ঢাকা ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ভাই-বোনসহ ৪ জনের পৃথিবীর আলো দেখা হলো না অনাগত সন্তানের, ডেঙ্গুতে মৃত্যু স্কুল শিক্ষিকার পদ্মায় ইলিশের আকাল! চাহিদা মেটাতে ভারতে থেকে আসছে টন টন মাছ বিদ্যুতের পুঞ্জীভূত সংকটে শুধু মন্ত্রীকে দোষারোপ কতটা যৌক্তিক? মোদির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ফের রং বদলাবেন জিনপিং? পুলক দা’র অভিমান নাইকোকে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ, জয় বাংলাদেশের অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি, জামালপুরে ডিলারকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা ‘শত শত ডিসেম্বর চলে যাবে, শেখ হাসিনা আর ফিরবেন না’ স্কুলে ভর্তিতে ফিরছে পরীক্ষা, ৩ বিষয়ে ১০০ নম্বরের লড়াই

পৃথিবীর আলো দেখা হলো না অনাগত সন্তানের, ডেঙ্গুতে মৃত্যু স্কুল শিক্ষিকার

চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আর মাত্র এক মাস। এরপরই প্রথম সন্তানের মুখ দেখার কথা ছিল অর্পিতা দাশের। ঘরজুড়ে তখন নতুন অতিথিকে বরণ করার প্রস্তুতি, অপেক্ষা আর স্বপ্ন। সম্ভাব্য প্রসবের তারিখও ঠিক হয়েছিল ১২ অক্টোবর।

কিন্তু সেই অপেক্ষা আর শেষ হলো না। এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু কেড়ে নিল অর্পিতার প্রাণ। মায়ের সঙ্গে পৃথিবীর আলো দেখা হলো না তাঁর গর্ভে থাকা অনাগত সন্তানেরও।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অর্পিতা দাশ।

অর্পিতা নগরীর পাথরঘাটা এলাকার সানরাইজ গ্রামার স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি কাস্টমস কর্মী মিঠুন চৌধুরীর স্ত্রী। এটি ছিল তাঁদের প্রথম সন্তান।

পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর অর্পিতার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরদিনই তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার তাঁকে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে আইসিইউতে ভর্তি করা হয় তাঁকে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, অর্পিতা ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁকে হাসপাতালে আনার পর আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে মা মারা যাওয়ার সঙ্গে তাঁর গর্ভে থাকা সন্তানটিও মারা যায়।

একই দিনে আরও এক শিশুর মৃত্যু

এদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে আবরার নামে আট বছর বয়সী এক শিশুরও মৃত্যু হয়েছে। নগরীর হালিশহর এলাকার বাসিন্দা শিশুটির মৃত্যু হয় গত বুধবার।

শনিবার চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত নিয়মিত ডেঙ্গু পরিস্থিতির তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১২ দিনেই চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আর চলতি বছর এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।

একদিকে অনাগত সন্তানকে ঘিরে নতুন জীবনের স্বপ্ন, অন্যদিকে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই স্বপ্নের এমন করুণ পরিণতি—চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা যেন আরও একবার সামনে এনে দিল অর্পিতা ও তাঁর সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যু।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পৃথিবীর আলো দেখা হলো না অনাগত সন্তানের, ডেঙ্গুতে মৃত্যু স্কুল শিক্ষিকার

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আর মাত্র এক মাস। এরপরই প্রথম সন্তানের মুখ দেখার কথা ছিল অর্পিতা দাশের। ঘরজুড়ে তখন নতুন অতিথিকে বরণ করার প্রস্তুতি, অপেক্ষা আর স্বপ্ন। সম্ভাব্য প্রসবের তারিখও ঠিক হয়েছিল ১২ অক্টোবর।

কিন্তু সেই অপেক্ষা আর শেষ হলো না। এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু কেড়ে নিল অর্পিতার প্রাণ। মায়ের সঙ্গে পৃথিবীর আলো দেখা হলো না তাঁর গর্ভে থাকা অনাগত সন্তানেরও।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অর্পিতা দাশ।

অর্পিতা নগরীর পাথরঘাটা এলাকার সানরাইজ গ্রামার স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি কাস্টমস কর্মী মিঠুন চৌধুরীর স্ত্রী। এটি ছিল তাঁদের প্রথম সন্তান।

পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর অর্পিতার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরদিনই তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার তাঁকে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে আইসিইউতে ভর্তি করা হয় তাঁকে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, অর্পিতা ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁকে হাসপাতালে আনার পর আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে মা মারা যাওয়ার সঙ্গে তাঁর গর্ভে থাকা সন্তানটিও মারা যায়।

একই দিনে আরও এক শিশুর মৃত্যু

এদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে আবরার নামে আট বছর বয়সী এক শিশুরও মৃত্যু হয়েছে। নগরীর হালিশহর এলাকার বাসিন্দা শিশুটির মৃত্যু হয় গত বুধবার।

শনিবার চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত নিয়মিত ডেঙ্গু পরিস্থিতির তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১২ দিনেই চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আর চলতি বছর এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।

একদিকে অনাগত সন্তানকে ঘিরে নতুন জীবনের স্বপ্ন, অন্যদিকে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই স্বপ্নের এমন করুণ পরিণতি—চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা যেন আরও একবার সামনে এনে দিল অর্পিতা ও তাঁর সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যু।