পাটকাঠি থেকে সুপারক্যাপাসিটর, নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে মাভাবিপ্রবি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:২৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
পাটকাঠি আর কৃষিজ বর্জ্য নয়—আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে হতে পারে উচ্চমূল্যের উপাদান, এমনকি শক্তি সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। এমনই সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একটি উদ্ভাবনী প্রকল্প।
ঢাকার রাজধানীর নভোথিয়েটারে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ প্রকল্পটি প্রদর্শন করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে শুক্রবার শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য—‘Innovate to Market’ বা ‘উদ্ভাবন থেকে বাজার’।
পাট থেকে উচ্চমূল্যের উপাদান তৈরির চেষ্টা
মাভাবিপ্রবির প্রকল্পটির শিরোনাম ‘Shaping the Future with Jute Fiber: Development and Commercialization of Innovative Materials’। পাট ও পাটজাত অবশিষ্টাংশকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চমূল্যের ও পরিবেশবান্ধব উপাদানে রূপান্তর করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
প্রকল্পের অংশ হিসেবে পাটকাঠিকে পাইরোলাইসিস প্রক্রিয়ায় বায়োচার ও অ্যাক্টিভেটেড কার্বনে রূপান্তরের প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি এই অ্যাক্টিভেটেড কার্বন ব্যবহার করে ইলেকট্রোড উপাদান ও সুপারক্যাপাসিটর তৈরির সম্ভাবনাও প্রদর্শন করা হচ্ছে।
পাটের সেলুলোজ-লিগনিনে লুকিয়ে সম্ভাবনা
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং Jute Polymer Nanotechnology Research Group-এর প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার বলেন, পাটের মধ্যে থাকা মূল্যবান পলিমার আহরণ করে উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন উপাদান তৈরি করা সম্ভব।
তিনি বলেন, পাটে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ সেলুলোজ এবং ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ লিগনিন রয়েছে। এসব উপাদান কাজে লাগিয়ে নতুন ধরনের মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি করা যেতে পারে।
অধ্যাপক মাহবুবুল বাশার বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে পাট থেকে ন্যানো সেলুলোজ তৈরি করেছি এবং তা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পাটের লিগনিন আহরণ ও প্রক্রিয়াকরণের কাজও চলছে। পাটকাঠি থেকে উচ্চ শোষণক্ষমতাসম্পন্ন কার্বন তৈরি করেছি, যা শক্তি সংরক্ষণ ও গ্রিন এনার্জির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।’
চিকিৎসা ও শিল্পেও ব্যবহারের সম্ভাবনা
পাটের সেলুলোজ থেকে চিকিৎসা খাতেও বিভিন্ন ধরনের পলিমার তৈরি করা সম্ভব বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, পাটভিত্তিক এসব উপাদানের বাণিজ্যিকীকরণ করা গেলে নতুন শিল্প গড়ে ওঠার পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখা সম্ভব।
প্রকল্প টিমের সদস্যরা হলেন প্রভাষক মো. শাহাবুল হোসেন, সহকারী ব্যবস্থাপক মো. খাইরুল ইসলাম এবং মো. আব্দুর রহমান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কৃষিজ অবশিষ্ট হিসেবে পড়ে থাকা পাটকাঠিকে শক্তি সংরক্ষণে ব্যবহারযোগ্য উপাদানে রূপান্তরের এই উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিতে পারে। একই সঙ্গে পাটভিত্তিক উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরির মাধ্যমে দেশের ঐতিহ্যবাহী এ কৃষিপণ্যের বহুমুখী ব্যবহার ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও বাড়বে।























