খুলনায় ১৮ দিন ধরে খাবার খাচ্ছে না খানজাহান আলীর মাজারের কুমির
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দীঘির সেই কুমিরটি খুলনায় এসে ১৮ দিন ধরে খাবার না খেয়ে রয়েছে। নতুন পরিবেশে এসে পুরোপুরি খাবার বর্জন করেছে ঐতিহাসিক এই কুমির।
গত ১ জুন সন্ধ্যায় খানজাহান আলী মাজারের দীঘিতে ফাতেমা নামে এক শিশুকে কুমির টেনে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে মাজার কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের অনুরোধে ৩ জুন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সদস্যরা দীর্ঘ চেষ্টার পর কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনায় নিয়ে আসেন।
বর্তমানে কুমিরটি খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তবে সেখানে নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো খাবার গ্রহণ করেনি এটি।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল জানান, মানুষের নিরাপত্তা ও কুমিরের সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে মাজার কমিটি চাইলে কুমিরটি আবারও দীঘিতে ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
তিনি বলেন, কুমিরটি মাঝেমধ্যে দীঘি থেকে লোকালয়ে চলে আসত। এতে মানুষের ওপর হামলার ঝুঁকি তৈরি হতো। আবার ক্ষুব্ধ মানুষের হাতেও কুমিরটির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
ডিএফও জানান, মাজার কমিটি আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। অন্যথায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, মিঠা পানির এই কুমিরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ থেকে ৮ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি। বয়স প্রায় ৫০ বছর। অতিরিক্ত মোটা হওয়ায় কুমিরটির কিছু শারীরিক সমস্যাও রয়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সরীসৃপ প্রাণী হওয়ায় কুমির দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে পারে। তাকে খাবার হিসেবে মুরগি দেওয়া হয়েছে, এমনকি পানিতে হাঁসও দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু সে কোনো কিছুই খায়নি। মুরগি শিকার করে মেরে ফেললেও তা খায়নি কুমিরটি।
খাবার না খেলেও কুমিরটির পরিচর্যায় কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না। নিয়মিত পানি পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে শরীরে পানি স্প্রে করা হচ্ছে। বর্তমানে কুমিরটি খাঁচার গেটে গিয়ে ধাক্কা দিচ্ছে, যেন পরিচিত পরিবেশে ফিরে যেতে চাইছে।
উল্লেখ্য, খানজাহান আলী মাজারের দীঘিতে একসময় ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’ নামে দুটি বিখ্যাত কুমির ছিল। সেগুলো মারা যাওয়ার পর ভারতের মাদ্রাজ (চেন্নাই) থেকে কয়েকটি মিঠা পানির কুমির এনে দীঘিতে ছাড়া হয়। পরে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি কুমির মারা গেলে বেঁচে থাকা একমাত্র কুমিরটিই এখন খুলনায় রয়েছে।


















