বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে সক্রিয় চক্র: প্রধানমন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:২২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে ঘিরে দেশকে সুপরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে একটি চক্র। একই সঙ্গে ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাতের সংকট কাটিয়ে দেশকে পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় সরকার একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র পেয়েছে। দুর্বল অর্থনীতি, বিভক্ত প্রশাসন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার নানা সংকটের মধ্যেই সরকার দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা এখনো সক্রিয়। অতীতের অপরিকল্পিত পরিকল্পনা ও প্রকল্প জ্বালানি খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের মাধ্যমে দেশকে সংকট থেকে বের করে আনার কাজ চলছে।
স্বাস্থ্য খাতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ
স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের স্বাস্থ্যসেবা নীতির মূল লক্ষ্য হলো ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’। রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের নেতৃত্বে এসব স্বাস্থ্যকর্মী নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক করবেন বলে জানান তিনি।
চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের রাজনীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সবকিছুকে প্রভাবিত করে। তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকা বা রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হওয়া অযৌক্তিক নয়। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনোভাবেই বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকতে হবে।
৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের দাবি বিবেচনায়
সমাবেশে ড্যাবের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি সরকার বিবেচনা করবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২-৩৪ বছর করা, অবসরের বয়সসীমা ৬১-৬৫ বছর করা, স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকদের বিশেষ ভাতা দেওয়ার দাবি অযৌক্তিক নয়।
এ ছাড়া বেসরকারি খাতের চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট ও ন্যায্য বেতন কাঠামো নির্ধারণের দাবিও সরকারের বিবেচনায় থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্য
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করবে।
তিনি আরও জানান, দ্রুত ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু এবং প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সব চিকিৎসকের সহযোগিতা কামনা করে তারেক রহমান বলেন, এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কাউকে বিদেশে যেতে হবে না।
সমাবেশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




















