৬০ বছর পর স্কুলে ফিরে আবেগে ভাসলেন মাহবুব হায়দার খান
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৩৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার শতবর্ষী অম্বিকাচরণ লাহা (এসি লাহা) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৬০ বছর পর ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মেজর জেনারেল (অব.) মাহবুব হায়দার খান। শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত সেই বিদ্যাপীঠে ফিরে তিনি যেন আবার ফিরে গেলেন ছাত্রজীবনের দিনগুলোতে।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন তিনি। এ সময় তার সফরসঙ্গী ছিলেন নেপাল সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর জেনারেল অশঙ্কা কাদামাত, বিশিষ্ট পাখি বিশেষজ্ঞ কাজী আহমেদ হোসাইন, তার ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা মানসির খান এবং দুই নাতি।
বিদ্যালয়ে পৌঁছালে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সহপাঠী বন্ধু এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ ও ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন এবং স্মৃতিচারণে মেতে ওঠেন সহপাঠী গিয়াসউদ্দিন তালুকদার, ডা. সুকুমার বিশ্বাস ও আব্দুল মান্নান হাওলাদারসহ পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে।
সহপাঠীরা জানান, ষাটের দশকে একসঙ্গে নদীতে সাঁতার কাটা, মাছ ধরা, ফুটবল খেলা ও নানা দুষ্টুমির অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে তাদের। ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হওয়ার পর মাহবুব হায়দার খান মোরেলগঞ্জ ছেড়ে গেলেও বন্ধুত্বের সেই বন্ধন অটুট ছিল।
অনুষ্ঠানে নেপালের সাবেক মেজর জেনারেল অশঙ্কা কাদামাত বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে মাহবুব হায়দার খানের সঙ্গে কাজ করার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি মাহবুব হায়দার খানের নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বেরও প্রশংসা করেন।
পরে বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক মনজুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সহপাঠী ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মেজর জেনারেল (অব.) মাহবুব হায়দার খান বলেন, “এই বিদ্যালয় শুধু আমার শিক্ষার ভিত্তি নয়, আমার চরিত্র গঠন ও জীবনবোধ তৈরির অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। ৬০ বছর পর এখানে ফিরে মনে হচ্ছে, আমি আবার শৈশবে ফিরে গেছি।”
বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি সততা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের আদর্শে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে জীবনের লক্ষ্য অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া তার বাবা মুনসুর আহমেদ খানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, নড়াইলে ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বাবা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং শহীদ হন। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা আজও তার মরদেহ খুঁজে পাননি। বাবার স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
অনুষ্ঠান শেষে মাহবুব হায়দার খান মোটরসাইকেলে করে মোরেলগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্মৃতিবিজড়িত স্থান ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।























