ঢাকা ১০:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মায় ইলিশের আকাল! চাহিদা মেটাতে ভারতে থেকে আসছে টন টন মাছ

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৮:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাঙালির পাতে ইলিশ মানেই বাড়তি আনন্দ। আর দুর্গাপুজোর সময় সেই ইলিশের চাহিদা যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে পদ্মার ইলিশ হলে তো কথাই নেই। কিন্তু এবার সেই চিত্রে যেন উল্টো স্রোত!

বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদা মেটাতে ভারতের দ্বারস্থ হয়েছে ঢাকা। আর অবাক করার মতো বিষয় হলো, বাংলাদেশে যাচ্ছে ভারতের গুজরাতের ইলিশ—যে রাজ্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের রাজ্য।

তথ্য বলছে, গত দুই মাসে গুজরাত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। শুধু গুজরাতের ভারুচ বন্দর নয়, পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পাইকারি মাছ বাজার থেকেও বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে ইলিশ।

পদ্মায় ইলিশের খরা?

ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় দেশ বাংলাদেশ। দেশের বিপুল পরিমাণ ইলিশ পদ্মাসহ বিভিন্ন নদী ও উপকূলীয় অঞ্চল থেকে ধরা হয়। স্বাদ ও গুণের কারণে বাংলাদেশের ইলিশের আলাদা কদর রয়েছে।

মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, বিশ্বের মোট ইলিশের বড় একটি অংশ বাংলাদেশি জেলেদের জালে ধরা পড়ে। কিন্তু চলতি মৌসুমে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে তৈরি হয়েছে ঘাটতি। সেই ঘাটতি পূরণেই ভারতের ইলিশের দিকে নজর দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

গত কয়েক দিনে গুজরাতের ভারুচ বন্দর দিয়ে এবং হাওড়ার পাইকারি মাছ বাজার থেকে ধাপে ধাপে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

গুজরাতের ইলিশ কেন?

হাওড়া পাইকারি ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ বলেন, বাংলাদেশে এবারই প্রথম ইলিশ রপ্তানি করেছে তাদের বাজার। সাধারণত হাওড়া থেকে রুই, পারসে, ট্যাংরাসহ বিভিন্ন মাছ বাংলাদেশে পাঠানো হয়। তবে এবার বাংলাদেশে ইলিশের ঘাটতি থাকায় সেখানেও ইলিশ পাঠানো হচ্ছে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশে যাচ্ছে গুজরাতের ইলিশ কেন?

সৈয়দ আনোয়ার মকসুদের ব্যাখ্যা, এবার গুজরাতে ইলিশের উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফলে তুলনামূলক কম দামে এই মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এসব ইলিশের বড় অংশে ডিম থাকায় দামও তুলনামূলক কম।

তাঁর দাবি, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ইলিশের ডিম আলাদাভাবে বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় নোনা মাছ খাওয়ারও প্রচলন রয়েছে। ফলে গুজরাতের ইলিশের চাহিদাও তৈরি হয়েছে।

আরও আসছে গুজরাতের ইলিশ

বাংলাদেশের বাজারে ইলিশের ঘাটতি চলতে থাকলে ভারত থেকে আরও ইলিশ পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানান, বাংলাদেশে আরও ১০০ থেকে ১৫০ টন গুজরাতের ইলিশ পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

তবে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে—দুর্গাপুজোর উৎসবে বাঙালির পাতে এবার কি উঠবে সেই চেনা পদ্মার ইলিশ? নাকি পদ্মার ঘাটতি সামাল দিতে জায়গা করে নেবে মোদির রাজ্য গুজরাতের ইলিশ?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পদ্মায় ইলিশের আকাল! চাহিদা মেটাতে ভারতে থেকে আসছে টন টন মাছ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৮:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাঙালির পাতে ইলিশ মানেই বাড়তি আনন্দ। আর দুর্গাপুজোর সময় সেই ইলিশের চাহিদা যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে পদ্মার ইলিশ হলে তো কথাই নেই। কিন্তু এবার সেই চিত্রে যেন উল্টো স্রোত!

বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদা মেটাতে ভারতের দ্বারস্থ হয়েছে ঢাকা। আর অবাক করার মতো বিষয় হলো, বাংলাদেশে যাচ্ছে ভারতের গুজরাতের ইলিশ—যে রাজ্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের রাজ্য।

তথ্য বলছে, গত দুই মাসে গুজরাত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। শুধু গুজরাতের ভারুচ বন্দর নয়, পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পাইকারি মাছ বাজার থেকেও বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে ইলিশ।

পদ্মায় ইলিশের খরা?

ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় দেশ বাংলাদেশ। দেশের বিপুল পরিমাণ ইলিশ পদ্মাসহ বিভিন্ন নদী ও উপকূলীয় অঞ্চল থেকে ধরা হয়। স্বাদ ও গুণের কারণে বাংলাদেশের ইলিশের আলাদা কদর রয়েছে।

মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, বিশ্বের মোট ইলিশের বড় একটি অংশ বাংলাদেশি জেলেদের জালে ধরা পড়ে। কিন্তু চলতি মৌসুমে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে তৈরি হয়েছে ঘাটতি। সেই ঘাটতি পূরণেই ভারতের ইলিশের দিকে নজর দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

গত কয়েক দিনে গুজরাতের ভারুচ বন্দর দিয়ে এবং হাওড়ার পাইকারি মাছ বাজার থেকে ধাপে ধাপে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

গুজরাতের ইলিশ কেন?

হাওড়া পাইকারি ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ বলেন, বাংলাদেশে এবারই প্রথম ইলিশ রপ্তানি করেছে তাদের বাজার। সাধারণত হাওড়া থেকে রুই, পারসে, ট্যাংরাসহ বিভিন্ন মাছ বাংলাদেশে পাঠানো হয়। তবে এবার বাংলাদেশে ইলিশের ঘাটতি থাকায় সেখানেও ইলিশ পাঠানো হচ্ছে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশে যাচ্ছে গুজরাতের ইলিশ কেন?

সৈয়দ আনোয়ার মকসুদের ব্যাখ্যা, এবার গুজরাতে ইলিশের উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফলে তুলনামূলক কম দামে এই মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এসব ইলিশের বড় অংশে ডিম থাকায় দামও তুলনামূলক কম।

তাঁর দাবি, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ইলিশের ডিম আলাদাভাবে বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় নোনা মাছ খাওয়ারও প্রচলন রয়েছে। ফলে গুজরাতের ইলিশের চাহিদাও তৈরি হয়েছে।

আরও আসছে গুজরাতের ইলিশ

বাংলাদেশের বাজারে ইলিশের ঘাটতি চলতে থাকলে ভারত থেকে আরও ইলিশ পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানান, বাংলাদেশে আরও ১০০ থেকে ১৫০ টন গুজরাতের ইলিশ পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

তবে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে—দুর্গাপুজোর উৎসবে বাঙালির পাতে এবার কি উঠবে সেই চেনা পদ্মার ইলিশ? নাকি পদ্মার ঘাটতি সামাল দিতে জায়গা করে নেবে মোদির রাজ্য গুজরাতের ইলিশ?