুসন্ধান তাঁকে বাংলা কবিতায় স্বতন্ত্র অবস্থান দিয়েছে।

১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছড়া ও অনুবাদসহ বিভিন্ন ধারায় লিখেছেন তিনি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ৬৬টি কাব্যগ্রন্থ, চারটি উপন্যাস, একটি প্রবন্ধগ্রন্থ, একটি ছড়ার বই এবং ছয়টি অনুবাদগ্রন্থ।

সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শামসুর রাহমান স্বাধীনতা পদক, একুশে পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। বাংলা কবিতায় আধুনিক নাগরিক চেতনা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক প্রতিবাদের যে ধারা তিনি নির্মাণ করেছেন, তা তাঁকে পাঠকের কাছে আজও প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে।

২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন কবি শামসুর রাহমান। তাঁর প্রয়াণের পরও কবিতা, শব্দ ও চেতনার মধ্য দিয়ে তিনি বেঁচে আছেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের পাঠকের হৃদয়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নাগরিক কবি শামসুর রাহমানের ৯৮তম জন্মদিন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

নাগরিক জীবনের সুখ-দুঃখ, বেদনা, প্রেম ও প্রতিবাদের কবি শামসুর রাহমানের ৯৮তম জন্মদিন আজ শুক্রবার। ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকার মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান এই কবি।

শামসুর রাহমানের ডাকনাম ছিল বাচ্চু। তাঁর বাবা মোখলেসুর রাহমান চৌধুরী এবং মা আমেনা বেগম। লেখক হওয়ার প্রত্যয়ে নিজের নাম থেকে পৈতৃক উপাধি ‘চৌধুরী’ বাদ দেন তিনি। ঢাকাতেই কেটেছে তাঁর বেড়ে ওঠা। এই শহরের অলিগলি, নাগরিক জীবনের টানাপোড়েন এবং মানুষের বিচিত্র অভিজ্ঞতা তাঁর কবিতায় পেয়েছে অনন্য প্রকাশ।

কবিতায় নাগরিক জীবনের সুখ-দুঃখ তুলে ধরার পাশাপাশি বাঙালির ভাষা আন্দোলন, মুক্তির সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গৌরবময় অধ্যায়ও তুলে ধরেছেন শামসুর রাহমান। তাঁর কবিতায় উঠে এসেছে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, মানুষের অধিকার, সাম্য এবং শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন। জীবনের সত্য ও সুন্দরের অনুসন্ধান তাঁকে বাংলা কবিতায় স্বতন্ত্র অবস্থান দিয়েছে।

১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছড়া ও অনুবাদসহ বিভিন্ন ধারায় লিখেছেন তিনি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ৬৬টি কাব্যগ্রন্থ, চারটি উপন্যাস, একটি প্রবন্ধগ্রন্থ, একটি ছড়ার বই এবং ছয়টি অনুবাদগ্রন্থ।

সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শামসুর রাহমান স্বাধীনতা পদক, একুশে পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। বাংলা কবিতায় আধুনিক নাগরিক চেতনা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক প্রতিবাদের যে ধারা তিনি নির্মাণ করেছেন, তা তাঁকে পাঠকের কাছে আজও প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে।

২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন কবি শামসুর রাহমান। তাঁর প্রয়াণের পরও কবিতা, শব্দ ও চেতনার মধ্য দিয়ে তিনি বেঁচে আছেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের পাঠকের হৃদয়ে।