ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতি অপসারণের সিদ্ধান্ত ‘সুসংবাদ’: আসিফ মাহমুদ সরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন! নেপথ্যে হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ? চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২৭ জুলাই বাংলাদেশ হবে বৈশ্বিক উৎপাদন হাব: প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি নির্ধারণে প্রয়োজন যথাযথ কর্তৃপক্ষ: তথ্যমন্ত্রী এমপি গাজী নজরুলের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও ইসিকে চিঠি জামায়াতের ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ ভারতের যশোরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, ঘাতক আটক যশোরে র‍্যাব-৬ মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে টাউন হল মিটিং পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর (তালিকাসহ)

সরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন! নেপথ্যে হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ?

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:১৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন—এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া একমাত্র সাংবিধানিক পদাধিকারী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে সম্প্রতি তাঁর পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত মে মাসে লন্ডন সফরের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির টেলিফোনে কথা হয়। ওই ফোনালাপের বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে বলে দাবি করা হচ্ছে। এরপরই সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের বিষয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে—এমন আলোচনা চলছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং লন্ডন সফরের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথিত ফোনালাপ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে এসব দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বাস্তবতার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে, শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কথিত ফোনালাপের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ নেই।

সাহাবুদ্দিন গত ৯ মে লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। সফরের মাঝামাঝি সময়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের বিষয়টি সামনে আসে। তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পেছনে শুধু ফোনালাপই কারণ কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ভিন্নমত রয়েছে।

বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতার বরাতে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বর দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাষ্ট্রপতির পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কাছেই শপথ নেয়। পরে ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকারও তাঁর কাছেই শপথ গ্রহণ করে।

তবে গত দুই বছরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি উঠেছিল। তখন বিএনপি তাঁকে দায়িত্বে রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। এখন সেই অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

বঙ্গভবনের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি শুক্রবার পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠাতে পারেন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।

এদিকে, রাষ্ট্রপতির পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিকভাবে অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরে যেতে চান বলেও জানা গেছে।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তিনি পদত্যাগপত্র সংসদের স্পিকারের কাছে জমা দেবেন। পদটি শূন্য হলে স্পিকার অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি একজন বিচারক ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন! নেপথ্যে হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:১৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন—এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া একমাত্র সাংবিধানিক পদাধিকারী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে সম্প্রতি তাঁর পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত মে মাসে লন্ডন সফরের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির টেলিফোনে কথা হয়। ওই ফোনালাপের বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে বলে দাবি করা হচ্ছে। এরপরই সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের বিষয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে—এমন আলোচনা চলছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং লন্ডন সফরের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথিত ফোনালাপ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে এসব দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বাস্তবতার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে, শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কথিত ফোনালাপের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ নেই।

সাহাবুদ্দিন গত ৯ মে লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। সফরের মাঝামাঝি সময়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের বিষয়টি সামনে আসে। তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পেছনে শুধু ফোনালাপই কারণ কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ভিন্নমত রয়েছে।

বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতার বরাতে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বর দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাষ্ট্রপতির পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কাছেই শপথ নেয়। পরে ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকারও তাঁর কাছেই শপথ গ্রহণ করে।

তবে গত দুই বছরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি উঠেছিল। তখন বিএনপি তাঁকে দায়িত্বে রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। এখন সেই অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

বঙ্গভবনের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি শুক্রবার পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠাতে পারেন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।

এদিকে, রাষ্ট্রপতির পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিকভাবে অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরে যেতে চান বলেও জানা গেছে।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তিনি পদত্যাগপত্র সংসদের স্পিকারের কাছে জমা দেবেন। পদটি শূন্য হলে স্পিকার অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি একজন বিচারক ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।