নড়াইলে প্রাচ্যসংঘের ‘জ্ঞানযাত্রা’ ও মুক্ত আলোচনা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৪:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
অবিরাম বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে নড়াইলের চিত্রা রিসোর্টে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বহুমাত্রিক জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র ‘প্রাচ্যসংঘ’য়ের ঐতিহ্যবাহী ‘জ্ঞানযাত্রা’।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে সংগঠনের শতাধিক সদস্য, অনুরাগী ও দেশের বিশিষ্ট গুণীজনদের অংশগ্রহণে এই আনন্দময় ও জ্ঞানগর্ভ মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রাচ্যসংঘের সুপ্রিম কাউন্সিলের প্রধান—বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট বেনজীন খানের নেতৃত্বে এই জ্ঞানযাত্রায় অংশ নেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লেখক, গবেষক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সকাল ১১টায় জ্ঞানযাত্রার দলটি নড়াইলের চিত্রা নদীর পাড়ে অবস্থিত নয়নঅভিরাম চিত্রা রিসোর্টে পৌঁছায়।

প্রকৃতির কোলে ও সুলতান স্মরণে: চিত্রা নদীর পাড়ে অবস্থিত এই রিসোর্টটি যেন প্রকৃতির এক অনন্য আবাসভূমি। চারপাশের সবুজ আর নির্জন পরিবেশ অংশগ্রহণকারীদের মুগ্ধ করে। দুপুরের আগে নদীর বুক চিরে ছয়টি নৌকায় চড়ে যাত্রীরা রওনা হন বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের স্মৃতিবিজড়িত জাদুঘর দর্শনে। নদীপথে যাওয়ার সময় দুপাশের প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য এবং প্রাচীন জমিদারদের পুরোনো বাঁধা ঘাটগুলো সবার নজর কাড়ে।
নদী ও চারপাশের বিস্তীর্ণ প্রকৃতির মাঝে দাঁড়িয়ে সৃষ্টিজগতের বিশালত্ব আর মহাবিশ্বের তুলনায় মানুষের ক্ষুদ্রতার এক দার্শনিক উপলব্ধি তৈরি হয় ভ্রমণকারীদের মনে।
দুপুরের মধ্যাহ্নভোজ ও বহুমাত্রিক মুক্ত আলোচনা: বেলা তিনটার দিকে জ্ঞানযাত্রার দলটি পুনরায় রিসোর্টে ফিরে আসে। মধ্যাহ্নভোজ সমাপ্তির পর শুরু হয় জ্ঞানযাত্রার মূল আকর্ষণ—মুক্ত আলোচনা, গল্প, স্বরচিত কবিতা পাঠ ও বিষয়ভিত্তিক প্রতিযোগিতা।
এবারের মুক্ত আলোচনায় সমসাময়িক, দার্শনিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয় স্থান পায়। আলোচনার মূল বিষয়বস্তুগুলো ছিল: শূন্য রেখা ও এর দার্শনিক দিক,বলতে দাও (অভিব্যক্তির স্বাধীনতা),প্রাচ্যসংঘের ভবিষ্যৎ রূপরেখা, প্রতিবাদ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা, বাংলাদেশের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত (ভবিষ্যত রাষ্ট্রভাবনা),জ্ঞানযাত্রা ও এর উদ্দেশ্য, পরের পিঠে দারুণ মিঠে (লোকায়ত জীবন ও মনস্তত্ত্ব), ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সাম্প্রতিক ইতিহাস ও জনআকাঙ্ক্ষা)।
সমাপনী ও আহ্বান: অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রকৃতির সাথে মানুষের আত্মিক যোগাযোগ না ঘটলে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়। আকাশ, পৃথিবী, প্রকৃতি এবং মানুষের ভেতরের রূপকে হৃদয়ে ধারণ করার মাধ্যমেই সংকীর্ণতা মুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব।
দিনভর কবিতা, গান, বিতর্ক আর গভীর জীবনমুখী আলোচনায় মুখর থাকার পর এক প্রশান্ত মন নিয়ে সন্ধ্যার দিকে জ্ঞানযাত্রার সমাপ্তি ঘটে। অংশগ্রহণকারীরা প্রত্যেকেই এই আয়োজনকে মননশীলতা বিকাশের এক অনন্য মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করেন।























