ঢাকা ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

স্থানীয় নির্বাচনে ‘স্বতন্ত্র’ কৌশলে মাঠে নামতে চায় আওয়ামী লীগ

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১২:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগ। বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দলটির অনুকূলে না থাকলেও সরাসরি দলীয় পরিচয়ে নয়, বরং বিভিন্ন বিকল্প কৌশলে নির্বাচনী মাঠে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের দাবি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দল-সমর্থিত ব্যক্তিদের মাঠে রাখার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দলীয় পদ-পদবি নেই, এমন ব্যক্তি—বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী, গ্রহণযোগ্য ও সামাজিকভাবে পরিচিতদের প্রার্থী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দলটির নেতারা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য শুধু জয়লাভ নয়; বরং মাঠের বাস্তবতা বোঝা, কার্যকর রাজনৈতিক ইস্যু চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির কর্মপরিকল্পনা তৈরি করাও এর অংশ।

পদধারী নেতাদের বাইরে রাখার পরিকল্পনা

আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় পদ-পদবিধারী নেতাদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী করা হবে না। তাদের আশঙ্কা, বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার পদধারী আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্বাচনের মাঠে থাকতে বাধা দিতে পারে।

তাদের ভাষ্য, মামলা, গ্রেপ্তার কিংবা অন্যান্য চাপের কারণে দলীয় পদধারী নেতাদের ভোটের মাঠে রাখা কঠিন হতে পারে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এবার এমন ব্যক্তিদের সামনে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাদের সরাসরি দলীয় পদ-পদবি নেই।

দলটির নেতাদের দাবি, প্রার্থীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী, পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, প্রগতিশীল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতিতে সক্রিয় বা সমর্থক ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

‘আওয়ামী লীগ পরিবারের’ নতুন মুখ

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেবে এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তার ভাষ্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলীয় ব্যানারে প্রকাশ্যে নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই পদ-পদবিহীন কিন্তু আওয়ামী লীগ পরিবারের সঙ্গে যুক্ত এবং স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তি, সমাজসেবী, দানশীল, শিক্ষিত ও মার্জিত ব্যক্তিদের পাশাপাশি তরুণদেরও প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান এবং ষাট ও সত্তরের দশকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলোর সন্তান ও স্বজনরা এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেতে পারেন।

৫ আগস্টের পরও স্থানীয়ভাবে টিকে থাকা এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকা পরিবারগুলোর সদস্যদেরও নির্বাচনে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

১০ হাজার প্রার্থীর তালিকা?

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের দাবি, স্থানীয় নির্বাচনে দলটির সমর্থন পেতে পারেন—এমন প্রার্থীদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের যোগাযোগ হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ওই নেতা দাবি করেন, সারা দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রায় ১০ হাজার সম্ভাব্য প্রার্থীর একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্য থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ে প্রার্থী বাছাই করা হবে।

তার ভাষ্য, যারা ৫ আগস্টের পর অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন, প্রকাশ্যে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলার সাহস দেখিয়েছেন এবং সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থেকেও আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান—তাদের বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

নির্দলীয় নির্বাচনকেই সুযোগ হিসেবে দেখছে দলটি

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়—এই দুই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই দলটি এবার কৌশল নির্ধারণ করছে।

তিনি বলেন, দলীয় পদধারী নেতাদের সরাসরি প্রার্থী করার সুযোগ না থাকলেও স্থানীয়ভাবে কারা প্রভাবশালী, কারা দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ পরিবারের সঙ্গে যুক্ত, কারা প্রগতিশীল এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী—এসব বিবেচনায় নিয়ে একটি তালিকা করা হয়েছে।

ওই তালিকা অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

‘সব ধরনের প্রস্তুতি আছে’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরাফাত এ রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে সব ধরনের প্রস্তুতি দলটি নিয়ে রেখেছে।

তার বক্তব্য, স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় আওয়ামী লীগকে সরাসরি নির্বাচনের বাইরে রাখার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। এ জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিভিন্ন বিকল্প নিয়েও দলটি আগেই চিন্তাভাবনা করেছে।

তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় দলটি কীভাবে সাংগঠনিকভাবে নির্বাচনে ভূমিকা রাখবে এবং মাঠপর্যায়ে প্রার্থীদের সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করবে—সেটিই এখন আওয়ামী লীগের কৌশলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

