পিপিআর-এফএমডি নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি, সীমান্তে বাড়াতে হবে নজরদারি: প্রতিমন্ত্রী টুকু

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৩৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
ছাগল-ভেড়ার পিপিআর এবং গবাদিপশুর এফএমডি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তবে সীমান্ত অতিক্রমকারী প্রাণীরোগ হওয়ায় এসব রোগ নির্মূল ও দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণে একক দেশের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইতালির রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আয়োজিত ‘FAO Global Conference for Actions on One Health in Agrifood Systems’-এর একটি সাইড ইভেন্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ওয়ান হেলথ এবং সীমান্ত অতিক্রমকারী প্রাণীরোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের মাধ্যমে কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর’ শীর্ষক আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, পিপিআর ও এফএমডি মোকাবিলায় বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা, টেকসই অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তা আরও বাড়ানো জরুরি।
তিনি বলেন, বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ), এফএও, উন্নয়ন সহযোগী এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় কার্যকর টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি সক্রিয় নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
২০৩০ সালের মধ্যে পিপিআরমুক্ত হওয়ার লক্ষ্য
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ছাগল ও ভেড়ার পিপিআরমুক্ত মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে। ডব্লিউওএএইচ-এর বৈশ্বিক কৌশল এবং ২০২৪-২০২৮ মেয়াদের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনার আওতায় দেশজুড়ে পিপিআর টিকাদান কার্যক্রম চলছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নজরদারিতে কোনো প্রাদুর্ভাব শনাক্ত না হওয়ায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ডব্লিউওএএইচ-এর কাছে পিপিআর নির্মূল কর্মসূচির ডসিয়ার জমা দিয়েছে বাংলাদেশ।
এফএমডি নিয়ন্ত্রণেও ধারাবাহিক কর্মসূচি
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রগ্রেসিভ কন্ট্রোল পাথওয়ে’ অনুসরণ করে ২০২৫-২০২৮ মেয়াদের জন্য এফএমডি নিয়ন্ত্রণ কৌশল প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে লক্ষ্যভিত্তিক এফএমডি টিকাদানের ছয়টি ধাপ শেষ হয়েছে এবং সপ্তম ধাপের কার্যক্রম চলছে।
নিরাপদ ও টেকসই মাংস রপ্তানির ভিত্তি তৈরির পাশাপাশি এফএমডিমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এফএও-এর কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ এফএমডির জন্য ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন এবং প্রাণীরোগের প্রাদুর্ভাব তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া বিষয়ক ফিল্ড ম্যানুয়াল তৈরি করেছে।
এ ছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জাতীয় এফএমডি নিয়ন্ত্রণ কৌশল ২০২৫-২০২৮ এবং পিপিআর নির্মূলের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪-২০২৮ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে।
SAT1 নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
এফএমডির SAT1 সেরোটাইপের বিস্তার নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বাড়ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশে এখনো এই সেরোটাইপ শনাক্ত হয়নি। তবে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সীমান্ত পারাপার, প্রাণিসম্পদের চলাচল, প্রাণিসম্পদ-সম্পর্কিত উপকরণ আমদানি এবং ঈদুল আজহাকে ঘিরে পশু চলাচল বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশে এটি প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্যানেল আলোচনায় তানজানিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুইগুলু লামেক নচেম্বা, চাঁদের প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আবদেরাহিম আওয়াত আবেইথ, ক্যামেরুনের প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও প্রাণী শিল্পবিষয়ক মন্ত্রী তাইগা, নাইজেরিয়ার প্রাণিসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ইদি মুখতার মাইহা, মঙ্গোলিয়ার খাদ্য, কৃষি ও হালকা শিল্প মন্ত্রণালয়ের স্টেট সেক্রেটারি জামবালসেরেন তুমুর-উয়া, আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের ড. ওয়ার্কনেহ গেবেয়েহু এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মার্টিন সেলমায়ারসহ সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।






















