ঢাকা ০৬:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্যাসিবাদী শাসনে ভঙ্গুর বাংলাদেশ পুনর্গঠনের সময় এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের শাসনে বাংলাদেশ ঋণ ও আমদানিনির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এখন দেশ পুনর্গঠনের সময় এসেছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতকে পুনর্গঠনের পাশাপাশি জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এই কাঠামোর সঙ্গে দেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সমন্বয় করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণবিষয়ক জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

‘জনবান্ধব নীতিই বিএনপির মূল লক্ষ্য’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির জননীতির দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়, দলটির পরিকল্পনা ও কর্মসূচি সবসময় জনবান্ধব।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার লক্ষ্য ও কর্মসূচির সঙ্গে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) ও এসডিজির ভিশন-মিশনের মৌলিকভাবে সামঞ্জস্য রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমডিজি বাস্তবায়নে সাফল্য দেখিয়েছে এবং এসডিজি বাস্তবায়নেও যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এসডিজির মূলনীতি ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’-এর সঙ্গে সরকারের জননীতিরও সামঞ্জস্য রয়েছে।

‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ সরকারের নীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন’ কৌশল

এসডিজি বাস্তবায়ন ও স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের অগ্রগতি ধরে রাখতে সরকার ‘রিকভারি-রিহ্যাবিলিটেশন-রিকন্সট্রাকশন’ বা পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের ‘থ্রি-আর’ কৌশল গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই কৌশলের মাধ্যমে সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তর পর্যন্ত সব কার্যক্রম একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারের ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভ’-এর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসনের বিষয়গুলো এসডিজির মূল অগ্রাধিকারের প্রতিফলন ঘটায়।

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ড

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পরদিন থেকেই নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, কৃষকের স্বার্থ রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা সহজ করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া স্পোর্টস কার্ড চালু এবং সারাদেশের ইমাম-মুয়াজ্জিন ও বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ধাপে ধাপে দেশের সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা বলয় ও আর্থিক সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

তিন গ্রামে ‘এসডিজি ভিলেজ’ পাইলট প্রকল্প

এসডিজি স্থানীয়করণের অংশ হিসেবে দেশের তিনটি গ্রামকে পাইলট মডেল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

গ্রামগুলো হলো—রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর।

এসব গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ‘ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্ট’, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাইলট প্রকল্পের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে এর সফলতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য গ্রামেও এই মডেল সম্প্রসারণ করা হবে।

‘একক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়’

এসডিজি বাস্তবায়ন কোনো একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের পক্ষে সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও দেশের প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিন দিনের জাতীয় সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো নিজেদের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

‘গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র গড়াই লক্ষ্য’

আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনায় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে, যেখানে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা থাকবে।

পাশাপাশি এমন একটি মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার সর্বজনীন হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথাও বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে সরকারকে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ফ্যাসিবাদী শাসনে ভঙ্গুর বাংলাদেশ পুনর্গঠনের সময় এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের শাসনে বাংলাদেশ ঋণ ও আমদানিনির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এখন দেশ পুনর্গঠনের সময় এসেছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতকে পুনর্গঠনের পাশাপাশি জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এই কাঠামোর সঙ্গে দেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সমন্বয় করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণবিষয়ক জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

‘জনবান্ধব নীতিই বিএনপির মূল লক্ষ্য’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির জননীতির দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়, দলটির পরিকল্পনা ও কর্মসূচি সবসময় জনবান্ধব।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার লক্ষ্য ও কর্মসূচির সঙ্গে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) ও এসডিজির ভিশন-মিশনের মৌলিকভাবে সামঞ্জস্য রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমডিজি বাস্তবায়নে সাফল্য দেখিয়েছে এবং এসডিজি বাস্তবায়নেও যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এসডিজির মূলনীতি ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’-এর সঙ্গে সরকারের জননীতিরও সামঞ্জস্য রয়েছে।

‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ সরকারের নীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন’ কৌশল

এসডিজি বাস্তবায়ন ও স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের অগ্রগতি ধরে রাখতে সরকার ‘রিকভারি-রিহ্যাবিলিটেশন-রিকন্সট্রাকশন’ বা পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের ‘থ্রি-আর’ কৌশল গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই কৌশলের মাধ্যমে সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তর পর্যন্ত সব কার্যক্রম একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারের ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভ’-এর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসনের বিষয়গুলো এসডিজির মূল অগ্রাধিকারের প্রতিফলন ঘটায়।

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ড

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পরদিন থেকেই নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, কৃষকের স্বার্থ রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা সহজ করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া স্পোর্টস কার্ড চালু এবং সারাদেশের ইমাম-মুয়াজ্জিন ও বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ধাপে ধাপে দেশের সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা বলয় ও আর্থিক সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

তিন গ্রামে ‘এসডিজি ভিলেজ’ পাইলট প্রকল্প

এসডিজি স্থানীয়করণের অংশ হিসেবে দেশের তিনটি গ্রামকে পাইলট মডেল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

গ্রামগুলো হলো—রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর।

এসব গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ‘ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্ট’, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাইলট প্রকল্পের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে এর সফলতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য গ্রামেও এই মডেল সম্প্রসারণ করা হবে।

‘একক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়’

এসডিজি বাস্তবায়ন কোনো একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের পক্ষে সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও দেশের প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিন দিনের জাতীয় সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো নিজেদের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

‘গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র গড়াই লক্ষ্য’

আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনায় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে, যেখানে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা থাকবে।

পাশাপাশি এমন একটি মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার সর্বজনীন হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথাও বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে সরকারকে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।