ঢাকা ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হোটেল রুমে গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করবেন যেভাবে, জেনে নিন ৬ উপায় ফাইনাল শেষে মারামারি, আর্জেন্টিনার জন্য কী শাস্তি অপেক্ষা করছে? মোদী সরকারকে চাপে ফেলতে শম্ভু সীমান্তে কৃষকদের ঢল এআই ক্যামেরায় এবার সিট বেল্ট ও ফোনে কথা বললেও মামলা মন্ত্রিসভায় রদবদলের ইঙ্গিত, সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর: জাহেদ উর রহমান ভাইরাল ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন জামায়াত এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুর এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী মামলার আগে মীমাংসা, বিচারপ্রার্থীদের স্বস্তিতে নতুন ব্যবস্থা জুলাইয়ের মালিকানা নিয়ে রাজনীতির নতুন দ্বন্দ্ব বিএসটিআইর নির্দেশ: বাজার থেকে আরও ৮ পণ্য প্রত্যাহার

অভিযোগের পাহাড়েও বহাল মাসহুরা, মানছেন না মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ

রুবেল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১৯:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঠাকুরগাঁওয়ে ফ্রীড মাতৃছায়া অটিস্টিক শিশু নিকেতন স্কুলের প্রধাণ শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরার) বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ বাণিজ্যসহ বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এরইমধ্যে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংশ্লিস্ট দপ্তরে বেশকয়েকটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। আর প্রশাসন বলছেন, ক্ষমতা স্বল্পতা থাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুতই কার্যত প্রদক্ষেপ নেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি) শাখায় শিক্ষকদের একাধিক অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত প্রতিবন্ধী স্কুলটিতে নতুন করে সতের জন নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এই সতেরজন শিক্ষক-কর্মচারির কাছ থেকে অর্থ বাণিজ্যিকরণ, সময়মত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে না দেয়া, প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারের দেয়া বেশকিছু লেপটপ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া, সরকারের দেয়া বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অভিযোগ তোলা হয়।

শুধু তাই নয় প্রধাণ শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্দেশনা ও সংশ্লিস্ট মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা মানছেন না। একই সাথে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিস্ট কর্মকর্তাকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের ইচ্ছেমত কোনমতে দায়সারছেন প্রতিষ্ঠানের। একের পর এক অভিযোগ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিস্ট দপ্তরে জমা পরলেও কার্যত ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রতিষ্ঠানে বিশৃংখলা সৃস্টির পাশাপাশি মারমুখি আচরণে লিপ্ত হচ্ছেন প্রধাণ শিক্ষক।

অভিযোগকারিদের মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের বেশকয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রধাণ শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) একজন মহিলা আওয়ামীলীগের নেত্রী। সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এলাকায় জেলা শহরে অবস্থিত এই প্রতিবন্ধী স্কুলে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবাষির্কীতে কেক কাটেন এমন অভিযোগ সদর থানা পুলিশ অভিযান চালায়। স্কুলটিতে তার ভাই, ভাবিসহ পরিবারের ৯ জনকে নিয়োগ পাইয়ে দিয়েছেন। আর সেকারনেই রাজত্ব কায়েম করছিল। তার অনিয়মের বিষয়ে মুখ খুলতে গিয়ে নানাভাবে নির্যাতিত হয় অন্যান্য শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে বাঁধা প্রদান করছেন। উপায় না পেয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয় জেলা প্রশাসকের সংশ্লিস্ট দপ্তরে। তারপরেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন প্রধাণ শিক্ষক। অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে কার্যত প্রদক্ষেপ না নিলে প্রতিষ্ঠানটি মুখ থুবরে পরার আশংকার পাশাপাশি শিক্ষক কর্মচারিরা পথে বসবে বলে জানান প্রতিষ্ঠান সংশ্লিস্টরা।

অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধাণ শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) সব অনিয়মের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, মন্ত্রনালয় ১৭ জনকে নিয়োগ দিয়ে ঠিক করেনি। আর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মকর্তা যদি পারে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।

