ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ছাত্রনেতা থেকে জননেতা: মীর শাহে আলমের রাজনৈতিক পথচলা প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে অপপ্রচার, ‘আংশিক তথ্য প্রকাশে বিভ্রান্তি’ পার্বত্য চট্টগ্রামে উদ্ধার-ত্রাণে সেনাবাহিনীর তৎপরতা আরও ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, বন্যা-ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে ট্রাম্পের চাপে লাল কার্ড বাতিল, হ্যারি কেনদের আবেদন খারিজ! ফের বিতর্ক শিল্পের বিকাশ ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয় ৬ নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বহু প্রাম প্লাবিত আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে কি সিদ্ধান্ত হয়েছিল? জানালেন কলিনা নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে দালালতন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে: সারজিস

ছাত্রনেতা থেকে জননেতা: মীর শাহে আলমের রাজনৈতিক পথচলা

সুপন রায়
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৩২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বগুড়ার রাজনীতিতে ছাত্রজীবন থেকেই সক্রিয় ছিলেন মীর শাহে আলম। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি ছাত্রনেতা থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলা পর্যায়ের সংগঠক এবং পরে জাতীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন।

জন্ম, পরিবার ও শিক্ষা

মীর শাহে আলম ১৯৭০ সালের ৭ আগস্ট বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের বেতগাড়ি গ্রামের একটি মুসলিম মীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মীর মোজাফফর রহমান এবং মাতা মোছাঃ রাজেনা বেগম।

তিনি শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক (এসএসসি) এবং শিবগঞ্জ এম.এইচ. কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) সম্পন্ন করেন।

ছাত্ররাজনীতিতে পথচলা

১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মীর শাহে আলম। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। ১৯৯১ সালে শিবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯২ সালে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপির রাজনীতিতে নেতৃত্ব

ছাত্ররাজনীতি থেকে মূলধারার রাজনীতিতে এসে তিনি ধাপে ধাপে বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে শিবগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মনোনীত হন। ২০১০ সালে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং একই বছর বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

২০১৩ সালে তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০২২ সাল থেকে বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি।

জনপ্রতিনিধি হিসেবে যাত্রা

মাত্র ২৩ বছর বয়সে, ১৯৯৭ সালে তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৯ সালে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক পরিচিতিকে আরও বিস্তৃত করে।

রাজনৈতিক মামলা ও কারাবরণ

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলা দায়ের হয়। ২০২৩ সালে নাশকতার অভিযোগে একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

জাতীয় সংসদে অভিষেক

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে প্রথমে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম ঘোষণা করে। পরে ঋণখেলাপির কারণে তার মনোনয়ন বাতিল হলে বিএনপি মীর শাহে আলমকে দলীয় প্রার্থী মনোনীত করে।

নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান পান ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

ব্যবসায়িক পরিচয়

রাজনীতির পাশাপাশি মীর শাহে আলম একজন ব্যবসায়ী। তিনি রূপসী বিডি গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বার্থের সংঘাত এড়াতে পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে লিখিতভাবে সরে দাঁড়ান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

পারিবারিক জীবন

মীর শাহে আলমের স্ত্রীর নাম মীর লাবনী আক্তার। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন। তারা হলেন মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, মীর সাকলাইন আলম দিগন্ত এবং মীর সুনাত কায়ানাত।

রাজনৈতিক মূল্যায়ন

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ছাত্ররাজনীতি, দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, স্থানীয় সরকারে নেতৃত্ব এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে মীর শাহে আলম নিজের রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তুলেছেন। সমর্থকদের ভাষ্য, ছাত্রনেতা হিসেবে যাত্রা শুরু করে তিনি আজ জননেতার ভূমিকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিতর্কের মধ্যেও তিনি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ছাত্রনেতা থেকে জননেতা: মীর শাহে আলমের রাজনৈতিক পথচলা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৩২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বগুড়ার রাজনীতিতে ছাত্রজীবন থেকেই সক্রিয় ছিলেন মীর শাহে আলম। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি ছাত্রনেতা থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলা পর্যায়ের সংগঠক এবং পরে জাতীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন।

জন্ম, পরিবার ও শিক্ষা

মীর শাহে আলম ১৯৭০ সালের ৭ আগস্ট বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের বেতগাড়ি গ্রামের একটি মুসলিম মীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মীর মোজাফফর রহমান এবং মাতা মোছাঃ রাজেনা বেগম।

তিনি শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক (এসএসসি) এবং শিবগঞ্জ এম.এইচ. কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) সম্পন্ন করেন।

ছাত্ররাজনীতিতে পথচলা

১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মীর শাহে আলম। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। ১৯৯১ সালে শিবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯২ সালে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপির রাজনীতিতে নেতৃত্ব

ছাত্ররাজনীতি থেকে মূলধারার রাজনীতিতে এসে তিনি ধাপে ধাপে বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে শিবগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মনোনীত হন। ২০১০ সালে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং একই বছর বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

২০১৩ সালে তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০২২ সাল থেকে বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি।

জনপ্রতিনিধি হিসেবে যাত্রা

মাত্র ২৩ বছর বয়সে, ১৯৯৭ সালে তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৯ সালে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক পরিচিতিকে আরও বিস্তৃত করে।

রাজনৈতিক মামলা ও কারাবরণ

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলা দায়ের হয়। ২০২৩ সালে নাশকতার অভিযোগে একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

জাতীয় সংসদে অভিষেক

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে প্রথমে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম ঘোষণা করে। পরে ঋণখেলাপির কারণে তার মনোনয়ন বাতিল হলে বিএনপি মীর শাহে আলমকে দলীয় প্রার্থী মনোনীত করে।

নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান পান ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

ব্যবসায়িক পরিচয়

রাজনীতির পাশাপাশি মীর শাহে আলম একজন ব্যবসায়ী। তিনি রূপসী বিডি গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বার্থের সংঘাত এড়াতে পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে লিখিতভাবে সরে দাঁড়ান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

পারিবারিক জীবন

মীর শাহে আলমের স্ত্রীর নাম মীর লাবনী আক্তার। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন। তারা হলেন মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, মীর সাকলাইন আলম দিগন্ত এবং মীর সুনাত কায়ানাত।

রাজনৈতিক মূল্যায়ন

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ছাত্ররাজনীতি, দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, স্থানীয় সরকারে নেতৃত্ব এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে মীর শাহে আলম নিজের রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তুলেছেন। সমর্থকদের ভাষ্য, ছাত্রনেতা হিসেবে যাত্রা শুরু করে তিনি আজ জননেতার ভূমিকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিতর্কের মধ্যেও তিনি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।