ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ে করতে লাগবে ডিজিটাল জন্মসনদ

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২১:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিয়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে বিয়ে সম্পন্ন করতে ডিজিটাল জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, বয়স যাচাই এবং জাল তথ্য ব্যবহার রোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নতুন এই ব্যবস্থায় বিয়ের সময় বর-কনের সঠিক বয়স নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই কাগজপত্রে ভিন্নতা বা জাল তথ্য ব্যবহার করে কম বয়সে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। ডিজিটাল জন্মসনদ চালু হলে এসব অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, বিয়ের নিবন্ধনের সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের পাশাপাশি ডিজিটাল জন্মসনদ যাচাই বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। এতে অনলাইনে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ থাকায় ভুল বা জাল তথ্য শনাক্ত করা আরও সহজ হবে।

বিয়ের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন রেকর্ড বাধ্যতামূলক করতে Child Marriage Restraint Act 2017 সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বিধান কার্যকর হলে ম্যানুয়াল বা কাগজের জন্মসনদ দিয়ে আর বিয়ে নিবন্ধন করা যাবে না।

সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী Abu Zafar Mohammad Zahid Hossain এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, UNICEF এবং UNFPA-এর কারিগরি সহায়তায় আইনের সংশোধনী খসড়া প্রণয়নের কাজ চলছে। এর মাধ্যমে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে বয়স গোপনের সুযোগ বন্ধ করা হবে।

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, বিয়ে নিবন্ধনের সময় অনলাইনভিত্তিক বা ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক করা হবে। ফলে জাল জন্মসনদ তৈরি করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের বয়স বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা অনেকাংশে কমবে বলে আশা করছে সরকার।

সংসদে উত্থাপিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় এখনও বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার উদ্বেগজনক। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে জন্মনিবন্ধন জালিয়াতি এবং আইনি দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন ছাড়া বিয়ে সম্পন্ন হওয়ায় আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বাল্যবিবাহ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক হলে বয়স যাচাই আরও নির্ভুল হবে এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল সনদ ব্যবস্থা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করবে। একই সঙ্গে এটি সরকারি তথ্যভান্ডারকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নাগরিক সেবায় গতি আনবে।

তবে নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় ডিজিটাল সেবা গ্রহণের সক্ষমতা, তথ্য হালনাগাদ এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করাই হবে বড় বিষয়।

সব মিলিয়ে বিয়ে নিবন্ধন ব্যবস্থায় ডিজিটাল জন্মসনদ যুক্ত হলে এটি শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং সামাজিক সুরক্ষা ও নথিভিত্তিক স্বচ্ছতার দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিয়ে করতে লাগবে ডিজিটাল জন্মসনদ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২১:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

বিয়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে বিয়ে সম্পন্ন করতে ডিজিটাল জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, বয়স যাচাই এবং জাল তথ্য ব্যবহার রোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নতুন এই ব্যবস্থায় বিয়ের সময় বর-কনের সঠিক বয়স নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই কাগজপত্রে ভিন্নতা বা জাল তথ্য ব্যবহার করে কম বয়সে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। ডিজিটাল জন্মসনদ চালু হলে এসব অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, বিয়ের নিবন্ধনের সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের পাশাপাশি ডিজিটাল জন্মসনদ যাচাই বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। এতে অনলাইনে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ থাকায় ভুল বা জাল তথ্য শনাক্ত করা আরও সহজ হবে।

বিয়ের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন রেকর্ড বাধ্যতামূলক করতে Child Marriage Restraint Act 2017 সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বিধান কার্যকর হলে ম্যানুয়াল বা কাগজের জন্মসনদ দিয়ে আর বিয়ে নিবন্ধন করা যাবে না।

সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী Abu Zafar Mohammad Zahid Hossain এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, UNICEF এবং UNFPA-এর কারিগরি সহায়তায় আইনের সংশোধনী খসড়া প্রণয়নের কাজ চলছে। এর মাধ্যমে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে বয়স গোপনের সুযোগ বন্ধ করা হবে।

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, বিয়ে নিবন্ধনের সময় অনলাইনভিত্তিক বা ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক করা হবে। ফলে জাল জন্মসনদ তৈরি করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের বয়স বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা অনেকাংশে কমবে বলে আশা করছে সরকার।

সংসদে উত্থাপিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় এখনও বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার উদ্বেগজনক। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে জন্মনিবন্ধন জালিয়াতি এবং আইনি দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন ছাড়া বিয়ে সম্পন্ন হওয়ায় আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বাল্যবিবাহ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক হলে বয়স যাচাই আরও নির্ভুল হবে এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল সনদ ব্যবস্থা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করবে। একই সঙ্গে এটি সরকারি তথ্যভান্ডারকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নাগরিক সেবায় গতি আনবে।

তবে নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় ডিজিটাল সেবা গ্রহণের সক্ষমতা, তথ্য হালনাগাদ এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করাই হবে বড় বিষয়।

সব মিলিয়ে বিয়ে নিবন্ধন ব্যবস্থায় ডিজিটাল জন্মসনদ যুক্ত হলে এটি শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং সামাজিক সুরক্ষা ও নথিভিত্তিক স্বচ্ছতার দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।