ঢাকা ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুয়া সনদে নিয়োগ: বেতন-ভাতা পাবেন না ৪৭১ শিক্ষক-কর্মচারী

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ৭৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাল ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ পাওয়া ৪৭১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধের নির্দেশনা দিতে যাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)-এর তদন্তে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর ভুয়া সনদধারী হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাউশিকে নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রেরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী তালিকাভুক্ত ৪৭১ জনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, শুধু বেতন-ভাতা বন্ধই নয়, এসব শিক্ষকের এমপিও বাতিল এবং চাকরির সময় নেওয়া বেতন-ভাতা ফেরত আদায়ের প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার খলাভাংগা মকবুল হোসেন উচ্চবিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষকের শিক্ষা-সংক্রান্ত একটি সনদ জাল হিসেবে চিহ্নিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে যাচাই করে দেখা গেছে, ওই শিক্ষকের সনদ জাল বা ভুয়া। এ কারণে সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা বাবদ নেওয়া তাঁর ৩৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ আদায়যোগ্য।

বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ হয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) পরীক্ষার মাধ্যমে। ডিআইএর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৪৭১ জনের মধ্যে ১৯৪ জনের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল। এ ছাড়া ২২৯ জনের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ ও ৪৮ জনের বিপিএড, বিএড, গ্রন্থাগার বা অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ভুয়া বা জাল।

শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা যাচাই-বাছাইয়ে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এমপিও খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিআইএর পরিচালক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, তারা ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেন। মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক চ্যানেলে ব্যবস্থা নেয়। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে তারা জেনেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভুয়া সনদে নিয়োগ: বেতন-ভাতা পাবেন না ৪৭১ শিক্ষক-কর্মচারী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

জাল ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ পাওয়া ৪৭১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধের নির্দেশনা দিতে যাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)-এর তদন্তে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর ভুয়া সনদধারী হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাউশিকে নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রেরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী তালিকাভুক্ত ৪৭১ জনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, শুধু বেতন-ভাতা বন্ধই নয়, এসব শিক্ষকের এমপিও বাতিল এবং চাকরির সময় নেওয়া বেতন-ভাতা ফেরত আদায়ের প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার খলাভাংগা মকবুল হোসেন উচ্চবিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষকের শিক্ষা-সংক্রান্ত একটি সনদ জাল হিসেবে চিহ্নিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে যাচাই করে দেখা গেছে, ওই শিক্ষকের সনদ জাল বা ভুয়া। এ কারণে সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা বাবদ নেওয়া তাঁর ৩৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ আদায়যোগ্য।

বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ হয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) পরীক্ষার মাধ্যমে। ডিআইএর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৪৭১ জনের মধ্যে ১৯৪ জনের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল। এ ছাড়া ২২৯ জনের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ ও ৪৮ জনের বিপিএড, বিএড, গ্রন্থাগার বা অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ভুয়া বা জাল।

শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা যাচাই-বাছাইয়ে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এমপিও খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিআইএর পরিচালক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, তারা ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেন। মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক চ্যানেলে ব্যবস্থা নেয়। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে তারা জেনেছেন।