আর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি) দায়িত্বে থাকা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, প্রতিষ্ঠানের প্রধাণ শিক্ষককের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তিনি কোন কথাই কর্নপাত করছেন না। ক্ষমতা স্বল্পতার কারণে জেলা প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সময় লাগছে। প্রধাণ শিক্ষককে বলা হয়েছে লিখিত জবাব প্রেরণে দ্রুতেই সময়ের মধ্যে না দিলে তার বিরুদ্ধে কার্যত প্রদক্ষেপ নিতে মন্ত্রনালয়ে পত্র পাঠানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অভিযোগের পাহাড়েও বহাল মাসহুরা, মানছেন না মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১৯:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে ফ্রীড মাতৃছায়া অটিস্টিক শিশু নিকেতন স্কুলের প্রধাণ শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরার) বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ বাণিজ্যসহ বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এরইমধ্যে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংশ্লিস্ট দপ্তরে বেশকয়েকটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। আর প্রশাসন বলছেন, ক্ষমতা স্বল্পতা থাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুতই কার্যত প্রদক্ষেপ নেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি) শাখায় শিক্ষকদের একাধিক অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত প্রতিবন্ধী স্কুলটিতে নতুন করে সতের জন নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এই সতেরজন শিক্ষক-কর্মচারির কাছ থেকে অর্থ বাণিজ্যিকরণ, সময়মত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে না দেয়া, প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারের দেয়া বেশকিছু লেপটপ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া, সরকারের দেয়া বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অভিযোগ তোলা হয়।

শুধু তাই নয় প্রধাণ শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্দেশনা ও সংশ্লিস্ট মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা মানছেন না। একই সাথে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিস্ট কর্মকর্তাকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের ইচ্ছেমত কোনমতে দায়সারছেন প্রতিষ্ঠানের। একের পর এক অভিযোগ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিস্ট দপ্তরে জমা পরলেও কার্যত ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রতিষ্ঠানে বিশৃংখলা সৃস্টির পাশাপাশি মারমুখি আচরণে লিপ্ত হচ্ছেন প্রধাণ শিক্ষক।

অভিযোগকারিদের মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের বেশকয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রধাণ শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) একজন মহিলা আওয়ামীলীগের নেত্রী। সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এলাকায় জেলা শহরে অবস্থিত এই প্রতিবন্ধী স্কুলে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবাষির্কীতে কেক কাটেন এমন অভিযোগ সদর থানা পুলিশ অভিযান চালায়। স্কুলটিতে তার ভাই, ভাবিসহ পরিবারের ৯ জনকে নিয়োগ পাইয়ে দিয়েছেন। আর সেকারনেই রাজত্ব কায়েম করছিল। তার অনিয়মের বিষয়ে মুখ খুলতে গিয়ে নানাভাবে নির্যাতিত হয় অন্যান্য শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে বাঁধা প্রদান করছেন। উপায় না পেয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয় জেলা প্রশাসকের সংশ্লিস্ট দপ্তরে। তারপরেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন প্রধাণ শিক্ষক। অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে কার্যত প্রদক্ষেপ না নিলে প্রতিষ্ঠানটি মুখ থুবরে পরার আশংকার পাশাপাশি শিক্ষক কর্মচারিরা পথে বসবে বলে জানান প্রতিষ্ঠান সংশ্লিস্টরা।

অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধাণ শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) সব অনিয়মের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, মন্ত্রনালয় ১৭ জনকে নিয়োগ দিয়ে ঠিক করেনি। আর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মকর্তা যদি পারে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।

আর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি) দায়িত্বে থাকা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, প্রতিষ্ঠানের প্রধাণ শিক্ষককের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তিনি কোন কথাই কর্নপাত করছেন না। ক্ষমতা স্বল্পতার কারণে জেলা প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সময় লাগছে। প্রধাণ শিক্ষককে বলা হয়েছে লিখিত জবাব প্রেরণে দ্রুতেই সময়ের মধ্যে না দিলে তার বিরুদ্ধে কার্যত প্রদক্ষেপ নিতে মন্ত্রনালয়ে পত্র পাঠানো হবে।