ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হোটেল রুমে গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করবেন যেভাবে, জেনে নিন ৬ উপায় ফাইনাল শেষে মারামারি, আর্জেন্টিনার জন্য কী শাস্তি অপেক্ষা করছে? মোদী সরকারকে চাপে ফেলতে শম্ভু সীমান্তে কৃষকদের ঢল এআই ক্যামেরায় এবার সিট বেল্ট ও ফোনে কথা বললেও মামলা মন্ত্রিসভায় রদবদলের ইঙ্গিত, সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর: জাহেদ উর রহমান ভাইরাল ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন জামায়াত এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুর এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী মামলার আগে মীমাংসা, বিচারপ্রার্থীদের স্বস্তিতে নতুন ব্যবস্থা জুলাইয়ের মালিকানা নিয়ে রাজনীতির নতুন দ্বন্দ্ব বিএসটিআইর নির্দেশ: বাজার থেকে আরও ৮ পণ্য প্রত্যাহার

ফাইনাল শেষে মারামারি, আর্জেন্টিনার জন্য কী শাস্তি অপেক্ষা করছে?

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক একজন প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

ফিফা জানিয়েছে, ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের নিষেধাজ্ঞা এবং আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

রোববার ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর বিজয় উদযাপনের সময় দুই দলের সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ভিডিও ফুটেজে আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মোলিনা, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, থিয়াগো আলমাদা ও সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা গেছে।

প্রথমে ফিফা জানায়, স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার গলায় ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগে পারেদেসকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। তবে পরে সেই লাল কার্ডের তথ্য প্রত্যাহার করে জানানো হয়, মাঠেই কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়নি। এর আগে অবশ্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি ও আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার মধ্যে উত্তেজনা থেকে। পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, পারেদেস গার্সিয়ার গলায় হাত দেন, আলমাদা স্পেনের বদলি খেলোয়াড় গাভিকে মাটিতে ফেলে দেন এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

বিবিসি ওয়ানের ধারাভাষ্যে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার আর্জেন্টিনার আচরণকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। সাবেক গোলরক্ষক জো হার্টও বলেন, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এমন আচরণের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তবে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি ঘটনাটিকে বড় করে দেখেননি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “জয়ের সময় যেমন উদার হতে হয়, পরাজয়ের সময়ও তেমন উদার থাকতে হবে। আমরা হার মেনে নিয়েছি, কিন্তু একটি ম্যাচের ফল আমাদের সব অর্জনকে মুছে দিতে পারে না।”

ফিফার শৃঙ্খলা বিধিমালার ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের আচরণ “ফেয়ার প্লে নীতিমালা লঙ্ঘন” কিংবা “ফুটবলের সুনাম ক্ষুণ্নকারী” হিসেবে বিবেচিত হলে কঠোর শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। তদন্তে ঘটনার সব দিক, এমনকি শাস্তি কমানো বা বাড়ানোর মতো পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে এটিই প্রথম শৃঙ্খলাজনিত তদন্ত নয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনাও আলাদাভাবে তদন্ত করছে ফিফা। সেই ঘটনায়ও এএফএ জরিমানা কিংবা সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়রা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন।

অতীতেও বিভিন্ন বিতর্কে শাস্তি পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর খেলোয়াড়দের আপত্তিকর উদযাপনের দায়ে এএফএকে জরিমানা করা হয়েছিল। এছাড়া গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ২০২৪ সালে অসদাচরণের অভিযোগে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ভোগ করেন।

ফিফা এখনও তদন্ত শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি। তবে তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ফাইনাল শেষে মারামারি, আর্জেন্টিনার জন্য কী শাস্তি অপেক্ষা করছে?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক একজন প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

ফিফা জানিয়েছে, ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের নিষেধাজ্ঞা এবং আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

রোববার ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর বিজয় উদযাপনের সময় দুই দলের সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ভিডিও ফুটেজে আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মোলিনা, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, থিয়াগো আলমাদা ও সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা গেছে।

প্রথমে ফিফা জানায়, স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার গলায় ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগে পারেদেসকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। তবে পরে সেই লাল কার্ডের তথ্য প্রত্যাহার করে জানানো হয়, মাঠেই কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়নি। এর আগে অবশ্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি ও আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার মধ্যে উত্তেজনা থেকে। পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, পারেদেস গার্সিয়ার গলায় হাত দেন, আলমাদা স্পেনের বদলি খেলোয়াড় গাভিকে মাটিতে ফেলে দেন এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

বিবিসি ওয়ানের ধারাভাষ্যে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার আর্জেন্টিনার আচরণকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। সাবেক গোলরক্ষক জো হার্টও বলেন, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এমন আচরণের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তবে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি ঘটনাটিকে বড় করে দেখেননি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “জয়ের সময় যেমন উদার হতে হয়, পরাজয়ের সময়ও তেমন উদার থাকতে হবে। আমরা হার মেনে নিয়েছি, কিন্তু একটি ম্যাচের ফল আমাদের সব অর্জনকে মুছে দিতে পারে না।”

ফিফার শৃঙ্খলা বিধিমালার ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের আচরণ “ফেয়ার প্লে নীতিমালা লঙ্ঘন” কিংবা “ফুটবলের সুনাম ক্ষুণ্নকারী” হিসেবে বিবেচিত হলে কঠোর শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। তদন্তে ঘটনার সব দিক, এমনকি শাস্তি কমানো বা বাড়ানোর মতো পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে এটিই প্রথম শৃঙ্খলাজনিত তদন্ত নয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনাও আলাদাভাবে তদন্ত করছে ফিফা। সেই ঘটনায়ও এএফএ জরিমানা কিংবা সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়রা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন।

অতীতেও বিভিন্ন বিতর্কে শাস্তি পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর খেলোয়াড়দের আপত্তিকর উদযাপনের দায়ে এএফএকে জরিমানা করা হয়েছিল। এছাড়া গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ২০২৪ সালে অসদাচরণের অভিযোগে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ভোগ করেন।

ফিফা এখনও তদন্ত শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি। তবে তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।