আদালতের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই রাতে পুকুরে মাছ ধরেন ইউএনও

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি পুকুর থেকে রাতের আঁধারে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী আব্দুল হাকিমের দাবি, ইউএনওর উপস্থিতিতেই রহনপুর ইউনিয়নের ভাগলপুর মৌজার চাতরা পুকুর থেকে মাছ ধরা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভাগলপুর মৌজার দাগ নম্বর ৬০৮-এ প্রায় ৩ দশমিক ৫৯ একর আয়তনের চাতরা পুকুরটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। এ বিষয়ে মামলা নম্বর ১১/২০২৪। মামলা বিচারাধীন থাকায় পুকুরটির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে দাবি করেছেন আব্দুল হাকিম।
অভিযোগকারী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি পারিবারিকভাবে ওই পুকুরে মাছ চাষ করে আসছেন। তাঁর দাবি, প্রায় ১০ বছর ধরে পুকুরটির মাছ চাষের সঙ্গে তিনি যুক্ত। পরে পুকুরটি সরকারি ইজারার আওতায় নেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।
আব্দুল হাকিমের ভাষ্য, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে দেওয়া হয়েছিল। এরপরও তাঁকে কোনো নোটিশ না দিয়ে রাতে পুকুরে মাছ ধরার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, “গত রাতে ইউএনও জিল্লুর রহমানের উপস্থিতিতে পুকুর থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরা হয়েছে। প্রায় ৩০ মণ মাছ ধরে নেওয়া হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি। আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর পরও এমন ঘটনা ঘটায় আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।”
আব্দুল হাকিম আরও বলেন, “আমি বিএনপি পরিবারের সন্তান হয়েও আমার ওপর এমন জুলুমের শিকার হয়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে সেটি অমান্য করে কোনো পক্ষেরই পুকুর থেকে মাছ ধরার সুযোগ থাকার কথা নয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও জিল্লুর রহমানের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, পুকুরটির ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল কি না এবং অভিযোগ অনুযায়ী মাছ ধরার ঘটনায় ইউএনওর উপস্থিতি বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না—এসব বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

























