ঢাকা ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদক কারবারে কোটিপতি, গাজীপুরে আলোচনায় আট নারী ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল মা-মেয়ের মরদেহ, জকিগঞ্জে চাঞ্চল্য কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের আস্তানা, ছয় মাসে শত কোটি টাকা লুট! বড় ঋণ খেলাপিরা কেন শাস্তির বাইরে, বারবার কেন মিলছে ছাড়? একই দলের জার্সিতে মেসি-রোনাল্ডো! তেভেজের বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে বড় পরিকল্পনা ধ্বংসযজ্ঞের পর শান্তির ইঙ্গিত, ইউক্রেনে ৩ দিনের যুদ্ধবিরতি পুতিনের ডিজিটাল লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ঋণ দেবে ব্যাংক সংকটকে পুঁজি করে অরাজকতার চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারে পাচারকালে ৫৯৫ বস্তা সিমেন্টসহ ১২ পাচারকারী আটক আকাশে মেঘ দেখলেই যারা পালায়, তাদের চেনেন: শফিকুর রহমান

ডিজিটাল লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ঋণ দেবে ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেওয়ার নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ নামের এ সুবিধা আগামীকাল রোববার চালু হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাময়িক নগদ সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনে আরও উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর আওতায় যোগ্য গ্রাহকেরা ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।

তবে এ ঋণের অর্থ নগদে তোলা যাবে না। গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) ওয়ালেটেও জমা করা যাবে না। নির্ধারিত ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিলদাতা বা সেবাদাতাকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

যেসব খরচে ব্যবহার করা যাবে

ই-পেমেন্ট ক্রেডিটের অর্থ ব্যবহার করা যাবে—

  • বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধে
  • মোবাইল রিচার্জে
  • শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচে
  • ভ্রমণ ব্যয়ে
  • কর ও সরকারি সেবার ফি দিতে
  • ঋণ বা আমানতের কিস্তি পরিশোধে
  • বিমার প্রিমিয়াম দিতে

প্রাথমিকভাবে অন্তত ছয় মাস পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে ব্যাংকগুলো। পাইলট প্রকল্পের ফলাফল পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সুবিধাটি চালুর কথা রয়েছে।

৭, ১৫ ও ৩০ দিনের মেয়াদ

গ্রাহকেরা ঋণ পরিশোধের জন্য ৭, ১৫ ও ৩০ দিন—এই তিন ধরনের মেয়াদ পাবেন। এ ক্ষেত্রে সুদের পরিবর্তে ব্যাংক নির্ধারিত সেবা ফি নেওয়া হবে।

৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সেবা ফি হবে ৭ দিনের জন্য ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা।

অন্যদিকে, ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সেবা ফি হবে ৭ দিনের জন্য ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ১৩০ টাকা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করলে অতিরিক্ত সুদ বা আগাম পরিশোধের জন্য কোনো বাড়তি ফি দিতে হবে না। তবে সময়সীমা পার হয়ে গেলে জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে। এ জরিমানার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য দৈনিক সেবা ফির বেশি হতে পারবে না।

পুরো প্রক্রিয়াই হবে ডিজিটাল

ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক নিবন্ধন থেকে শুরু করে ঋণ অনুমোদন, অর্থ পরিশোধ ও ঋণ আদায়—পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

লেনদেনের নিরাপত্তায় এককালীন পাসওয়ার্ড (ওটিপি), দুই স্তরের নিরাপত্তা যাচাই বা একাধিক স্তরের যাচাইয়ের মতো নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহারের নির্দেশনা থাকবে।

এ সুবিধা পরিচালনায় ব্যাংকগুলো মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা, পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ শ্রেণীকরণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সুরক্ষা, অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং তথ্যনিরাপত্তা–সংক্রান্ত নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হবে নতুন এ ঋণব্যবস্থা।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, ই-পেমেন্ট ক্রেডিট চালু হলে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়বে। পাশাপাশি জরুরি ও প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গ্রাহকেরা সহজেই ছোট অঙ্কের স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ডিজিটাল লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ঋণ দেবে ব্যাংক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেওয়ার নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ নামের এ সুবিধা আগামীকাল রোববার চালু হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাময়িক নগদ সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনে আরও উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর আওতায় যোগ্য গ্রাহকেরা ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।

তবে এ ঋণের অর্থ নগদে তোলা যাবে না। গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) ওয়ালেটেও জমা করা যাবে না। নির্ধারিত ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিলদাতা বা সেবাদাতাকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

যেসব খরচে ব্যবহার করা যাবে

ই-পেমেন্ট ক্রেডিটের অর্থ ব্যবহার করা যাবে—

  • বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধে
  • মোবাইল রিচার্জে
  • শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচে
  • ভ্রমণ ব্যয়ে
  • কর ও সরকারি সেবার ফি দিতে
  • ঋণ বা আমানতের কিস্তি পরিশোধে
  • বিমার প্রিমিয়াম দিতে

প্রাথমিকভাবে অন্তত ছয় মাস পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে ব্যাংকগুলো। পাইলট প্রকল্পের ফলাফল পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সুবিধাটি চালুর কথা রয়েছে।

৭, ১৫ ও ৩০ দিনের মেয়াদ

গ্রাহকেরা ঋণ পরিশোধের জন্য ৭, ১৫ ও ৩০ দিন—এই তিন ধরনের মেয়াদ পাবেন। এ ক্ষেত্রে সুদের পরিবর্তে ব্যাংক নির্ধারিত সেবা ফি নেওয়া হবে।

৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সেবা ফি হবে ৭ দিনের জন্য ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা।

অন্যদিকে, ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সেবা ফি হবে ৭ দিনের জন্য ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ১৩০ টাকা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করলে অতিরিক্ত সুদ বা আগাম পরিশোধের জন্য কোনো বাড়তি ফি দিতে হবে না। তবে সময়সীমা পার হয়ে গেলে জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে। এ জরিমানার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য দৈনিক সেবা ফির বেশি হতে পারবে না।

পুরো প্রক্রিয়াই হবে ডিজিটাল

ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক নিবন্ধন থেকে শুরু করে ঋণ অনুমোদন, অর্থ পরিশোধ ও ঋণ আদায়—পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

লেনদেনের নিরাপত্তায় এককালীন পাসওয়ার্ড (ওটিপি), দুই স্তরের নিরাপত্তা যাচাই বা একাধিক স্তরের যাচাইয়ের মতো নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহারের নির্দেশনা থাকবে।

এ সুবিধা পরিচালনায় ব্যাংকগুলো মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা, পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ শ্রেণীকরণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সুরক্ষা, অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং তথ্যনিরাপত্তা–সংক্রান্ত নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হবে নতুন এ ঋণব্যবস্থা।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, ই-পেমেন্ট ক্রেডিট চালু হলে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়বে। পাশাপাশি জরুরি ও প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গ্রাহকেরা সহজেই ছোট অঙ্কের স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।