ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুই বছর পর খুলনা-কলকাতা রুটে আবারও চালু হচ্ছে বন্ধন ট্রেন বিধবা স্ত্রী ও বিপত্নীক স্বামীকে আজীবন পারিবারিক পেনশন, বদলেছে পেনশনের হিসাব ন্যাম ভবন থেকে এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য বাড়াতে বিটুবি টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জাফর ইকবালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ডেঙ্গুর দাপট অব্যাহত, একদিনে ৬ মৃত্যু ও হাসপাতালে ১,৫৯৩ ভর্তি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন ৩৫ জন, সফরসঙ্গীদের তালিকায় যারা টাঙ্গাইলে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা ঝাড়ফুঁকের কথা বলে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, জামায়াতের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে ছাত্রদলের মোটরসাইকেল মহড়া

মধ্যবিত্তদের জীবনের অজানা লড়াই

জয়া রানী পাল
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৯:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫ ৪০৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যবিত্ত মানেই যেন এক অদৃশ্য স্থিরতার নাম । তাদের কাছে গরিবদের মতো না খেয়ে থাকার ভয় নেই , ধনীদের মতো বিলাসিতার স্বপ্নও নেই । তবু প্রতিটি পদক্ষেপে একটা না-জানা দুশ্চিন্তা , একটা অদৃশ্য লড়াই ।

মধ্যবিত্ত মানেই হলো বুকের মধ্যে জমা কষ্ট লুকিয়ে রাখা , হাসি মুখে সকল কষ্ট সহ্য করে সামনে এগিয়ে যাওয়া । বাংলাদেশে বেশিরভাগ মানুষ মধ্যবিত্ত । এখানে সকল মানুষ হলো খেটে খাওয়া , পরিশ্রমী । তাদের জীবিকা নির্বাহের পথটা হয় মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জন করা , তারা রক্তকে জল করে টাকা পয়সা উপার্জন করে । তাদের কে না বলা যায় ধনী , না বলা যায় গরীব । তাই তাদের কষ্ট গুলো কেউ হয়তো বুঝে না । অর্থনৈতিক মন্দা বা জীবনের অনিশ্চিয়তায় সবথেকে চাপে থাকে এই শ্রেণীটিই । এইসব মধ্যবিত্ত পরিবারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাবাই হলো জীবিকা নির্বাহের একমাত্র বাহন । বাবার স্বল্প আয়ের ওপরে যখন পুরো পরিবারের দায়ভার থাকে তখন ঐ বাবাই শুধু বুঝে তাদের অবস্থান ।

পরিবারের সদস্যদের সকল চাওয়া পাওয়া সুষ্ঠ ভাবে মিটাতে তিনি হিমশিম খেয়ে যান । এমনকি নিজের কথা না ভেবে নিজের ইচ্ছা , চাহিদা গুলো তিনি বিসর্জন দেন । ছেলে – মেয়েদেরকে ভালো স্কুলে পড়াতে গেলে মা – বাবাদের সুখ বিসর্জন দিতে হয় । কোনো একটা কিছু খরচ করতে গিয়ে তাদেরকে ভাবতে হয় এটা এই জায়গায় খরচ করলে পরবর্তীতে ছেলে মেয়ের টিউশন ফি দিতে পারবেন কি না । তাদের কষ্ট গুলো তাদের সন্তানদের কাছেও শেয়ার করে না যদি তারা কষ্ট পেয়ে তাদের স্বপ্নগুলো কে দাবিয়ে রাখে ।

একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যক্তি নিজের ইচ্ছামত সব কিছু করতে পারে না । তাকে ভাবতে হয় তার ব্যাংকের একাউন্টের দিকে । সে যখন একটা খরচ করতে যাবে তখনই মনে পরে তার সন্তানদের পরীক্ষার ফি , স্কুলের বেতন , সংসারের খরচের কথা । যখন সন্তান বাবার কাছে আবদার করে , তখন যদি বাবা সেই আবদার পূরণ করতে না পারে তখন তাঁর কষ্টের শেষ থাকে না । তাই এইসব মধ্যবিত্ত পরিবারে যেসব সন্তান বড় হয় তারা তাদের লক্ষ্যকে স্থির করেই বড় হয় । তারা সব সময় চেষ্টা চালায় যাতে তারা তাদের বাবা – মার জীবনের পূরণ না হওয়া স্বপ্নগুলো যেন পূরণ করতে পারে ।

