হরিজন পরিবার থেকে উঠে এসে শিক্ষার বিভাগীয় প্রধান সুমা বাঁসফোর

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
মৌলভীবাজারের একটি সাধারণ হরিজন পরিবার থেকে উঠে এসে শিক্ষার শক্তিতে নিজের জীবনের গতিপথ বদলে দিয়েছেন সুমা বাঁসফোর। নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা শেষ করে এখন তিনি সরকারি কলেজের শিক্ষক। শুধু শিক্ষকতাই নয়, দায়িত্ব পালন করছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবেও।
সুমা বাঁসফোরের এই পথচলা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তরুণদের জন্যও এটি হয়ে উঠেছে সম্ভাবনা ও আত্মবিশ্বাসের অনুপ্রেরণার উদাহরণ।
পড়াশোনার পথে পরিবারের সমর্থন
মৌলভীবাজার পৌরসভার ক্লাব রোড এলাকার এক হরিজন পরিবারে জন্ম সুমা বাঁসফোরের। বাবা বুধু বাঁসফোর ও মা তারাবতী বাঁসফোর। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হলেও মেয়ের পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াননি তাঁরা। বরং পরিবারের সহযোগিতা ও নিজের প্রবল আগ্রহকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যান সুমা।
১৯৯৮ সালে মৌলভীবাজার আলী আমজাদ সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি পাস করেন তিনি। এরপর মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।
উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতায় একই কলেজ থেকে ২০০৯ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেন সুমা। পরে ২০১০ সালে জামালপুরের আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে একই বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
শিক্ষকতা থেকে বিভাগীয় প্রধান
দীর্ঘ শিক্ষাজীবন শেষে শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন সুমা বাঁসফোর। বর্তমানে তিনি জামালপুরের ইসলামপুর সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি ওই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান।
একটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পরিবার থেকে উঠে এসে সরকারি কলেজের একটি বিভাগের নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছানো তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে সুমার কাছে এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়। তাঁর পথচলার মধ্য দিয়ে নিজের সম্প্রদায়ের নতুন প্রজন্মও যেন শিক্ষার মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পায়—এটাই তাঁর প্রত্যাশা।
‘প্রতিকূলতাকে ভয় পেলে চলবে না’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সুমার পরামর্শ, প্রতিকূল পরিস্থিতিকে ভয় না পেয়ে আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। সমাজের নেতিবাচক কথাকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের লক্ষ্য ও যোগ্যতার ওপর আস্থা রাখাকেই তিনি সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি মনে করেন।
সুমা বাঁসফোরের গল্প তাই কেবল একটি পরিবারের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে উঠে আসার গল্প নয়; এটি শিক্ষার শক্তিতে সামাজিক ও আর্থিক বাধা অতিক্রম করে নিজের জায়গা তৈরি করার গল্প।
হরিজন সম্প্রদায়ের একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে আজ তিনি সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান। তাঁর এই অবস্থান প্রান্তিক পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি দৃশ্যমান বার্তা—সুযোগ, অধ্যবসায় ও শিক্ষার শক্তি থাকলে সীমাবদ্ধতার গণ্ডি পেরিয়ে নিজের পরিচয়ের নতুন দিগন্ত তৈরি করা সম্ভব।





