স্থানীয় নির্বাচনে ‘স্বতন্ত্র’ কৌশলে মাঠে নামতে চায় আওয়ামী লীগ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১২:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগ। বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দলটির অনুকূলে না থাকলেও সরাসরি দলীয় পরিচয়ে নয়, বরং বিভিন্ন বিকল্প কৌশলে নির্বাচনী মাঠে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের দাবি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দল-সমর্থিত ব্যক্তিদের মাঠে রাখার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দলীয় পদ-পদবি নেই, এমন ব্যক্তি—বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী, গ্রহণযোগ্য ও সামাজিকভাবে পরিচিতদের প্রার্থী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দলটির নেতারা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য শুধু জয়লাভ নয়; বরং মাঠের বাস্তবতা বোঝা, কার্যকর রাজনৈতিক ইস্যু চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির কর্মপরিকল্পনা তৈরি করাও এর অংশ।

পদধারী নেতাদের বাইরে রাখার পরিকল্পনা

আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় পদ-পদবিধারী নেতাদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী করা হবে না। তাদের আশঙ্কা, বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার পদধারী আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্বাচনের মাঠে থাকতে বাধা দিতে পারে।

তাদের ভাষ্য, মামলা, গ্রেপ্তার কিংবা অন্যান্য চাপের কারণে দলীয় পদধারী নেতাদের ভোটের মাঠে রাখা কঠিন হতে পারে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এবার এমন ব্যক্তিদের সামনে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাদের সরাসরি দলীয় পদ-পদবি নেই।

দলটির নেতাদের দাবি, প্রার্থীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী, পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, প্রগতিশীল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতিতে সক্রিয় বা সমর্থক ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

‘আওয়ামী লীগ পরিবারের’ নতুন মুখ

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেবে এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তার ভাষ্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলীয় ব্যানারে প্রকাশ্যে নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই পদ-পদবিহীন কিন্তু আওয়ামী লীগ পরিবারের সঙ্গে যুক্ত এবং স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তি, সমাজসেবী, দানশীল, শিক্ষিত ও মার্জিত ব্যক্তিদের পাশাপাশি তরুণদেরও প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান এবং ষাট ও সত্তরের দশকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলোর সন্তান ও স্বজনরা এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেতে পারেন।

৫ আগস্টের পরও স্থানীয়ভাবে টিকে থাকা এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকা পরিবারগুলোর সদস্যদেরও নির্বাচনে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

১০ হাজার প্রার্থীর তালিকা?

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের দাবি, স্থানীয় নির্বাচনে দলটির সমর্থন পেতে পারেন—এমন প্রার্থীদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের যোগাযোগ হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ওই নেতা দাবি করেন, সারা দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রায় ১০ হাজার সম্ভাব্য প্রার্থীর একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্য থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ে প্রার্থী বাছাই করা হবে।

তার ভাষ্য, যারা ৫ আগস্টের পর অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন, প্রকাশ্যে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলার সাহস দেখিয়েছেন এবং সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থেকেও আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান—তাদের বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

নির্দলীয় নির্বাচনকেই সুযোগ হিসেবে দেখছে দলটি

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়—এই দুই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই দলটি এবার কৌশল নির্ধারণ করছে।

তিনি বলেন, দলীয় পদধারী নেতাদের সরাসরি প্রার্থী করার সুযোগ না থাকলেও স্থানীয়ভাবে কারা প্রভাবশালী, কারা দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ পরিবারের সঙ্গে যুক্ত, কারা প্রগতিশীল এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী—এসব বিবেচনায় নিয়ে একটি তালিকা করা হয়েছে।

ওই তালিকা অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

‘সব ধরনের প্রস্তুতি আছে’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরাফাত এ রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে সব ধরনের প্রস্তুতি দলটি নিয়ে রেখেছে।

তার বক্তব্য, স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় আওয়ামী লীগকে সরাসরি নির্বাচনের বাইরে রাখার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। এ জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিভিন্ন বিকল্প নিয়েও দলটি আগেই চিন্তাভাবনা করেছে।

তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় দলটি কীভাবে সাংগঠনিকভাবে নির্বাচনে ভূমিকা রাখবে এবং মাঠপর্যায়ে প্রার্থীদের সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করবে—সেটিই এখন আওয়ামী লীগের কৌশলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।