এক মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে পড়ালেখায় ভীষণ আগ্রহী । শহরে গিয়ে পড়াশুনা করতে চায় । কিন্তু তার বাবার আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয় । তাই ছেলে কখনো তার এই ইচ্ছার কথা পরিবারকে জানায় না । তার বাবা যখন জানতে পারে তার ছেলের এই আশার কথা , তখন তিনি প্রাণপণ চেষ্টা করে যেভাবেই হোক তার ছেলের এই আশা পুরণ করতে হবে । তিনি ভাবেন , “আমি আমার ইচ্ছা গুলো পূরণ না করতে পারলেও আমার ছেলের ইচ্ছা গুলো অপূরণ থাকতে দিবো না ।”

মধ্যবিত্তদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাদের সামাজিক অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা । ফ্ল্যাটে থাকেন ? ভালো ব্র্যান্ডের ফোন ব্যবহার করেন ? মাঝে মাঝে পরিবার নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে যান‌? তাহলে তো আপনি স্বচ্ছল !—এমনটাই ভাবে সমাজ । কিন্তু এই অবস্থান ধরে রাখতে গিয়ে কি পরিমান হিমশিম খেতে হয় তা শুধু মধ্যবিত্তরাই বুঝে । পরিবারের ভরণপোষণ সামলিয়ে দুই দিন পর পর রেস্টুরেন্টে যাওয়া হয় না । ফোনের স্ক্রিন অকেজো হলে ” এটাই আরো কিছুদিন চলবে ” বলে চালিয়ে দেয় , তাও নতুন ফোন কেনার কথা ভাবে না ।

ছেলে – মেয়ের জন্মদিনে কেক কাটতে ইচ্ছা করে কিন্তু তখন মনে পড়ে মাসের বাজারের হিসাব ।

একজন ব্যবসায়ী ব্যক্তি ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকে এমনকি দোকানটার জন্যও তাকে ভাড়ার টাকা গুনতে হয় । তার সমাজে পদমর্যাদা ভালো অবস্থানে আছে কিন্তু বাস্তব জীবনে সে , যে কষ্ট করে সবদিক সামলাচ্ছে মানুষ তো আর সেটা জানে না । তিনি তার ২ সন্তানদের বাইরে রেখে পড়াশুনা করাচ্ছেন । তার আয়ের টাকা ছেলে মেয়েদের পড়াশুনায় দিতে হয় আবার সংসারে দিতে হয় । তার উপরে অসুস্থতার জন্য আলাদা টাকা জমা করে রাখতে হয় । এইসব ক্ষেত্রে যখন সব চাপ পরিবারের একজন ব্যক্তিকে বহন করতে হয় তখন তার পক্ষে সব কিছু একসাথে সামাল দেয়া মুশকিল হয়ে যায় । সমাজ ভাবে , “লোকটা বড়লোক না হলে সন্তানদের বাইরে খরচ দিয়ে পড়াচ্ছেন কিভাবে ? “

মধ্যবিত্তরা গরিবদের মতো সরকারি অনুদানও পায় না আবার বড়লোকদের মতো বিনিয়োগও করতে পারে না । তারা তাদের কষ্ট গুলো জনসম্মুখেও বলতে পারে না পদমর্যাদার ভয়ে ।

এই লড়াইটা আসলে শুধু টাকার নয় , মানসিক চাপেরও । মধ্যবিত্তের দুশ্চিন্তা শুরু হয় এখনকার চাহিদা মেটানোর পরেও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়ে । চাকরি থাকবে তো ? চিকিৎসার খরচ সামলাতে পারবো তো ? মেয়ের বিয়ে দিতে পারবো তো ? চাকরিতে কম টাকার স্যালারি তাকে বেশি করে ভাবায় তার ভবিষ্যতের কথা । সম্মানজনকভাবে উপযুক্ত পাত্রের হাতে তার মেয়েকে তুলে দিতে পারবে তো ? এই চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায় ।

এই অস্থিরতা থেকেই তারা সঞ্চয় করে , শখকে বিসর্জন দেয় , উৎসবে নিজেকে সংযত রাখে । তবু সুখের সংজ্ঞাটা সবসময় অধরা থেকে যায় ।

কিন্তু তবুও মধ্যবিত্তরা বেঁচে থাকে । তাদের লড়াই চলতে থাকে । কারণ , তারা জানে—তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো “এভাবেও চলে !

