রোজ বেবি পাউডার মাখাচ্ছেন? শিশুর শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
একসময় শিশুর পরিচর্যায় বেবি পাউডার ছিল প্রায় অপরিহার্য। স্নানের পর কিংবা ডায়াপার বদলের সময় ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করাকে নিরাপদ ও উপকারী বলেই মনে করা হতো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ট্যালকভিত্তিক বেবি পাউডার নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের পর বিশেষজ্ঞরা এ অভ্যাস নিয়ে নতুন করে সতর্ক করছেন।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ শিশুর দৈনন্দিন ত্বকের পরিচর্যায় ট্যালকম পাউডারের তেমন প্রয়োজন নেই। বরং পাউডারের অতিক্ষুদ্র কণা শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করলে কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসনালিতে জ্বালাপোড়া এবং বিরল ক্ষেত্রে গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ, নবজাতক ও ছোট শিশুদের ফুসফুস তখনও পুরোপুরি বিকশিত হয় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর শরীরে সরাসরি পাউডার ছিটিয়ে দিলে এর সূক্ষ্ম কণাগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং সহজেই শিশুর শ্বাসনালিতে ঢুকে যেতে পারে। তাই বর্তমানে অনেক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়মিত বেবি পাউডার ব্যবহার নিরুৎসাহিত করছেন।
এদিকে জনসন অ্যান্ড জনসনের ট্যালকভিত্তিক বেবি পাউডার নিয়ে দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু পণ্যে অ্যাসবেস্টসের দূষণ ছিল, যা দীর্ঘমেয়াদে নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে চিকিৎসকদের মতে, নবজাতকের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক উদ্বেগের বিষয় ক্যানসার নয়; বরং পাউডারের কণা শ্বাসনালিতে প্রবেশ করে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা তৈরি করা।
শিশুর ত্বকের যত্নে যা করবেন
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, শিশুর ত্বক সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত প্রসাধনীর প্রয়োজন নেই। স্নানের পর নরম তোয়ালে দিয়ে শরীর ভালোভাবে মুছে শুকিয়ে দিতে হবে। বিশেষ করে গলা, বগল, কুঁচকি ও হাঁটুর পেছনের ভাঁজে যেন আর্দ্রতা না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ডায়াপার নিয়মিত পরিবর্তন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ভেজা ডায়াপার পরে থাকলে র্যাশ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এ ক্ষেত্রে ট্যালকম পাউডারের পরিবর্তে জিঙ্ক অক্সাইডযুক্ত ব্যারিয়ার ক্রিম ব্যবহার বেশি কার্যকর। পাশাপাশি নতুন ডায়াপার পরানোর আগে কিছুক্ষণ শিশুর ত্বক খোলা বাতাসে রাখলে ত্বক সুস্থ থাকে।
যদি পাউডার ব্যবহার করতেই হয়, তবে কখনোই শিশুর শরীরে সরাসরি ছিটিয়ে দেওয়া উচিত নয়। আগে নিজের হাতে অল্প পাউডার নিয়ে, শিশুর মুখ থেকে দূরে আলতোভাবে ত্বকে লাগাতে হবে। এতে বাতাসে পাউডারের কণা কম ছড়ায় এবং শ্বাসনালিতে প্রবেশের ঝুঁকিও কমে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত হলো পাউডার ব্যবহার না করা।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
হালকা ডায়াপার র্যাশ সাধারণ বিষয় হলেও, কয়েক দিনের মধ্যে না কমলে, ত্বক ফুলে গেলে, পুঁজ বা তীব্র ব্যথা দেখা দিলে, জ্বর এলে কিংবা একই সমস্যা বারবার ফিরে এলে দ্রুত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুর সুস্থ ত্বকের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, ত্বক শুকনো রাখা, সময়মতো ডায়াপার পরিবর্তন করা এবং প্রয়োজন হলে উপযুক্ত ব্যারিয়ার ক্রিম ব্যবহার করা। দীর্ঘদিনের অভ্যাস হলেও, ট্যালকম পাউডারের পরিবর্তে বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত নিরাপদ পরিচর্যাতেই এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।




















