সুন্দরবনে ফাঁদে আহত বাঘিনী সুস্থ, ফিরছে তার আবাসস্থলে
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৬:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল সংলগ্ন গহীন অরণ্যে হরিণ শিকারীদের পেতে রাখা ফাঁদে আটকে গুরুতর আহত হওয়া একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার সাড়ে পাঁচ মাসের চিকিৎসা শেষে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ফিরছে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে। বন বিভাগ জানিয়েছে, বাঘিনীটিকে গলায় স্যাটেলাইট কলার পরিয়ে পর্যবেক্ষণে রেখে শিগগিরই সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া হবে।
গোপন ফাঁদে আটকে গুরুতর আহত হয় বাঘিনী
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারি শরকির খাল এলাকায় হরিণ শিকারীদের পেতে রাখা ছিটকা ফাঁদে আটকে পড়ে প্রায় ১০ বছর বয়সী বাঘিনীটি। পরে ট্রাঙ্কুলাইজিং বন্দুক দিয়ে অচেতন করে উদ্ধার করা হলে দেখা যায়, তার সামনের বাঁ পায়ে গুরুতর ক্ষত হয়েছে এবং সেখানে সংক্রমণও দেখা দেয়।
পরে আহত অবস্থায় বাঘিনীটিকে খুলনার বয়রা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ডে দীর্ঘ চিকিৎসা
কেন্দ্রে পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে বাঘিনীটির চিকিৎসা চালানো হয়। নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক, ড্রেসিং ও নিবিড় পরিচর্যায় ধীরে ধীরে তার ক্ষত সেরে ওঠে। বন কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বাঘিনীটি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং শারীরিকভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
পর্যবেক্ষণে স্যাটেলাইট কলার
বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাঘিনীটির গতিবিধি ও শিকার সক্ষমতা পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন-এর সহায়তায় তার গলায় স্যাটেলাইট কলার পরানো হবে। নির্দিষ্ট সময় পর এই কলার স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে।
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, কলার হাতে পাওয়ার পর চলতি মাসের শেষ বা আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বাঘিনীটিকে পুনরায় তার আগের আবাসস্থল চাঁদপাই রেঞ্জের গভীর অরণ্যে অবমুক্ত করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এম এ আজিজ বলেন, বাঘিনীটি এখন শারীরিকভাবে সক্ষম এবং নিজে শিকার করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট কলার তার গতিবিধি ও আচরণ বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের বাঘ সাধারণত ১৪ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। সেই হিসেবে প্রায় ১০ বছর বয়সী এই বাঘিনীকে তার স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া যথাযথ সিদ্ধান্ত।


















