ঢাকা ১১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৮০ কোটি তরুণ বেকার হতে পারে, দারিদ্র্যে পড়তে পারে ১৩ কোটি মানুষ মন্ত্রীকে না জানিয়ে খাদ্যগুদাম পরিদর্শন, দায়িত্ব হারালেন এপিএস নিজের সন্তান নয়, তবু মৃত শাবককে বুকে আগলে ঘুরছে হাতি সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি: প্রতিমন্ত্রী টুকু ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দুই দিন আধা ঘণ্টা সময় দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ১০০ ফুট সড়কের ৯০ ফুটই বেদখল, চলাচলে চরম ভোগান্তি প্রথম ধাপে ৮০০ ইউপিতে ভোট, পেশিশক্তি দেখালেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা কওমি মাদ্রাসায় ছেলেশিশু যৌন নির্যাতন: বারবার ঘটছে, থামানো যাচ্ছে না কেন? ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত পোপ লিও, অস্ত্রোপচারে বাদ দেওয়া হলো একাংশ সৌদির আরামকো তেল শোধনাগারে হামলার দাবি, ক্ষয়ক্ষতি কতটা?

৮০ কোটি তরুণ বেকার হতে পারে, দারিদ্র্যে পড়তে পারে ১৩ কোটি মানুষ

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বজুড়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, ঋণসংকট ও জলবায়ু বিপর্যয়ের সম্মিলিত প্রভাবে গভীর অর্থনৈতিক চাপে পড়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে প্রায় ৮০ কোটি কর্মক্ষম তরুণ বেকারত্বের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি ও জলবায়ু সংকটের কারণে প্রায় ১৩ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।

সংস্থাটির নতুন প্রতিবেদন ‘নো টাইম টু রিকভার’-এ বৈশ্বিক অর্থনীতির এসব ঝুঁকির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানির বাড়তি দাম, ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ এবং জলবায়ু বিপর্যয়ের প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইউএনডিপির প্রধান আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলো একই সঙ্গে তিন ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। পরিস্থিতিকে ‘রেড অ্যালার্ট’ না হলেও ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর মতে, এসব দেশে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।

প্রতিবেদনে বিশেষভাবে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। কর্মসংস্থান বাড়ানো না গেলে তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পরিবর্তে বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।

ইউএনডিপির তথ্য অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলো সরকারি রাজস্বের প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় করে। উন্নত দেশগুলোর তুলনায় এ হার প্রায় তিন গুণ বেশি। ঋণের সুদ পরিশোধে বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় দুটি উদ্যোগ নিয়েছে ইউএনডিপি। বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক এবং ইউরোপীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে নেওয়া এসব উদ্যোগের লক্ষ্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ, জ্বালানি ব্যয়, ঋণের চাপ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব একসঙ্গে মোকাবিলা করতে না পারলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ আগামী বছরগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

৮০ কোটি তরুণ বেকার হতে পারে, দারিদ্র্যে পড়তে পারে ১৩ কোটি মানুষ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, ঋণসংকট ও জলবায়ু বিপর্যয়ের সম্মিলিত প্রভাবে গভীর অর্থনৈতিক চাপে পড়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে প্রায় ৮০ কোটি কর্মক্ষম তরুণ বেকারত্বের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি ও জলবায়ু সংকটের কারণে প্রায় ১৩ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।

সংস্থাটির নতুন প্রতিবেদন ‘নো টাইম টু রিকভার’-এ বৈশ্বিক অর্থনীতির এসব ঝুঁকির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানির বাড়তি দাম, ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ এবং জলবায়ু বিপর্যয়ের প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইউএনডিপির প্রধান আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলো একই সঙ্গে তিন ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। পরিস্থিতিকে ‘রেড অ্যালার্ট’ না হলেও ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর মতে, এসব দেশে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।

প্রতিবেদনে বিশেষভাবে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। কর্মসংস্থান বাড়ানো না গেলে তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পরিবর্তে বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।

ইউএনডিপির তথ্য অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলো সরকারি রাজস্বের প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় করে। উন্নত দেশগুলোর তুলনায় এ হার প্রায় তিন গুণ বেশি। ঋণের সুদ পরিশোধে বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় দুটি উদ্যোগ নিয়েছে ইউএনডিপি। বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক এবং ইউরোপীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে নেওয়া এসব উদ্যোগের লক্ষ্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ, জ্বালানি ব্যয়, ঋণের চাপ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব একসঙ্গে মোকাবিলা করতে না পারলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ আগামী বছরগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।