মাদক ও কিশোর গ্যাং ঠেকাতে মাঠে নামছে কাবাডি, ইউনিয়ন থেকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
‘মাদকদ্রব্য ত্যাগ করি, কিশোর গ্যাং নির্মূল করি, সুস্থ-সবল জীবন গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশজুড়ে তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। এর অংশ হিসেবে আয়োজন হতে যাচ্ছে ‘১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬’।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) যশোর জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ও অপস) মো. মিরাজুল ইসলাম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। খুলনা রেঞ্জের আইজিপির নির্দেশনা এবং যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম পিপিএম (সেবা)-এর তত্ত্বাবধানে এ আয়োজন করা হচ্ছে।
মিরাজুল ইসলাম বলেন, এটি শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ও সম্ভাবনাময় তরুণ খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করারও একটি উদ্যোগ। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মাদকের ভয়াবহতা ও কিশোর অপরাধ থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি ইতিবাচক ও সুস্থ সমাজ গড়ে তোলাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
আয়োজকদের মতে, ক্রীড়াঙ্গনে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়লে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি হবে। একই সঙ্গে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক আস্থাও আরও জোরদার হবে।
ইউনিয়ন থেকে জাতীয় পর্যায়ে কাবাডির লড়াই
প্রতিযোগিতাটি ধাপে ধাপে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। শুরুতে ইউনিয়ন পর্যায়ে নারী ও পুরুষের কাবাডি দল গঠন করা হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে সেখান থেকে উপজেলা চ্যাম্পিয়ন দল বাছাই করা হবে।
পরে সব উপজেলা চ্যাম্পিয়ন দলকে নিয়ে জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে নির্বাচিত হবে জেলা চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল। এরপর বিভাগীয় পর্ব পেরিয়ে প্রতিযোগিতা গড়াবে জাতীয় পর্যায়ে।
কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সার্বিক সহযোগিতায় এবং সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থার পরামর্শ ও সমন্বয়ে প্রতিযোগিতাটি পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন এ আয়োজনের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেবে।
ক্রীড়ার মাধ্যমে অপরাধ থেকে দূরে রাখার লক্ষ্য
পুলিশের এই উদ্যোগে কাবাডিকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, তরুণদের সামাজিকভাবে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার হাতিয়ার হিসেবে দেখানো হচ্ছে। মাদকাসক্তি ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধপ্রবণতা থেকে তরুণদের দূরে রাখতে মাঠমুখী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আয়োজকদের ভাষ্য, তরুণদের সামনে খেলাধুলাকে বিকল্প ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ড হিসেবে তুলে ধরতে পারলে তাদের অপরাধপ্রবণতা কমানোর পাশাপাশি সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়ও বেরিয়ে আসবে।
একই সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে এ প্রতিযোগিতা একদিকে যেমন সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে ক্রীড়াক্ষেত্রেও নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার সুযোগ তৈরি করবে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে পুলিশ-জনগণের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার প্রত্যাশাও করছে আয়োজকরা। তরুণদের উদ্দেশে তাদের বার্তা—‘যদি ক্রীড়া হয় পেশা, পরিবার পাবে ভরসা।’
মাদক ও কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে মাঠের খেলাকেই হাতিয়ার করে দেশব্যাপী এই কাবাডি প্রতিযোগিতা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
























