ঈদের ছুটিতে দুই বনে গাছ উধাও, কাটা হলো শত শত বৃক্ষ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৭:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লায় ঈদের ছুটির সুযোগে দুই বনাঞ্চল থেকে শত শত গাছ কেটে উজাড় করার অভিযোগ উঠেছে। জেলার আদর্শ সদর উপজেলার জামবাড়ি বন ও বুড়িচং উপজেলার কালীকৃষ্ণনগর বনভূমির প্রায় ৩২৫ একর এলাকায় এই বৃক্ষ নিধনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি, মেশিনের সাহায্যে কেটে নেওয়া হয়েছে আকাশমণিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। এমনকি অনেক গাছ শিকড়সহ উপড়ে ফেলা হয়েছে।
কুমিল্লার সীমান্তবর্তী আমড়াতলী ইউনিয়নের ১৩৮ একরের জামবাড়ি বনভূমিতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে গাছ কাটার চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদের ছুটির সময়ে অটো করাত মেশিন ব্যবহার করে এসব গাছ কাটা হয়। কয়েক দফায় ট্রাকে করে গাছের গুঁড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান, গাছ কাটার বিষয়টি জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সহযোগিতার পরিবর্তে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুযায়ী, স্থানীয় উপকারভোগীদের সম্পৃক্ত করে বন রক্ষণাবেক্ষণের কথা থাকলেও উপকারভোগীদের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই গাছ কাটা হয়েছে।
জামবাড়ি বনের উপকারভোগী মো. খোরশেদ আলম অভিযোগ করেন, বন কর্মকর্তারা কয়েক দফায় গাছ কেটে নিয়ে গেলেও তাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ বা দরপত্রের বিষয়টি জানানো হয়নি।
অন্যদিকে বুড়িচংয়ের কালীকৃষ্ণনগর বনভূমিতেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঈদের বন্ধে কয়েকশ গাছ কেটে স’মিলে বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তারা প্রমাণ হিসেবে ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করেছেন বলে জানান।
স্থানীয় উপকারভোগী দুলাল মিয়া বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি নিয়ে বন কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করলে তিনি ক্ষমা চান। পরে এ বিষয়ে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীর মাসউদ বলেন, “যারা গাছ রক্ষা করবেন, তারাই যদি গাছ কাটেন তাহলে বন রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
কুমিল্লার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, কালীকৃষ্ণনগরে শতাধিক আকাশমণি গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে জামবাড়ি বনে গাছ কাটার বিষয়ে আদর্শ সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই, খোঁজ নিয়ে পরে জানাবেন।
অভিযোগের বিষয়ে কালীকৃষ্ণনগর বিট কর্মকর্তা মো. ইয়াজুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমে কথা বলতে নিষেধ রয়েছে জানিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।


















