অতিরিক্ত বোয়িং কেনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চাপ নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৩৫:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অতিরিক্ত বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে কোনো ধরনের চাপ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, দেশের বিমান খাতের চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী বিমান কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, “না, কোনো চাপের মধ্যে নয়। বিমান খাতের চাহিদা অনুযায়ীই আমরা প্রয়োজনমতো বিমান কিনব।”
তিনি বলেন, সরকার বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল কেন্দ্র বা এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এজন্য নতুন নতুন রুট চালু, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বড় বিমান বহরের প্রয়োজন রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশকে আরও বেশি রুটে সেবা দিতে হবে। সেজন্য আমাদের আরও বড় বহর প্রয়োজন।”
তার মতে, বিমান বহর সম্প্রসারণ এবং নতুন রুট চালু করা দীর্ঘমেয়াদে দেশের রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের মতো বড় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে বহর সম্প্রসারণ করলে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত ও ভারতের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, ঢাকা-ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন একটি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অতিরিক্ত বোয়িং বিমান কেনার জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
গত এপ্রিলে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি বিমান কেনার চুক্তি হয়। ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এ চুক্তিকে বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ক্রয়চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি।
তিনি জানান, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি এবং সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশের ওপর নির্ভর করবে সফরের সময়।
হুমায়ুন কবির বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনার পর বাংলাদেশে যে নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে ভারতকে স্পষ্টভাবে অবহিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যথাযথ ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়।
ভারত প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আশা করে ভারত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং কোনো বাংলাদেশি সন্ত্রাসী বা চরমপন্থী গোষ্ঠীকে ভারতের ভূখণ্ড কিংবা সার্বভৌম স্থান ব্যবহার করতে দেবে না।
তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান বজায় রেখেই বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী।












