ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মীর শাহে আলম।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৩১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

পুরনো ছবি

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন—স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতার সিদ্ধান্ত নেবে ইসি

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না—এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার আইনে প্রজাতন্ত্র, পরিষদ বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের অযোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। তবে নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার আইন, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের নীতিমালা পর্যালোচনা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মতামত চাইলে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে।

যেসব পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না

মীর শাহে আলম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান বা মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর—কোনো পদেই নির্বাচনে অংশ নিতে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সংবিধান ও আইনে যেহেতু এ ধরনের শর্ত রাখা হয়নি, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনেও জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

‘প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও মানুষ শিক্ষিত হতে পারেন’

শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত না রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় হয়ে যেতে পারে। একজন সমাজসেবক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও স্বশিক্ষিত হতে পারেন।

তাঁর ভাষ্য, কোনো ব্যক্তি কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না গেলেও তাঁর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থাকতে পারে। জনপ্রতিনিধি হওয়ার মতো যোগ্যতা থাকলে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সাংবিধানিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মীর শাহে আলম।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৩১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন—স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতার সিদ্ধান্ত নেবে ইসি

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না—এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার আইনে প্রজাতন্ত্র, পরিষদ বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের অযোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। তবে নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার আইন, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের নীতিমালা পর্যালোচনা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মতামত চাইলে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে।

যেসব পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না

মীর শাহে আলম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান বা মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর—কোনো পদেই নির্বাচনে অংশ নিতে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সংবিধান ও আইনে যেহেতু এ ধরনের শর্ত রাখা হয়নি, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনেও জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

‘প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও মানুষ শিক্ষিত হতে পারেন’

শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত না রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় হয়ে যেতে পারে। একজন সমাজসেবক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও স্বশিক্ষিত হতে পারেন।

তাঁর ভাষ্য, কোনো ব্যক্তি কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না গেলেও তাঁর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থাকতে পারে। জনপ্রতিনিধি হওয়ার মতো যোগ্যতা থাকলে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সাংবিধানিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।