তবে কি সত্যিই চলে ? নাকি এই ‘চলতে থাকা’ মানেই বেঁচে থাকার আরেক নাম ?

লেখক : জয়া রানী পাল
শিক্ষার্থী , লোকপ্রশাসন বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মধ্যবিত্তদের জীবনের অজানা লড়াই

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৯:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫

মধ্যবিত্ত মানেই যেন এক অদৃশ্য স্থিরতার নাম । তাদের কাছে গরিবদের মতো না খেয়ে থাকার ভয় নেই , ধনীদের মতো বিলাসিতার স্বপ্নও নেই । তবু প্রতিটি পদক্ষেপে একটা না-জানা দুশ্চিন্তা , একটা অদৃশ্য লড়াই ।

মধ্যবিত্ত মানেই হলো বুকের মধ্যে জমা কষ্ট লুকিয়ে রাখা , হাসি মুখে সকল কষ্ট সহ্য করে সামনে এগিয়ে যাওয়া । বাংলাদেশে বেশিরভাগ মানুষ মধ্যবিত্ত । এখানে সকল মানুষ হলো খেটে খাওয়া , পরিশ্রমী । তাদের জীবিকা নির্বাহের পথটা হয় মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জন করা , তারা রক্তকে জল করে টাকা পয়সা উপার্জন করে । তাদের কে না বলা যায় ধনী , না বলা যায় গরীব । তাই তাদের কষ্ট গুলো কেউ হয়তো বুঝে না । অর্থনৈতিক মন্দা বা জীবনের অনিশ্চিয়তায় সবথেকে চাপে থাকে এই শ্রেণীটিই । এইসব মধ্যবিত্ত পরিবারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাবাই হলো জীবিকা নির্বাহের একমাত্র বাহন । বাবার স্বল্প আয়ের ওপরে যখন পুরো পরিবারের দায়ভার থাকে তখন ঐ বাবাই শুধু বুঝে তাদের অবস্থান ।

পরিবারের সদস্যদের সকল চাওয়া পাওয়া সুষ্ঠ ভাবে মিটাতে তিনি হিমশিম খেয়ে যান । এমনকি নিজের কথা না ভেবে নিজের ইচ্ছা , চাহিদা গুলো তিনি বিসর্জন দেন । ছেলে – মেয়েদেরকে ভালো স্কুলে পড়াতে গেলে মা – বাবাদের সুখ বিসর্জন দিতে হয় । কোনো একটা কিছু খরচ করতে গিয়ে তাদেরকে ভাবতে হয় এটা এই জায়গায় খরচ করলে পরবর্তীতে ছেলে মেয়ের টিউশন ফি দিতে পারবেন কি না । তাদের কষ্ট গুলো তাদের সন্তানদের কাছেও শেয়ার করে না যদি তারা কষ্ট পেয়ে তাদের স্বপ্নগুলো কে দাবিয়ে রাখে ।

একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যক্তি নিজের ইচ্ছামত সব কিছু করতে পারে না । তাকে ভাবতে হয় তার ব্যাংকের একাউন্টের দিকে । সে যখন একটা খরচ করতে যাবে তখনই মনে পরে তার সন্তানদের পরীক্ষার ফি , স্কুলের বেতন , সংসারের খরচের কথা । যখন সন্তান বাবার কাছে আবদার করে , তখন যদি বাবা সেই আবদার পূরণ করতে না পারে তখন তাঁর কষ্টের শেষ থাকে না । তাই এইসব মধ্যবিত্ত পরিবারে যেসব সন্তান বড় হয় তারা তাদের লক্ষ্যকে স্থির করেই বড় হয় । তারা সব সময় চেষ্টা চালায় যাতে তারা তাদের বাবা – মার জীবনের পূরণ না হওয়া স্বপ্নগুলো যেন পূরণ করতে পারে ।

