ইতালিতে প্রবাসী বাবার আত্মহত্যা, মরদেহ দেশে আনতে তিন মেয়ের আকুতি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:০৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের প্রবাসী জিন্নাত খান খোকনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ইউরোপে পাড়ি দেওয়া এই প্রবাসী ইতালিতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এখন তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়ে আকুতি জানিয়েছে তার তিন কন্যা সন্তান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সংসারের অভাব দূর করতে এবং তিন মেয়ের মুখে হাসি ফোটানোর আশা নিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দালালের মাধ্যমে প্রথমে বুলগেরিয়া যান জিন্নাত খান খোকন। পরে ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইতালি প্রবেশ করেন তিনি। বিদেশযাত্রার জন্য নিজের বসতভিটা বিক্রি ছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয় তাকে।
২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিদেশে গেলেও ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং ঋণের চাপ, অনিশ্চয়তা ও মানসিক দুশ্চিন্তায় তিনি ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে শুক্রবার ইতালিতে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে পরিবার নিশ্চিত করে।
নিহতের স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, “স্বামীকে বিদেশ পাঠাতে আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন মরদেহ দেশে আনার টাকাও আমাদের নেই। তিন সন্তান নিয়ে আমরা চরম অসহায় অবস্থায় আছি।”
নিহতের মামাতো ভাই শেখ তানভির হাসান জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। মরদেহ দেশে আনতে প্রায় ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন, যা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
নিহতের বড় মেয়ে জেরিন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি শুধু বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে চাই। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমার বাবার মরদেহ যেন দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।”
এদিকে নিহতের মা জরিনা বেগমও ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
পরিবার ও স্বজনরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মানবিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন, যাতে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।





