এক মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে পড়ালেখায় ভীষণ আগ্রহী । শহরে গিয়ে পড়াশুনা করতে চায় । কিন্তু তার বাবার আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয় । তাই ছেলে কখনো তার এই ইচ্ছার কথা পরিবারকে জানায় না । তার বাবা যখন জানতে পারে তার ছেলের এই আশার কথা , তখন তিনি প্রাণপণ চেষ্টা করে যেভাবেই হোক তার ছেলের এই আশা পুরণ করতে হবে । তিনি ভাবেন , “আমি আমার ইচ্ছা গুলো পূরণ না করতে পারলেও আমার ছেলের ইচ্ছা গুলো অপূরণ থাকতে দিবো না ।”

মধ্যবিত্তদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাদের সামাজিক অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা । ফ্ল্যাটে থাকেন ? ভালো ব্র্যান্ডের ফোন ব্যবহার করেন ? মাঝে মাঝে পরিবার নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে যান‌? তাহলে তো আপনি স্বচ্ছল !—এমনটাই ভাবে সমাজ । কিন্তু এই অবস্থান ধরে রাখতে গিয়ে কি পরিমান হিমশিম খেতে হয় তা শুধু মধ্যবিত্তরাই বুঝে । পরিবারের ভরণপোষণ সামলিয়ে দুই দিন পর পর রেস্টুরেন্টে যাওয়া হয় না । ফোনের স্ক্রিন অকেজো হলে ” এটাই আরো কিছুদিন চলবে ” বলে চালিয়ে দেয় , তাও নতুন ফোন কেনার কথা ভাবে না ।

ছেলে – মেয়ের জন্মদিনে কেক কাটতে ইচ্ছা করে কিন্তু তখন মনে পড়ে মাসের বাজারের হিসাব ।

একজন ব্যবসায়ী ব্যক্তি ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকে এমনকি দোকানটার জন্যও তাকে ভাড়ার টাকা গুনতে হয় । তার সমাজে পদমর্যাদা ভালো অবস্থানে আছে কিন্তু বাস্তব জীবনে সে , যে কষ্ট করে সবদিক সামলাচ্ছে মানুষ তো আর সেটা জানে না । তিনি তার ২ সন্তানদের বাইরে রেখে পড়াশুনা করাচ্ছেন । তার আয়ের টাকা ছেলে মেয়েদের পড়াশুনায় দিতে হয় আবার সংসারে দিতে হয় । তার উপরে অসুস্থতার জন্য আলাদা টাকা জমা করে রাখতে হয় । এইসব ক্ষেত্রে যখন সব চাপ পরিবারের একজন ব্যক্তিকে বহন করতে হয় তখন তার পক্ষে সব কিছু একসাথে সামাল দেয়া মুশকিল হয়ে যায় । সমাজ ভাবে , “লোকটা বড়লোক না হলে সন্তানদের বাইরে খরচ দিয়ে পড়াচ্ছেন কিভাবে ? “

মধ্যবিত্তরা গরিবদের মতো সরকারি অনুদানও পায় না আবার বড়লোকদের মতো বিনিয়োগও করতে পারে না । তারা তাদের কষ্ট গুলো জনসম্মুখেও বলতে পারে না পদমর্যাদার ভয়ে ।

এই লড়াইটা আসলে শুধু টাকার নয় , মানসিক চাপেরও । মধ্যবিত্তের দুশ্চিন্তা শুরু হয় এখনকার চাহিদা মেটানোর পরেও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়ে । চাকরি থাকবে তো ? চিকিৎসার খরচ সামলাতে পারবো তো ? মেয়ের বিয়ে দিতে পারবো তো ? চাকরিতে কম টাকার স্যালারি তাকে বেশি করে ভাবায় তার ভবিষ্যতের কথা । সম্মানজনকভাবে উপযুক্ত পাত্রের হাতে তার মেয়েকে তুলে দিতে পারবে তো ? এই চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায় ।

এই অস্থিরতা থেকেই তারা সঞ্চয় করে , শখকে বিসর্জন দেয় , উৎসবে নিজেকে সংযত রাখে । তবু সুখের সংজ্ঞাটা সবসময় অধরা থেকে যায় ।

কিন্তু তবুও মধ্যবিত্তরা বেঁচে থাকে । তাদের লড়াই চলতে থাকে । কারণ , তারা জানে—তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো “এভাবেও চলে !

তবে কি সত্যিই চলে ? নাকি এই ‘চলতে থাকা’ মানেই বেঁচে থাকার আরেক নাম ?

লেখক : জয়া রানী পাল
শিক্ষার্থী , লোকপ্রশাসন বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা